৮০’র দশকে বলিউডের অন্যতম সেরা নায়িকা ছিলেন জয়া প্রদা। সেই সময়ে জনপ্রিয়তা এবং পারিশ্রমিক—দুটোর শীর্ষেই ছিলেন তিনি। তবে পর্দার সাফল্যের আড়ালে তার ব্যক্তিগত জীবন ছিল অনেকটাই শূন্য। যা আজও অগণিত ভক্তের কাছে কৌতূহল আর দুঃখের গল্প হয়ে আছে।
খুব অল্প বয়সেই ইন্ডাস্ট্রিতে আসেন জয়া। মাত্র তিন মিনিটের একটি নাচের দৃশ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক। পারিশ্রমিকও পেয়েছিলেন মাত্র ১০ টাকা। সেখান থেকেই শুরু হয় তার উত্থান। একের পর এক তামিল, তেলেগু, কন্নড় ছবিতে সাফল্যের পর তিনি বলিউডে পা রাখেন। পাঁচটি ভিন্ন ভাষার প্রায় ৫০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করে তিনি নিজেকে প্রথম সারির নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। একসময় বলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রী ছিলেন তিনি।
কিন্তু ঠিক তখনই জীবনে আসে প্রযোজক শ্রীকান্ত নাহতা। তিনি ছিলেন বিবাহিত এবং তিন সন্তানের বাবা। তবুও শ্রীকান্তের প্রেমে পড়ে যান জয়া। সবকিছু জেনেও ১৯৮৬ সালে তাকে বিয়ে করেন তিনি। ভেবেছিলেন সংসার পাবেন, স্বামীর মর্যাদা পাবেন। কিন্তু বাস্তব ছিল একেবারেই উল্টো। শ্রীকান্ত কখনও প্রথম স্ত্রীকে ছাড়েননি, আবার জয়াপ্রদাকেও তার বাড়িতে জায়গা দেননি। ফলে জয়ার এই সম্পর্ক থেকে ভালোবাসা পেলেও বিয়ের স্বীকৃতি আর সম্মান কোনোটাই তিনি পাননি।
জয়ার সবচেয়ে বড় আক্ষেপ সন্তান না পাওয়া। তার ইচ্ছা থাকলেও শ্রীকান্ত নাকি সন্তান নিতে চাননি। শেষমেশ নিজের বোনের ছেলেকে দত্তক নিয়ে মাতৃত্বের ইচ্ছে পূরণ করেন তিনি। শোনা যায়, শ্রীকান্তের প্রথম স্ত্রীও দ্বিতীয় বিয়েতে আপত্তি করেননি। বরং শর্ত ছিল, স্বামী দু’জনকেই সমান সময় দেবেন। যদিও এই নিয়ে প্রকাশ্যে কখনও কিছু বলেননি কেউ।
আরও পড়ুনঃ উত্তমকুমারের নাতি হয়েও অর্থকষ্টে বড় হয়েছিলেন গৌরব চ্যাটার্জী, অভিনয় জগতেও করতে হয়েছে স্ট্রাগল! স্মৃতিচারণে অভিনেতা
এক সময় জয়া অভিনয় ছেড়ে রাজনীতির পথে হাঁটেন। আজও তিনি আছেন আলোচনায়, তবে ব্যক্তিগত জীবনের অপূর্ণতাগুলো থেকেই গেছে। ভালোবাসা পেলেও বিয়ের স্বীকৃতি আর স্বামীর প্রাপ্য মর্যাদা পাননি তিনি। আর সেই না পাওয়াই আজও তার জীবনের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ।





