১. আরাধ্যা বচ্চন
ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন এবং অভিষেক বচ্চন এর মেয়ে হলো আরাধ্য বচ্চন। বর্তমানে আরাধ্যার বয়স ১১ বছর। মা হওয়া মানে সন্তানের জন্য পুরো জীবন উৎসর্গ করা। এটি একটি এমন ভূমিকা যার সঙ্গে অনেক দায়িত্বই জুড়ে রয়েছে। তবে, সব মাই কিন্তু এই দায়িত্ব ভালোবেসে পালন করেন। ঐশ্বর্য রাই বচ্চন এমন একজন মা যিনি চুটিয়ে মাতৃত্ব উপভোগ করেছেন। এতে কোনও সন্দেহ নেই যে, মা হওয়ার পর অধিকাংশ নারীই তাদের সন্তানকেই অগ্রাধিকার দেন। সন্তান হওয়ার পর, সব মা নিজের আগে তাঁর সন্তানের যত্ন নিতে ব্যস্ত থাকেন এবং যেখানেই যান তার সন্তানকে সঙ্গে করে নিয়ে যান। বাদ যান না সেলবরাও। এমনই একজন মা হলেন ঐশ্বর্য রাই বচ্চন। তাঁর কন্যা আরাধ্যা তাঁর নয়নের মণি। ঐশ্বর্য খুব ব্যস্ত এবং কাজের জন্য সারা বিশ্ব ভ্রমণ করেন। তাঁর মেয়ে আরাধ্যা প্রতিটি সফরেই তাঁর সঙ্গে থাকেন। মা এবং মেয়ে উভয়ইকেই একসঙ্গে দেখা যায়। এমনকি কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে যান।

২. জাহ্নবী কাপুর
জাহ্নবী কাপুর (জন্ম ১৬ মার্চ ১৯৯৭) হলেন একজন ভারতীয় বলিউড চলচ্চিত্রের উদীয়মান অভিনেত্রী। তিনি ভারতীয় অভিনেত্রী শ্রীদেবীর কন্যা। হিন্দি চলচ্চিত্র “ধড়ক” দিয়ে তার বলিউডে অভিষেক হয়। শ্রীদেবী ও বনি কাপুরের বড় মেয়ে জাহ্নবী কাপুর। বলিউডে পা রেখে নিজের অভিনয়গুণে জনপ্রিয় নায়িকার খেতাব ইতিমধ্যেই পেয়েছেন জাহ্নবী। বলিউডেই কেরিয়ার শুরু করবেন, সেটাই আগে থেকে ঠিক করে রেখেছিলেন জাহ্নবী ৷ তবে মায়ের ইচ্ছে ছিল, মেয়ে যেন ডাক্তার হোক ৷ মেয়ের স্বপ্নকেও হারতে দেননি শ্রীদেবী ৷ তাই নিজের হাতে জাহ্নবীকে তৈরি করছিলেন অভিনয়ের জন্য ৷ কোন ছবি দিয়ে জাহ্নবী শুরু করবেন বলিউড যাত্রা, সেটাও ঠিক করেছিলেন তিনি ৷ তবে মেয়ের প্রথম ছবি ‘ধড়ক’ মুক্তির আগেই চলে যান শ্রীদেবী ৷ মেয়েকে বড়পর্দায় দেখা হল না তাঁর ৷ খেদ রয়েছে জাহ্নবীরও ৷ মা-তো ছিল তাঁর সেরা বন্ধু ! ইতিমধ্যেই বলিউডে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন জাহ্নবী ৷ মুক্তি পেয়েছে ধড়ক, গুঞ্জন সাক্সেনা, হরর স্টোরি-র মতো ছবি ৷ প্রশংসিত হয়েছেন জাহ্নবী ৷ মুক্তি পেতে চলেছে ‘রুহি’ ৷ তবে এসবের মাঝখানে শ্রীদেবী মিস করছেন মিষ্টি নায়িকা ৷

