শুটিং সেটে মিঠুনকে অপমান! অপমানের যোগ্য জবাব দিলেন অভিনেতা! বিপাকে রাজকুমার!

বলিউডে (Bollywood) প্রায় চার দশক ধরে নিজের রাজত্ব চালিয়েছেন। চল্লিশ বছরে সত্তরটিরও বেশি হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন রাজকুমার (Raj Kumar)। তাকে বলা হতো বলিউডের প্রিন্স। অভিনয়, সংলাপ সব কিছুর জন্যই প্রশংসা কুড়োতেন রাজকুমার। রাজকুমার সত্যিই যেন হয়ে উঠেছিলেন বলিউডের ‘প্রিন্স’। কিন্তু তাঁকে ঘিরে সুখকর নয় অন্যান্য অভিনেতা, পরিচালকদের স্মৃতি।

তাকে সবসময় এড়িয়েই চলতেন অভিনেতা পরিচালকেরা। তার সাথে কথা বলার জন্য সাবধানতা বজায় রাখতেন। ১৯৮৯ সাল, বড় পর্দায় মুক্তি পেয়েছিল ‘গলিয়ো কা বাদশা’ ছবিটি। শের জং সিংহ পরিচালিত অ্যাকশন ঘরানার এই ছবিতে মুখ্যচরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রাজ কুমার। অভিনেত্রীর ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল হেমা মালিনী, স্মিতা পাটিল, পুণম ঢিলোঁর মতো তারকাদের।

ছবিতে অভিনয় করেছিলেন মিঠুনও। কিন্তু কোনও মুখ্যচরিত্রে নয়। যখন ছবির পরিচালক পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করার জন্য মিঠুনকে বেছে নিয়েছিলেন সেই সময় মিঠুন ইন্ডাস্ট্রিতে একেবারে নতুন। ইন্ডাস্ট্রিতে তার সেভাবে পরিচয় তৈরি হয়নি। তাই মিঠুনকে ছবিতে ওই চরিত্রে নেওয়ার জন্য বারণ করেছিলেন রাজ কুমার।

শুটিংয়ের প্রথম দিন নির্ধারিত সময়ের আগে সেটে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। কস্টিউম পরে তৈরি হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। সেই সময় সেটে উপস্থিত ছিলেন রাজকুমারও। শুটিং শুরু হওয়ার আগে ছবি নির্মাতাদের ডাকেন রাজকুমার। তিনি জিজ্ঞাসা করেন যে, ছোট চরিত্র হলেও কোনও বড় অভিনেতাকে সেই কাজ দেওয়া উচিত ছিল। মিঠুনের মতো এক জন উঠতি নায়ককে কেন সুযোগ দেওয়া হল— তাই ছিল রাজকুমারের প্রশ্ন।

এই ঘটনায় মিঠুন আঘাত পান। মিঠুন নিজের পরিচয় দিতেই তাঁকে দেখে হাসিতে ফেটে পড়েন রাজকুমার। মিঠুনকে তিনি বলেন, ‘‘তুমি কোথায় এসেছ, জানো? অভিনয় করা মুখের কথা নয়। বাচ্চাদের খেলার জিনিস নয় এটা।’’ রাজকুমারের উত্তর শুনে মিঠুন পাল্টা জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি জানি, অভিনয় করা সহজ কাজ নয়। সাত বছর ধরে আমি এই পেশায় রয়েছি। এক দিন আমি খুব বড় অভিনেতা হব।’’

কিন্তু তিনি পরে নিজের কথা রেখেছিলেন। প্রমাণ করে দিয়েছিলেন যে তিনি সত্যিই বড় তারকা। ১৯৮২ সালে ‘ডিস্কো ডান্সার’ ছবিতে অভিনয় করে রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন মিঠুন। তার পর তিনি বলিউডে বহু হিট ছবিতে কাজ করেছেন। এখন আর আলাদা করে মিঠুন চক্রবর্তীর পরিচয় দিতে হয় না।