দীর্ঘদিন ধরেই রুপোলি পর্দা থেকে খানিকটা দূরে রয়েছেন অভিনেতা বিবেক ওবেরয়। সেই অনুপস্থিতি ঘিরে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা। কেউ ভেবেছেন, মারাত্মক দুর্ঘটনার পর শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তিনি হয়তো অভিনয় জগৎ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। আবার কারও ধারণা ছিল, কঠিন চরিত্রে অভিনয় করার ক্ষমতা হারিয়েছেন বলেই ইন্ডাস্ট্রিতে আর দেখা যায় না তাঁকে। অবশেষে সেই সমস্ত গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা নিজেই।
সম্প্রতি একটি বিবৃতিতে বিবেক স্পষ্ট করে জানান, দুর্ঘটনার কারণেই তিনি বলিউড ছেড়ে দিয়েছেন এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। তাঁর কথায়, তাঁকে নিয়ে অনেক ভুল কথা ছড়ানো হয়েছে। তিনি বরাবরই চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করতে ভালোবাসেন এবং সেই আগ্রহ আজও অটুট। দুর্ঘটনার পর তিনি শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু কখনওই অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি। এই সময়টা তাঁর জীবনের অন্যতম কঠিন অধ্যায় ছিল বলে স্বীকার করেন অভিনেতা।
বিবেক জানান, সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তাঁর শরীরে একাধিক ফ্র্যাকচার হয়েছিল। অস্ত্রোপচার করে পায়ে বসাতে হয়েছিল প্রায় আঠারো ইঞ্চির টাইটানিয়াম রড। শারীরিক যন্ত্রণা তো ছিলই, তার সঙ্গে মানসিক চাপও কম ছিল না। দীর্ঘদিন বিছানায় শুয়ে থাকা, স্বাভাবিক হাঁটাচলা বন্ধ হয়ে যাওয়া সব মিলিয়ে ভীষণ কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল তাঁকে। তবুও সেই সময়েই নিজের ভিতরের জেদ আর মানসিক শক্তিকে নতুন করে চিনে নিয়েছিলেন অভিনেতা।
এই কঠিন লড়াইয়ে যাঁরা পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি বিবেক। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন ফিজিওথেরাপিস্ট ডক্টর অনিল ইরানি ও তাঁর টিমের কথা। তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টাতেই মাত্র তিন মাসের মধ্যে আবার হাঁটতে শুরু করতে পেরেছিলেন তিনি। ধীরে ধীরে শরীরের উপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে আসে এবং অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, গুরুতর চোটের পরেও তিনি আবার অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয় করার সাহস পান।
আরও পড়ুনঃ সময়ানুবর্তিতা আর পেশাদারিত্বের প্রতীক অমিতাভ বচ্চন! জুতোর জন্য গোয়া থেকে মুম্বই ছুটল বাস! কি ঘটেছিল সেইদিন?
পেছন ফিরে তাকালে বিবেক মনে করেন, সঠিক চিকিৎসা আর মানসিক দৃঢ়তাই তাঁকে আবার দাঁড় করিয়েছিল। সেই কারণেই দুর্ঘটনার পরেও তিনি ওমকারা, শুটআউট অ্যাট লোখান্ডওয়ালা, মিশন ইস্তাম্বুল, প্রিন্স, কৃষের মতো ছবিতে কঠিন চরিত্রে অভিনয় করতে পেরেছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০০৪ সালে যুবা ছবির শুটিং চলাকালীন সেই দুর্ঘটনার পর অজয় দেবগন ও অভিষেক বচ্চন তাঁকে হাসপাতালে পৌঁছে দেন। দীর্ঘ বিশ্রামের পর ফের কাজে ফিরে আসাই প্রমাণ করে, বিবেক ওবেরয় হার মানার মানুষ নন।





