টলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের জীবন অনেকটা সিনেমার মতোই। কুমিল্লায় জন্ম, ঢাকায় কিশোরীকাল, তারপর দেশভাগের দুঃসহ দিন পেরিয়ে কলকাতায় নতুন জীবন শুরু। সংসারের অভাব দূর করতে তাঁকে নামতে হয়েছিল সিনেমার জগতে। সেখান থেকেই ধাপে ধাপে তৈরি হয় এক কিংবদন্তির গল্প। সম্প্রতি Kolkata Youth Ensemble-এর ‘দশে এ দশ’ অনুষ্ঠানে তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হয় জি ডি বিড়লা সভাঘরে। সেখানেই সাবিত্রী শোনালেন তাঁর ছোটবেলার এক মজার ঘটনা, যা শুনে হাসিতে ফেটে পড়লেন সবাই।
নিজের জীবনের উত্থান–পতন ভুলে সবসময় প্রাণখোলা হাসি নিয়ে বাঁচতে ভালোবাসেন সাবিত্রী। তিনি বলেন, ছোটবেলায় তাঁর ইচ্ছে ছিল নেত্রী হওয়ার। ঢাকার রমনা উদ্যানে একবার বাবার সঙ্গে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে এক নেত্রী হাত-পা নেড়ে আবেগভরা বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। সেই দৃশ্য দেখেই ছোট্ট সাবিত্রী ঠিক করে ফেলেছিলেন, বড় হয়ে তিনিও নেত্রী হবেন। বাবাকে বাড়ি ফেরার পথে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘‘বাবা, কীভাবে নেত্রী হওয়া যায়?’’ বাবার উত্তর ছিল এড়িয়ে যাওয়ার মতো। কিন্তু মেয়ের মনে তখনই বীজ বোনা হয়ে গিয়েছিল।
এরপর ঘরে বসে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজে নিজেই বক্তৃতা দিতেন সাবিত্রী। কিন্তু মনে হচ্ছিল, এভাবে তো কেউ শুনছে না। তাই একদিন সত্যি সত্যি মাইক হাতে নেওয়ার অভিনয় শুরু করলেন। দুপুরে বাবা কাজে বেরিয়ে গেলে কলের গানের চোঙা নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন রাস্তায়। পাড়ার লোকজনের সামনে দাঁড়িয়ে গম্ভীর গলায় বলতেন, ‘‘চিন্তা করবেন না, আমি দলে যোগ দিয়েছি। আপনাদের খাওয়াব, পরাব, দেখব।’’ যেন তিনি সত্যিই জনতার সেবায় নেমেছেন।
তবে এই মজার কাণ্ড বেশিদিন টিকল না। তিন দিনের মাথায় পাড়ার মহিলারা একজোট হয়ে নালিশ নিয়ে পৌঁছে গেলেন তাঁর বাবার কাছে। অভিযোগ, দুপুরে তাঁর সেই চিৎকারে কেউ ঘুমোতে পারছে না। প্রশংসার আশায় বসে থাকা ছোট্ট সাবিত্রী পেলেন উল্টো ফল। বাবা রাগে এক থাপ্পড় মেরে প্রশ্ন করলেন, ‘‘তুই কে খাওয়াবি কাকে? আমি বাজার করি তবেই তো তুই খাস।’’ এভাবেই শেষ হলো তাঁর নেত্রী হওয়ার ইচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ “শুধুই স্বার্থের কথা ভাবে যাঁরা, তাঁদের জন্য ঘৃণা ছাড়া কিছু নেই! আমার হাতে যতটুকু ক্ষমতা আছে, লড়াই চালিয়ে যাব” আরজি কর কাণ্ডে প্রতিবাদীর কণ্ঠরোধ? প্রতিবাদীদের পাশে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক অপর্ণা সেন
সেই স্মৃতি মনে করে আজও হাসতে হাসতে সাবিত্রী বলেন, ‘‘হতে চাইলাম নেত্রী, হয়ে গেলাম অভিনেত্রী।’’ আর তারপরই সভাঘর ভরে উঠল হাততালিতে। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে কমেডি সাজিয়ে ফেললেন। এটাই তো সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের জাদু—যেখানে জীবনের কঠিন গল্পও পরিণত হয় মিষ্টি হাসির মুহূর্তে।





