রেখা যিনি কিনা তাঁর রূপের জাদুতে আজকালকার যুবকদেরও খুব অনায়াসে মাথা ঘুরিয়ে দিতে পারেন। রেখা বলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রীদের মধ্যে একজন। কিন্তু এই রেখা পেশাগত জীবনে যতটা সাফল্য অর্জন করেছেন ঠিক সমপরিমাণ যন্ত্রণাও পেয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে। বলিউডের সিলসিলা ছবিতে দেখতে পাওয়া যায় ত্রিপুল প্রেমের গল্প। ছবিতে ত্রিকোণ প্রেমের গল্প হলেও এ যেন এক বাস্তবেরই প্রতিচ্ছবি ঘটেছে রেখার জীবনে। এমনিতেই আজ অব্দিও রেখা ও অমিতাভ বচ্চনকে নিয়ে চলে নানা সম্পর্কের গুঞ্জন। অমিতাভ এবং জয়ার জীবনে তৃতীয় নারী রেখা। এমনকি শোনা যায় এই সুপারহিট সিনেমার স্ক্রিপ্ট জয়াকে শোনাতে গিয়েও অনেক কাঠখর পোড়াতে হয়েছিল পরিচালকে। ‘আমি জানতাম তুমি আমার জন্য ফিরে আসবে’ শুধুমাত্র এই লাইনের জন্য রাজি হয়েছিল জয়া।
সিলসিলা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলেও রেখার জীবনে নেমে এসেছিল ঘন কালো অন্ধকার। এসব যখন ঘটনা ঘটছিলো তখন ছিল ৬০-এর দশক। বি-টাউনে একে অপরের সখী হয়ে থাকত রেখা-জয়া, একে ওপরকে বোন মনে করতেন। অবিবাহিত থাকার সময় জয়া অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে রেখাকে আলাপ করে দিয়েছিলেন। রেখা অমিতাভ জুটির প্রথম ছবি ছিল ‘দো আনজন’। এই ছবির প্রমোশানে প্রেস মিটে রেখা বলেছিলেন, “জয়া দিদির বয়ফ্রেন্ড আর পরে বর হিসাবেই অমিতাভকে চিনতাম”। এরপর থেকেই একে একে সব সিনেমাতে সাফল্য লাভ করে হিট জুটির তকমা পেয়েছিল রেখা-অমিতাভ।
শোনা যায়, অমিতাভ রেখাকে কলকাতার অলিগলি ঘুরিয়েছিল এককালে। এইসবের মাঝে সম্পর্কের আরও কাছাকাছি আসে এই তারকা জুটি। এই সম্পর্কের গুঞ্জন রাতারাতি ছড়িয়ে পড়লো বলিউড জগতে। এই খবর পৌঁছে গেল জয়ার কানেও। ‘মিস্টার নটবর লাল’ সিনেমাতে সমস্ত গুঞ্জনকে সত্যি প্রমাণ করেদিলো এই জুটি। দর্শকেরাও ভীষণ পছন্দ করতে শুরু করলেও পরিচালক ও প্রযোজকরাও তাঁদের নিয়েই কাজ করতে শুরু করল।
এই থেকেই গুজব উঠলো তাঁরা গোপনে বিয়ে করে নিয়েছে। এইসব দেখে সহ্য করতে না পেরে একদিন জয়া থাপ্পড়ই মেরে দিল রেখাকে। এই ঘটনা ঘটেছিল ‘রাম বলরাম’ সিনেমার সময়। এই সময় থেকে জয়া তাঁদের অভিনীত সব সিনেমাতে বাধা দিতে শুরু করে। শোনা যায়, রেখা অমিতাভ যখন শুটিং স্পটে বসে একান্তে গল্প করছিলেন তখনই নিজেকে সামলাতে না পেরে কষিয়ে থাপ্পড় মেরেছিলেন রেখা।
এরপর ঋষি কাপুরের বিয়ের দিন সমস্ত সময় পার করে ফেলেছিলেন রেখা। রেখা, নীতু এবং ঋষি কাপুরের বিবাহ বাসরে হঠাতই মাথা ভর্তি সিঁদুর গলায় মঙ্গলসূত্র দিয়ে হাজির হয়েছিলেন অভিনেত্রী রেখা। পরে অবশ্য রেখা এই ভুল ভাঙিয়ে সকলকেই বলেছিলেন, শুটিংয়ের পথেই রেখা বিয়েবাড়ি গিয়েছিলেন, তাড়াহুড়োতে মেকআপ তোলা হয়নি। জয়া অভিনয় জীবনের চূড়ান্ত পর্যায় থাকাকালীনও বচ্চনের পাশে ছিলেন, কথাও রেখেছিলেন। কিন্তু, কথা রাখতে পারেনি অমিতাভ। একদিন জয়ার ডাকে রেখা তাঁর বাড়িতে গেছিলেন সেই সময়ই জয়া রেখাকে বলে ওঠে ‘যাইহোক না কেন তিনি অমিতজীকে ছাড়বেন না’।
আরও পড়ুনঃ “আমায় খেতে দেন তাহলে সাক্ষাৎকার দেবো!” এই চরম দারিদ্রতাকে হার মানিয়ে স্টারডামের চূড়ায় অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী!
এরপর থেকেই রেখার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় তিনি এতদিন ধরে মরীচিকার পিছনে ছুটেছেন। অমিতাভ কোনোদিনই রেখা কথা দেয়নি সংসার করার কিংবা সম্পর্কের স্বীকৃতিও পায়নি। এরপর, সম্পর্কের যাবতীয় কিছু ১৯৮১ সালের সিলসিলাতে শেষ করলেন রেখা নিজেই। এই সিনেমা করেই জয়া-অমিতাভের জীবন থেকে চুপিসারে সরে যান অভিনেত্রী রেখা। কাটল বচ্চন পরিবারের ওপর থেকে সরলো রেখার ছায়া। নার্গিস দত্ত রেখাকে দেখে বলেছিলেন “মাঝে মাঝে মনে হয় রেখা সহজলভ্য, আবার কেউ কেউ ওকে তো ডাইনি বলেও ডাকে”। এরপর মুকেশ আগারওয়াল-এর আত্মহত্যা রেখাকে ‘মানুষ খেকো’ বলেও তকমা দিয়ে দিল। গোটা দুনিয়ার চোখে এক মুহূর্তে ভিলেন হয়ে গেলেন রেখা।





