বলিউডের (Bollywood) সুরের রানি অলকা ইয়াগনিকের (Alka Yagnik) কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ হয়েছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। ‘অ্যায় মেরে হামসফর’ থেকে শুরু করে ‘অগর তুম সাথ হো’ দশকের পর দশক ধরে তাঁর মিষ্টি গান শ্রোতাদের মনে দোলা দিয়েছে। কিন্তু সুরের জগতের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র আজ জীবনের এক কঠিন মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছেন, যেখানে তাঁকে লড়াই করতে হচ্ছে এক বড় শারীরিক প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে।
বিগত ২০২৪ সাল থেকে গানের জগৎ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন ৬০ বছর বয়সী এই বর্ষীয়ান গায়িকা। আসলে তিনি ‘সেনসোরিনিউরাল নার্ভ হেয়ারিং লস’ নামে শ্রবণ শক্তির এক বিরল ও মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এই জটিল অসুস্থতার কারণে তাঁর কান শোনার ক্ষমতা হারিয়েছে, যার ফলে বাধ্য হয়েই তাঁকে নিজের সবচেয়ে প্রিয় কাজ গান গাওয়া থেকে দূরে সরে যেতে হয়েছে। ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অমর সিং চমকিলা’ ছবির ‘নরম কালজা’ গানটিতেই শেষবারের মতো তাঁর কণ্ঠস্বর শুনেছিলেন শ্রোতারা।
অসুস্থতার কারণে প্রায় দু’বছর জনসমক্ষ এবং প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকার পর, সম্প্রতি অলকা ইয়াগনিককে দেখা গেল এক বিশেষ মঞ্চে। রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে দেশের অন্যতম সম্মানীয় ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি। মঞ্চে যাওয়ার আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রণামও করেন। কিন্তু এই গৌরবময় মুহূর্তেও অনুরাগীদের মন বিষণ্ণতায় ভরে ওঠে, কারণ পুরো সময়টাতে অলকাকে ধরে ধরে হাঁটিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন অন্য এক মহিলা। তাঁর এই দুর্বল শারীরিক অবস্থা দেখে ভক্তদের চোখে জল চলে আসে।
পুরস্কার পাওয়ার পর সমাজমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট করে অলকা নিজের এই কঠিন লড়াইয়ের কথা সকলের সাথে ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি জানান যে, গত দু’বছর ধরে তিনি এক চরম স্বাস্থ্যসংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং এই কারণেই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি আগের চেয়ে কিছুটা সুস্থ বোধ করলেও, শারীরিক সমস্যাগুলো এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তবে এই কঠিন সময়ে ভক্তদের ভালোবাসা ও প্রার্থনা তাঁকে প্রতিনিয়ত শক্তি জুগিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ বিচ্ছেদের জল্পনার মাঝেই মাঝরাতে বিশেষ ছবি! প্রেমের ইঙ্গিতে ফের চর্চার কেন্দ্রে বিজয়-তৃষা!
অলকা ইয়াগনিকের কাছে এই পদ্ম সম্মান গ্রহণ করা কেবল একটি পুরস্কার পাওয়ার চেয়েও অনেক বেশি আবেগপূর্ণ ছিল। তিনি লিখেছেন যে, এই মঞ্চে তিনি শুধু একটি ট্রফি নেননি, বরং অনুভব করেছেন সেই লক্ষ লক্ষ মানুষের ভালোবাসা, যাঁরা তাঁর জীবনের এই দীর্ঘ যাত্রাপথে পাশে থেকেছেন। অসুস্থতার অন্ধকার পেরিয়ে অলকার এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন এবং অদম্য লড়াইকে কুর্ণিশ জানাচ্ছেন তাঁর অগুনতি অনুরাগী।





