এমএমএস কাণ্ড থেকে বিয়ের আগেই প্রেগন্যান্সির খবর, পরিবারের নাম ডুবিয়েছেন সুচিত্রা সেনের নাতনি রিয়া

টলিউডের গর্ব ছিলেন মহানায়িকা সুচিত্রা সেন। তিনি ছিলেন বাংলার প্রথম মহিলা সুপারস্টার, যার নাম আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারণ করেন দর্শকরা। তার কন্যা মুনমুন সেনও ছিলেন পরিচিত অভিনেত্রী, যিনি বিয়ের পর অভিনয় ছেড়ে সংসারে মন দেন। কিন্তু পরিবারের উত্তর প্রজন্ম, বিশেষ করে নাতনি রিয়া সেন, বারবার বিতর্কের কারণে শিরোনামে উঠে এসেছেন।

রিয়ার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ফাল্গুনী পাঠকের জনপ্রিয় মিউজিক ভিডিও “চুরি যো খনকি হাত মে” দিয়ে। সেই গান রাতারাতি তাকে আলোচনায় নিয়ে আসে। এরপর ছোট বেলায় ‘বিষ কন্যা’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। পরবর্তীতে ‘স্টাইল’, ‘ঝংকার বিটস’, ‘রাগিনী এমএমএস রিটার্নস’-এর মতো ছবিতে কাজ করলেও তার অভিনয়ের চেয়ে ব্যক্তিগত জীবন এবং গ্ল্যামার ঘিরে বেশি আলোচনা হয়।

বলিউড অভিনেতা অক্ষয় খান্নার সঙ্গে তার প্রথম দিকের সম্পর্কের কথা শোনা যায়। এরপর জন আব্রাহামের সঙ্গে নাম জড়ায়, যা বেশিদিন টেকেনি। পরে অভিনেত্রী আমিশা প্যাটেলের ভাই অসমিত প্যাটেলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান রিয়া। তখনই তার জীবনের সবচেয়ে বড় বিতর্ক সামনে আসে—অসমিতের সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত এমএমএস ভিডিও ফাঁস হয়। প্রায় ৯০ সেকেন্ডের সেই ভিডিও পুরো ইন্ডাস্ট্রিতে তোলপাড় ফেলে দেয়। রিয়া অবশ্য দাবি করেছিলেন ভিডিওটি ভুয়ো, কিন্তু ততদিনে তার ক্যারিয়ার বড় আঘাত পেয়েছিল।

এখানেই শেষ নয়। ক্রিকেটার যুবরাজ সিং এবং শ্রীশান্তের সঙ্গেও তার নাম জড়িয়েছিল। এমনকি লেখক সালমান রুশদির সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে গুজব ছড়ায়। সব কিছুর মধ্যে সবচেয়ে আলোড়ন তৈরি করেছিল ২০১৬ সালের খবর, যখন শোনা যায় রিয়া বিয়ের আগেই প্রেগন্যান্ট। এই দাবি নিয়ে বহু জলঘোলা হলেও তিনি কখনোই তা স্বীকার করেননি।

শেষমেশ অভিনেত্রী শিবম তিওয়ারিকে বিয়ে করেন রিয়া সেন। এখন তিনি পর্দায় খুব একটা সক্রিয় নন, বরং সোশ্যাল মিডিয়াতেই বেশি দেখা মেলে তার। অভিনয়ের চেয়ে বিতর্ক আর ব্যক্তিগত জীবনকেই ঘিরে বেশি পরিচিতি পেয়েছেন রিয়া, যার ফলে সুচিত্রা সেনের গড়া সম্মানিত নাম অনেকবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে।