‘মুহূর্তে রাগ, মুহূর্তে হাসি!’ কিশোরকুমারের অনিশ্চিত মেজাজে ভয়ে থাকতেন স্ত্রী লীনা? স্ত্রীর সাথে কেমন আচরণ করতেন অভিনেতা তথা গায়ক?

ভারতীয় সঙ্গীতের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র কিশোরকুমার। তাঁর গান মানেই এক অন্যরকম আনন্দ, এক আলাদা উন্মাদনা। কিন্তু এই উচ্ছ্বাসে ভরা মানুষটির ব্যক্তিজীবন ছিল অনেক জটিল, কখনও উষ্ণ, কখনও অস্থির। তাঁর চতুর্থ স্ত্রী, অভিনেত্রী লীনা চন্দভারকর এক পুরনো সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছিলেন সেই জটিলতার কিছু অংশ। সম্প্রতি কিশোরকুমারের মৃত্যুবার্ষিকীতে ফের ভাইরাল হয়েছে সেই সাক্ষাৎকার, যেখানে লীনা অকপটে জানিয়েছেন, স্বামীর হঠাৎ হঠাৎ মেজাজ বদলে যেত, আর সেই অনিশ্চয়তায় অনেক সময় ভয় পেতেন তিনি।

লীনার কথায়, “ওঁর আচরণ মুহূর্তে বদলে যেত। কখনও খুব সিরিয়াস, পরের মুহূর্তেই একেবারে শিশুর মতো আচরণ করতেন। কিসে রেগে যাবেন, কিসে হাসবেন— কিছুই বোঝা যেত না।” এই অদ্ভুত মেজাজের মানুষটির সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে কখনও কখনও ভয়ের মধ্যেই দিন কাটাতেন তিনি। একবারের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে বলেন, “একদিন আমি সাজঘরে ছিলাম, ‘পেয়ার অজনবি হ্যায়’-এর শুটের প্রস্তুতি নিচ্ছি। হঠাৎ উনি প্রশ্ন করলেন, আমি নাকি ওঁর সম্পর্কে গুজব শুনেছি কি না। আমি চুপ করে ছিলাম, কিন্তু উনি হঠাৎ মুখটা এমন করে ফেললেন যেন সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছেন। ওঁকে তখন মনে হচ্ছিল উন্মাদ! আমি ভয়ে কাঁপছিলাম।”

শেষ পর্যন্ত ভয় পেয়ে লীনা স্বীকার করেন যে, গুজব তিনিও শুনেছেন। তার পরেই হেসে ফেলেছিলেন কিশোর, বলেছিলেন, “আগেই বললে না কেন?” এই অদ্ভুত মেজাজ, রাগ থেকে হাসি, ভয় থেকে স্নেহ— সবকিছু মিলিয়ে যেন একটা চলন্ত নাটক ছিল কিশোরকুমারের জীবন। বাচ্চাদের নিয়ে ভূতের সিনেমা দেখা, মাঝরাতে অদ্ভুত কাণ্ড— সবই ছিল তাঁর রোজকার জীবনের অংশ।

তবে লীনা এটাও বলেন, বিয়ের পর অনেকটাই বদলে গিয়েছিলেন কিশোর। “আমাদের মধ্যে ঝগড়া হতো, যেমন সব দম্পতির হয়। কিন্তু আমার ভিতরে একটা ভয় কাজ করত, আমি ওঁর চতুর্থ স্ত্রী— পঞ্চম কেউ না আসে!” এই কথাতেই ধরা পড়ে লীনার নিরাপত্তাহীনতা। একবার রাগের মাথায় তিনি এমনকি ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার কথাও বলেছিলেন। কিশোর তখন ঠান্ডা মাথায় বলেন, “যাও, আর কখনও ফিরে এসো না।” লীনা সত্যিই ট্যাক্সি ধরতে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই কিশোরের বন্ধুরা এসে তাঁকে আটকান। মজা করে বলেন, “আপনার জন্যই তো এই আশ্চর্য মানুষটা এতটা বদলেছে!”

রুমা গুহঠাকুরতা, মধুবালা, যোগিতা বালির পর কিশোর জীবনের শেষ অধ্যায়ে বিয়ে করেন লীনাকে। আগের তিনটি বিয়ে ব্যর্থ হলেও, লীনার সঙ্গেই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছিলেন তিনি। ১৯৮৭ সালে কিশোরকুমারের প্রয়াণের সময় পাশে ছিলেন লীনা। জীবনের নানা ওঠাপড়ার মাঝেও এই জুটি একে অপরকে বুঝতে শিখেছিল। আজও কিশোরের গান যেমন জীবন্ত, তেমনই বেঁচে আছে তাঁর অদ্ভুত, প্রাণবন্ত অথচ রহস্যময় ব্যক্তিত্বের গল্পগুলো— যেখানে রাগ, ভালোবাসা, পাগলামি আর মমতা একসঙ্গে মিশে আছে।