রাহুল দেব বর্মণের জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করে একাধিক স্মৃতি ভাগ করে নিলেন গায়ক কুমার শানু। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই পঞ্চমদার গান শুনে বড় হয়েছেন। ‘তিসরি মঞ্জিল’-এর গান প্রথম শুনেই তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন। ধীরে ধীরে রাহুল দেব বর্মণ এবং শচীন দেব বর্মণের গানের একনিষ্ঠ শ্রোতা হয়ে ওঠেন তিনি। তাঁর মতে, পঞ্চমদার প্রতিটি গানেই থাকত নতুনত্ব এবং আলাদা ভাবনা।
কুমার শানু বলেন, মুম্বইয়ে হোটেলে গান গাওয়ার সময় নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে তিনি গান রেকর্ড করতেন। সেই সময় পঞ্চমদার গান গেয়ে একটি রেকর্ডও তৈরি করেছিলেন। বিভিন্ন স্টুডিয়োতে সেই রেকর্ড নিয়ে ঘোরার সময়ই প্রথম দেখা হয় রাহুল দেব বর্মণের সঙ্গে। বাঙালি বুঝতে পেরে পঞ্চমদা তাঁকে বাংলায় কথা বলেন এবং রেকর্ডিং দেখার জন্য পাশে বসতে বলেন।
এরপর থেকে প্রায়ই রেকর্ডিং স্টুডিয়োতে যেতেন কুমার শানু। সেখানে বসে তিনি গান তৈরির পুরো প্রক্রিয়া এবং বাদ্যযন্ত্রীদের কাজ কাছ থেকে দেখতেন। পঞ্চমদা তাঁকে সবকিছু দেখে শেখার পরামর্শ দিতেন। পরে একটি হিন্দি ছবিতে কয়েক লাইন গাওয়ার সুযোগও করে দেন তিনি। কুমার শানুর মতে, তাল, সুর এবং বাদ্যযন্ত্র নিয়ে নতুন পরীক্ষা করতে খুব ভালোবাসতেন রাহুল দেব বর্মণ।
শুধু সুরকার হিসেবেই নয়, মানুষ হিসেবেও পঞ্চমদা ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক। কুমার শানুর সঙ্গে তিনি বাংলায় কথা বলতে পছন্দ করতেন এবং বাঙালি খাবারের প্রতিও ছিল তাঁর বিশেষ টান। তিনি নিজে রান্না করে বন্ধু ও সহকর্মীদের খাওয়াতেন বলেও জানান গায়ক। বিশেষ করে পঞ্চমদার রান্না করা মটনের স্বাদ আজও তাঁর মনে রয়ে গেছে। সকলকে আপন করে নেওয়ার স্বভাবের জন্যই তিনি সবার কাছে আলাদা ছিলেন।
আরও পড়ুনঃ ‘দু’ঘণ্টায় গ্রেফতার সম্ভব হলে এতদিন অপেক্ষা কেন?’ তমান্না-কাণ্ডে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুললেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র!
কুমার শানু আরও বলেন, শিল্পীদের কণ্ঠ বুঝে গান বেছে দেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল পঞ্চমদার। ‘১৯৪২: আ লাভ স্টোরি’ ছবির ‘এক লড়কি কো দেখা তো অ্যায়সা লাগা’ গানের সময়ও তিনি বিশেষ নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই পরামর্শ মেনেই গানটি রেকর্ড করেছিলেন কুমার শানু। তাঁর আক্ষেপ, ছবির গানগুলির সাফল্য পঞ্চমদা নিজে দেখে যেতে পারেননি। আজও মঞ্চে সেই গান গাওয়ার সময় তিনি তাঁর প্রিয় সুরকারকে স্মরণ করেন।





