মায়েরা সব পারে, যার প্রমাণ দিয়েছিলেন বাস্তব জীবনের সাগরিকা চক্রবর্তি! সেই সত্য ঘটনা অবলম্বনে প্রকাশ পেয়েছে “মিসেস চ্যাটার্জী ভারসেস নরওয়ে” ছবির প্রশাংসায় স্বয়ং কিং খান

বাস্তব ঘটনার আধারে তৈরি হয়েছে মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে সিনেমাটি। ভারতীয় অভিবাসী সাগরিকা চক্রবর্তী গল্প বলা হয়েছে এই ছবিতে। যে নিজের শিশুদের কাস্টডি পাওয়ার জন্য নরওয়ের সরকারের সঙ্গে লড়াই করতেও দ্বিধা করেনি। ২০১২ সালে সাগরিকা চক্রবর্তীর সঙ্গে ঘটা ঘটনা নিয়েই তৈরি হয়েছে মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে। ভারতীয় এক মহিলা কী ভাবে সব বাধা পেরিয়ে নিজের সন্তানদের কাস্টডি পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, সেটাই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সেলুলয়েডের পর্দায়। সাগরিকার ঘটনা ভারত এবং নরওয়ের সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলেছিল। সিনেমায় সাগরিকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন রানি মুখোপাধ্যায়। তাঁকে বাঙালি মহিলার বেশেই দেখা গিয়েছে এই সিনেমায়। তবে সাগরিকা নামটি ব্যবহার করা হয়নি ছবিতে। পরিবর্তে দেবিকা নামটি ব্যবহার করা হয়েছে।চিত্রনাট্য অনুযায়ী, দেবিকা নরওয়েতে থাকলেও, নিজের মধ্যে থাকা ভারতীয়কে মরে যেতে দিতে চায় না। নরওয়ের ঠাণ্ডা আবহাওয়াতেও সে শাড়ি পরতে ভালোবাসে। নিজের হাতে সন্তানদের খাইয়ে দিতে পছন্দ করে।

দেবিকার স্বামী চটজলদি নরওয়ের ভাষা এবং আদবকায়দা শিখে ফেলে। কিন্তু, ভারতীয় হিসেবেই নিজের পরিচিতি দিতে পছন্দ করে দেবিকা। বাংলায় কথা বলতে শুরু করে। ভারতীয় সংস্কৃতিকে বিদায় না জানানোর ফলে নরওয়ের চাইল্ডকেয়ার সার্ভিসের কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত অফিসারের নজর পড়ে তার উপর। হাত দিয়ে খাবার খাওয়া, বাচ্চাকে খাবার খাওয়ানো বা সন্তানের সঙ্গে ঘুমানোর মতো অভ্যাসগুলিকে বদভ্যাস বলে চিহ্নিত করে তারা। একটা পর্যায়ে বাচ্চাদের দেবিকার থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়। ফস্টার কেয়ারে চলে হয় তার সন্তানরা। এরপর দেবিকা নিজেকে সামলাতে পারে না। যেন তেন প্রকারেণ সন্তানদের ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করে সে। ভুল হয় এখানেই। জোর করে বাচ্চাদের ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করায় হিতে বিপরীত হয়। দেবিকা পণ নেয় বাচ্চাদের ফিরিয়ে সে আনবেই। একেবারে খড়গহস্ত হয়ে ওঠে দেবিকা। আর এই ব্যবহারেই আরও বড় সমস্যার সৃষ্টি হয়।

দেবিকা নিজের সন্তানদের ফিরে পাওয়ার জন্য অপহরণ করারও চেষ্টা করে। এরপর নরওয়ের প্রশাসন তার বিরুদ্ধে আরও কড়া হয়। এরপরেও লড়াই থামায় না দেবিকা। ভারত এবং নরওয়ের বিভিন্ন আদালতে শিশুদের কাস্টডি ফিরে পাওয়ার জন্য লড়াই করতে থাকে সে। একটা পর্যায়ে তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলে ঘোষণা করা হয়। অসীমা ছিব্বার পরিচালিত মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে সিনেমাটি সার্বিকভাবে ভালো। তবে ছবিটির জন্য আরও ভালো করে গবেষণা করা উচিত ছিল। শুধুমাত্র উইকিপিডিয়ার তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে এই সিনেমায়। রানি মুখোপাধ্যায় ছবিতে দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। তবে তাঁর মতো সিজনড অভিনেত্রীকে দিয়ে আরও অনেকটা অভিনয় করাতে পারতেন পরিচালক।

ফিল্মের কাহিনির বহু আগে বাস্তবের মাটিতে ঘটনাটি ঘটেছিল। কথা হচ্ছে, ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’ ফিল্মটি নিয়ে। যে ঘটনা অবলম্বনে ফিল্মের স্ক্রিপ্ট লেখা হয়েছে, তা বাস্তব জীবনে সাগরিকা চক্রবর্তি ও অনুরূপ ভট্টাচার্যের বাস্তব অভিজ্ঞতা। তাঁদের কাহিনি প্রথম এক বাংলা সংবাদমাধ্যম থেকে প্রকাশ্যে আসে। পর তা জাতীয় ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। সেই ঘটনা পরম্পরাকে কেন্দ্র করে এবার রানি মুখোপাধ্যায় অভিনীত ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’ ফিল্মটি নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন নরওয়ের রাষ্ট্রদূত। এক টুইটে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর মতামত তিনি ভারতৈের এক নামী সংবাদমাধ্যমের ‘ওপএড’ পেজে তুলে ধরেছেন। টুইটে তাঁর দাবি, ‘ছবিটিতে একেবারে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে নরওয়ের পারিবারিক ধ্যান ধারণা নিয়ে।’

এটি নিঃসন্দেহে একটি অসাধারণ সিনেমা। স্বয়ং বলিউড কিং শাহরুখ খান এই চলচ্চিত্রটি প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সম্প্রতি একটি টুইটে তিনি এই চলচ্চিত্রটি প্রশংসা করেন।