পর্দায় ইমরান হাশমী মানেই রহস্য আর তীব্র আবেগের চরিত্র। কিন্তু ক্যামেরার বাইরে তিনি একেবারেই সংসারকেন্দ্রিক একজন মানুষ। স্ত্রী এবং পুত্র আয়ানকে ঘিরেই তাঁর গোটা জগৎ। তবে সেই সুখের সংসার এক মুহূর্তে থমকে গিয়েছিল, যখন জানতে পারেন মাত্র চার বছরের ছেলের শরীরে বাসা বেঁধেছে ক্যানসারের মতো মারণ রোগ। অভিনেতার জীবনে সেই দিনটি আজও দগদগে স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে।
ইমরান এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, দিনটা শুরু হয়েছিল একেবারে সাধারণভাবে। পরিবারের সকলেই মিলে পিজা খাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময়েই আচমকা ছেলের মূত্রের সঙ্গে রক্ত বেরোতে দেখেন তিনি। আর এক মুহূর্ত দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতেই শোনা যায় ভয়ঙ্কর খবর। চিকিৎসক জানান, আয়ানের দ্রুত অস্ত্রোপচার দরকার কারণ তার ক্যানসার হয়েছে। মাত্র বারো ঘণ্টার মধ্যেই ইমরানের গোটা জীবন বদলে গিয়েছিল।
এর পর শুরু হয় টানা পাঁচ বছরের কঠিন লড়াই। একদিকে ছেলের চিকিৎসা অন্যদিকে নিজের ভেতরের ভাঙন সামলে এগিয়ে যেতে হয়েছে অভিনেতাকে। এই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন দ্য কিস অব লাইফ নামে একটি বই। সেখানে ইমরান খোলাখুলি লিখেছেন ছেলের অসুখের সময় নিজের মানসিক অবস্থা এবং জীবনের গভীর উপলব্ধির কথা। সন্তানকে এমন অবস্থায় দেখে কান্নায় ভেঙে পড়লেও তাঁর স্ত্রী সব সময় শক্ত হাতে তাঁকে আগলে রেখেছেন।
বইয়ে ইমরান লিখেছেন, নারী মানসিকভাবে পুরুষের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। স্ত্রীর ধৈর্য আর সাহসই তাঁকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছিল। যদিও অভিনেতা স্বীকার করেন, ওই পাঁচটা বছর প্রতিটা মুহূর্ত কেটেছে আতঙ্কে। কোনও নিশ্চিন্ত ঘুম ছিল না। কখন কী হবে এই ভয় নিয়েই বেঁচে থাকতে হয়েছে তাঁকে।
আরও পড়ুনঃ নাম বদলের পথে কৌশানি-কিয়ারা? পরিচয়ের বিভ্রান্তি থেকে কাজে বাধা! ভ্রম দূর করতে নাম বদলেছেন কারা?
আজ সেই দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে আয়ান সম্পূর্ণ ক্যানসারমুক্ত। ছেলে সুস্থ হয়ে ওঠায় আবার নতুন করে জীবনকে উপভোগ করছেন ইমরান হাশমী। তবে সেই কঠিন সময় তাঁকে আজীবনের জন্য বদলে দিয়েছে। জীবনের মূল্য, সম্পর্কের গুরুত্ব এবং মানসিক শক্তির আসল মানে তিনি বুঝেছেন এই লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই।





