৩০ মিনিট অপেক্ষা করেও দেখা হলো না ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে! বেদনায় ভাঙলেন মুমতাজ!

প্রবীণ অভিনেত্রী মুমতাজ এখনও সামলে উঠতে পারেননি ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণের খবর। একে একে হারিয়ে ফেলছেন নিজের সময়ের সহশিল্পীদের, আর সেই শূন্যতা তাঁকে ক্রমশ তাড়া করে বেড়াচ্ছে। কিন্তু এই শোকের পাশাপাশি আরেকটি ঘটনা তাঁকে বিশেষভাবে কষ্ট দিচ্ছে। ধর্মেন্দ্র হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েও পারেননি মুমতাজ। তিনি জানান, সেই সময় অভিনেতাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছিল, আর কারও প্রবেশাধিকার ছিল না।

মুমতাজ বলেন, তিনি হাসপাতালে পৌঁছে অর্ধেক ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলেন এই আশায় যে হয়তো দেখা করার অনুমতি মিলবে। কর্মীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ধর্মেন্দ্র পুরোপুরি পর্যবেক্ষণে ছিলেন এবং কাউকে দেখা করতে দেওয়া হবে না। মন খারাপ নিয়েই তাঁকে ফিরে আসতে হয়েছিল। তাঁর কথায়, “আমি চেয়েছিলাম অন্তত একবার তাঁর মুখটা দেখি। কিন্তু পারলাম না। অসম্পূর্ণ সেই ইচ্ছা আজও আমাকে কষ্ট দেয়।”

হেমা মালিনী প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুমতাজ আরও আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন। জানান, এই ক্ষতি হেমার জন্য যে কতটা গভীর তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। ধর্মেন্দ্রের প্রতি হেমাজির ভালবাসা এবং নিবেদন ছিল নিখাদ। ষাট ও সত্তরের দশকে মুমতাজ এবং ধর্মেন্দ্র একসঙ্গে ‘কাজল’, ‘আদমি অউর ইনসান’, ‘মেরে হামদাম মেরে দোস্ত’, ‘ঝিল কে উস পার’ এবং ‘লোফার’-এর মতো জনপ্রিয় ছবিতে কাজ করেছেন। সেই স্মৃতিগুলোই এখন বারবার ফিরিয়ে আনছে পুরোনো দিনগুলোকে।

এদিকে, দীর্ঘ নীরবতার পর হেমা মালিনীও সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বামীর মৃত্যু নিয়ে প্রথমবার কথা বলেন। তিনি লেখেন, ধর্মেন্দ্র ছিলেন তাঁর জীবনের অবলম্বন। শুধু স্বামী নয়, দুই মেয়ে এশা ও আহানার আদরের বাবা, তাঁর বন্ধু, পথপ্রদর্শক, সঙ্গী। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ যিনি নিজের সহজাত নম্রতা আর আন্তরিকতায় সবার মন জয় করেছিলেন। তাঁর প্রতিভা আর জনপ্রিয়তার পাশাপাশি এই স্বভাবই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল।

গত ২৪ নভেম্বর, ৯০তম জন্মদিনের কয়েকদিন আগেই চিরবিদায় নেন ধর্মেন্দ্র। কিছুদিন আগে মুম্বইয়ের ব্রেচ ক্যান্ডি হাসপাতাল থেকে তাঁকে বাড়িতে পাঠানো হয়েছিল সুস্থতার জন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিবার ও ইন্ডাস্ট্রির সামনে রেখে পৃথিবী ছাড়তে হলো তাঁকে। শ্মশানে উপস্থিত ছিলেন অমিতাভ বচ্চন, সালমান খান, আমির খান, শাহরুখ খান সহ আরও বহু শিল্পী। কিংবদন্তির বিদায়ে বলিউডে নেমে এসেছে গভীর শোক।