“তুমি কেন চলে গেলে? প্রতি রাতে কান্না পায়, তোমার মতো আমায় কেউ বোঝে না, এখনও তো আদর খেতে ইচ্ছে করে, তুমি জেগে আছো তো? আমি আসছি!” মা হারানোর শূন্যতায় ভেঙে পড়লেন ঋতুপর্ণা

ঋতুপর্ণা নিজের মাকে হারিয়েছেন কিছুদিন আগে। সেই শূন্যতার যন্ত্রণা যেন প্রতিদিন আরও গভীর হচ্ছে। বলছেন, “এখনও তো আমি এত বড় হইনি, মা… এখনও তোমার আদর খেতে ইচ্ছে করে। কতদিন তুমি বকোনি আমায়! ফোনের ওপারে যে অভিমানী মা ছিলেন, তিনি কোথায় হারিয়ে গেলেন?”

মায়ের চলে যাওয়াটা তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। চোখে জল আসে, প্রতি রাতেই কান্না পায়—কিন্তু কাউকে বোঝান না। মনে হয়, মা অভিমান করেই চলে গেছেন। মায়ের প্রিয় বারান্দা, সেখান থেকে দেখা যেত একফালি আকাশ—এখনও চোখে ভাসে।

চিঠিতে মায়ের সঙ্গে কথা বলতে বলতে তিনি হঠাৎ জানতে চান—“পরলোকে কেমন মা? রাস্তাগুলো কি সুন্দর? তোমার প্রিয় সমরেশ মজুমদার, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের বইগুলো খুঁজে পেয়েছ তো?” রাতের আকাশে তারা দেখলেই এখন মনে হয়, ওখানেই মা আছেন, আর তিনি খুঁজে বেড়ান সেই ঠিকানা, যেখানে নিজের চিঠি পৌঁছে দিতে পারবেন।

শৈশবের স্মৃতিও উঁকি দেয়—মায়ের সেই অভ্যাস, বাড়ির কার্নিশে পাখির বাসা দেখে ছানাগুলোর খবর নেওয়া। জীবনভর মা সব কষ্ট একা সামলেছেন, সন্তানদের আঁচ লাগতে দেননি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে একটাও কথা বলেননি। শেষে ঋতুপর্ণার সেই অশ্রুসিক্ত স্বীকারোক্তি—“আমি একদম ভাল নেই মা। তুমি জেগে আছো তো? আমি আসছি…” এটা শুধু খবর নয়—এ যেন এক খোলা ডায়েরির পাতা, যেখানে মেয়ে তার মাকে চিরকাল ধরে রাখতে চাইছে, অন্তত কথার মধ্যে হলেও।