‘বুট দিয়ে লাথি, সব টাকা আত্মসাৎ’ চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার গায়িকা

ভাবুন তো, দেশের এক নামী গায়িকা হঠাৎ প্রকাশ্যে জানালেন তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভয়ঙ্কর নির্যাতনের শিকার! সম্পর্কের শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতো। প্রেম, আংটি বদল, বিয়ের প্রস্তুতি—সবই প্রায় সেরে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সম্পর্কই নাকি পরিণত হল এক দুঃস্বপ্নে। অভিযোগ উঠেছে, তাঁকে নিঃস্ব করা হয়েছে, এমনকি বাড়ি থেকেও বের করে দেওয়া হয়েছে।

গায়িকার দাবি, হবু স্বামী হিসেবে পাশে দাঁড়ানো মানুষটি ছিলেন আইনজীবী। কিন্তু সম্পর্কের আড়ালে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিলেন শিল্পীকে। একাধিকবার মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ। এতটাই নির্মম ছিলেন যে বুট দিয়ে লাথি মারা পর্যন্ত হয়েছে। শিল্পীর কথায়, তিনি অসহায়ভাবে কাঁদতেন আর অনুরোধ করতেন থামার জন্য।

এই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন ভারতীয় সঙ্গীত জগতের পরিচিত মুখ সুচিত্রা। আলোচিত ‘সুচি লিকস’ বিতর্কে নাম উঠে আসার পর থেকেই তিনি নানা সময়ে শিরোনামে এসেছেন। এবার অভিযোগ তুলেছেন তাঁর হবু বর চেন্নাই হাইকোর্টের আইনজীবী শুনমুগরাজের বিরুদ্ধে। গায়িকার দাবি, তিনি শুধু মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনই করেননি, বরং তাঁর সব টাকা আত্মসাৎ করেছেন, বাড়ি দখল করেছেন এবং বিনা অনুমতিতে আধার কার্ডে তাঁর ঠিকানাও ব্যবহার করেছেন।

সুচিত্রা বলেন, “সুচি লিকস পর্বের পরে ভেবেছিলাম জীবনে আর খারাপ কিছু হবে না। কিন্তু প্রেমে পড়ে বুঝলাম আরও ভয়ঙ্কর কিছু আমার জন্য অপেক্ষা করছিল। আমাকে একাধিকবার মেরেছে, প্রতারণা করেছে, মিথ্যে পরিচয়ে বোকা বানিয়েছে। এখন আমি আদালতে যাচ্ছি। যতক্ষণ না আমার প্রতিটি টাকা ফেরত দিচ্ছে, ততক্ষণ আমি লড়াই চালিয়ে যাব।” আরও অভিযোগ, প্রেমিক নিজেকে ডিভোর্সি বললেও পরে জানতে পেরেছেন তাঁর প্রথম স্ত্রীর সঙ্গেই সম্পর্ক টিকে আছে। এমনকি সেই স্ত্রী এসে সুচিত্রাকে অনুরোধ করেছিলেন স্বামীকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য।

এখনও পর্যন্ত শুনমুগরাজ বা তাঁর আইনি প্রতিনিধি কেউই এই অভিযোগে মুখ খোলেননি। তবে জনপ্রিয় গায়িকার এই বিস্ফোরক বক্তব্যে সংগীত জগত এবং ভক্তমহল তোলপাড়। অনেকেই তাঁর পাশে দাঁড়াচ্ছেন, আবার অনেকে চূড়ান্ত সত্য সামনে আসার অপেক্ষায়। কিন্তু এতটুকু নিশ্চিত—যাঁর গান কোটি মানুষ শোনেন, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের এই অধ্যায় সকলকে অবাক করেছে।