‘এরকম মুখ নিয়ে কেউ…’ ধর্মেন্দ্রকে হারিয়ে বারংবার বিতর্কের মুখে হেমা মালিনী! অভিনেত্রীর মুখভঙ্গি ঘিরে প্রশ্ন নেটিজেনদের!

প্রবীণ অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণের পর থেকেই বারবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসছেন হেমা মালিনী। দীর্ঘ দাম্পত্যের সঙ্গীকে হারিয়ে এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন অভিনেত্রী। ব্যক্তিগত শোক সামলানোর পাশাপাশি তাঁকে সামলাতে হচ্ছে জনসমক্ষে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনাও। জীবনের এই কঠিন সময়ে হেমা ধীরে ধীরে পুরনো ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছেন বলেই মনে করছেন অনেকে। তবে সম্প্রতি একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

কিছুদিন আগে একটি খেলার প্রতিযোগিতায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেমা মালিনী। সেই অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি। মেডেল পরিয়ে দেন অংশগ্রহণকারী শিশুদের গলায়। কিন্তু সেই মুহূর্তে অভিনেত্রীর মুখে কোনও হাসি না থাকায় দর্শকের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বহু মানুষ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারকারীরা হেমার মুখভঙ্গি লক্ষ্য করে নানা মন্তব্য করতে শুরু করেন। তাঁদের মতে, একটি আনন্দের মঞ্চে এমন গম্ভীর উপস্থিতি বেমানান।

ইতিমধ্যেই সেই অনুষ্ঠানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, অত্যন্ত দায়িত্বের সঙ্গে পুরস্কার প্রদান করছেন হেমা, কিন্তু তাঁর মুখে স্পষ্ট বিষণ্ণতার ছাপ। এই দৃশ্য দেখেই নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, এমন মুখ নিয়ে পুরস্কার দেওয়া উচিত কি না। কেউ কেউ আবার মন্তব্য করেছেন, শিশুদের মনে এতে কষ্ট লাগতে পারে। সমালোচনার সুর যতই তীব্র হোক, অনেকেই আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত শোকের কথাও।

এর আগে এক সাক্ষাৎকারে নিজের মানসিক অবস্থার কথা খোলাখুলি বলেছিলেন হেমা মালিনী। তিনি জানান, প্রায় সাতান্ন বছর একসঙ্গে কাটানোর পর ধর্মেন্দ্রকে ছাড়া এক মুহূর্ত কল্পনা করাও তাঁর পক্ষে অসম্ভব। এখনও সেই শোক তিনি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করলেও কিছু সময়ে ভেঙে পড়াই স্বাভাবিক বলে স্বীকার করেন অভিনেত্রী। মানুষের ধারণা অনুযায়ী তিনি মানসিকভাবে শক্ত হলেও বাস্তবে তিনিও একজন সাধারণ মানুষ।

তবে এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেননি হেমা মালিনী। সমালোচনা এবং সহানুভূতির মাঝামাঝি অবস্থানেই রয়েছেন তিনি। একদিকে দর্শকের প্রত্যাশা, অন্যদিকে ব্যক্তিগত শোক এই দুইয়ের টানাপোড়েনেই যেন এগিয়ে চলেছেন অভিনেত্রী। সময়ই বলবে, এই বিতর্ক কতদিন স্থায়ী হয় এবং দর্শক শেষ পর্যন্ত কোন দৃষ্টিতে দেখেন হেমা মালিনীর এই নীরব উপস্থিতিকে।