৩. সামাইরা কাপুর
বলিউড (Bollywood) অভিনেত্রী করিশ্মা কাপুর (Krisma Kapoor) ছিলেন ৯০য়ের দশকে ইন্ডাস্ট্রির সেরা একজন অভিনেত্রী। রণধীর কাপুরের কন্যা বেশি দূর লেখাপড়া করেননি বটে কিন্তু অভিনয়ের দুনিয়াতে তিনি ছিলেন সবার সেরা। করিশ্মা কাপুর অভিনয়ের পাশাপাশি তার সৌন্দর্যের জন্যেও অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। করিশ্মা কাপুরের মেয়ে হলেন সামাইরা। করিশ্মা কাপুর বিয়ে করেছিলেন সঞ্জয় কাপুরকে। কিন্তু তাদের বিয়েটা খুব বেশিদিন টেঁকেনি। বিয়ের পর দুই সন্তানের জন্ম হতেই সঞ্জয়কে ছেড়ে চলে আসেন করিশ্মা। দুই সন্তানকে নিয়েই তিনি সঞ্জয়ের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। একা হাতে দুই সন্তানকে মানুষ করেছেন তিনি। তার মেয়ে সামাইরা সদ্য ১৮ বছর পার করে ফেলল। সামাইরা প্রধানত তার বোল্ডনেসের কারণে সব থেকে বেশি চর্চায় আসেন। তিনি তার বিভিন্ন ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করেন। ইনস্টাগ্রামে প্রচুর ফলোয়ার্স আছে তার। অনুরাগীরা তাকে এক ঝলক দেখার জন্য সোশ্যাল মিডিয়াতে অপেক্ষা করে থাকেন।

৪. নায়সা দেবগণ
নায়সা দেবগণ একজন স্টার কিড। তিনি বলিউড অভিনেতা অভিনেত্রী কাজল এবং অজয় দেবগনের কন্যা। তার বর্তমান বয়স 19 বছর। সমাজ অনেক কিছু শেখাতে চায়, তবে সে সব নিয়ম শুনে এবং মেনে মোটেই ‘ভাল মা’ বা ‘মন্দ মা’ হওয়া যায় না! মুম্বইয়ের এক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এমনই মন্তব্য করলেন অভিনেত্রী কাজল। সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন মাতৃত্ব বিষয়ে তাঁর মা অভিনেত্রী তনুজার দেওয়া কিছু উপদেশও। কাজল এমনই এক অভিনেত্রী যিনি বলি-জগতে সেই নব্বইয়ের দশক থেকে এখন পযর্ন্ত নিজের গুরুত্ব ধরে রেখেছেন সমান ভাবে। ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে’-এর সিমরন, ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’-র সেই অঞ্জলির পরিচয় পেরিয়ে সাম্প্রতিক ওয়েব সিরিজ ‘ত্রিভঙ্গ’-তে অনুরাধা নামক এক মায়ের ভূমিকায় তিনি। তা ঘিরেই কথা ওঠে অভিভাবকত্ব নিয়ে। অভিনেত্রী মনে করান, ‘ভাল মা’ হয়ে ওঠার চাপটা কখনওই কমতে চায় না মহিলাদের উপর থেকে।

সন্তানকে স্কুল থেকে নিতে না গেলে, তার জন্য নিজে হাতে টিফিন না বানালে মহিলাদের আর ‘ভাল মা’ হয়ে ওঠা হয় না। ফলে সমস্যা হল এই যে, খারাপ মা বানিয়ে দেওয়ার কারণের অভাব ঘটে না। এ দিকে, ভাল মা হয়ে ওঠার মতো উপলক্ষের বড়ই অভাব! ‘‘এ দিকে মেয়েদের উপরে সমাজের এক সাঙ্ঘাতিক চাপ থাকে ভাল মা হয়ে ওঠার জন্য,’’ বলেন অভিনেত্রী। চাকরিরতা মা এবং দিনভর বাড়িতে ব্যস্ত থাকা মায়েদের মধ্যে সামাজিক বিভাজন প্রসঙ্গেও কথা তোলেন কাজল। যে মায়েরা বাইরে কাজ করেন, তাঁরা কখনও কখনও গৃহবধূদের নিচু চোখে দেখেন বলে মনে করান অভিনেত্রী। আবার সেই চাকরিরতারাই চিন্তিত থাকেন নিজের সন্তানকে যথেষ্ট সময় দিতে পারছেন কি না, তা ভেবে। সে প্রসঙ্গ টেনেই কাজল বলেন, ‘‘যে মহিলারা বাড়িতেই থাকেন, দিনভর সন্তানের যত্ন নেন, তাঁদের আমি মুগ্ধ হয়ে দেখি। তাঁদের মতো ক্ষমতা সকলের থাকে না!’’





