ইন্দ্রপুরী স্টুডিওয় ফিরে আবেগঘন পরমব্রত! স্মৃতির দরজা খুললেন অভিনেতা তথা পরিচালক!

সম্প্রতি বঙ্গভূষণ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। অভিনেতা হিসেবে যেমন জনপ্রিয়, তেমনই পরিচালক হিসেবেও তাঁর সুনাম সুপ্রতিষ্ঠিত। সেই পরমব্রতই হঠাৎ ফিরে গেলেন স্মৃতির পথে। ইন্দ্রপুরী স্টুডিওর প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে ভাগ করে নিলেন জীবনের প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা কয়েকটি ছবির সঙ্গে তিনি লিখলেন, ১৯৯৯ সালের শেষ দিকে প্রথমবার এই স্টুডিওয় প্রবেশ করেছিলেন তিনি। শোয়ের নাম ছিল হাফ চকলেট। সেই দিনটির কথা আজও যেন স্পষ্ট মনে আছে তাঁর।

পরমব্রত জানালেন, তাঁর স্বপ্ন ছিল সিনেমা বানানোর, অভিনেতা হওয়ার কোনও আলাদা পরিকল্পনা ছিল না। হাফ চকলেট তাঁকে সুযোগ দিয়েছিল কিংবদন্তি অঞ্জন দত্ত এর সান্নিধ্যে কাজ শেখার। নব্বই দশকের এক তরুণের কাছে সেটি ছিল এক বিরল অভিজ্ঞতা। সিনেমা তৈরির প্রক্রিয়া কাছ থেকে দেখা, সেটের আবহে নিজেকে মিশিয়ে দেওয়া, সবকিছুই ছিল নতুন আর রোমাঞ্চকর। আয়ের আকর্ষণও ছিল কিছুটা, কিন্তু অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার কোনও স্থির পরিকল্পনা তখনও ছিল না তাঁর।

তবে সময়ের চাকা অন্য গল্প লিখেছিল। দেড় বছরের মধ্যেই নিয়মিত টেলিভিশন অভিনেতা হয়ে ওঠেন তিনি। মৈনাক উপাখ্যান, অন্তরালে, এক আকাশের নিচে, উৎসবের রাত্রি সহ একাধিক টেলিফিল্মের শুটিং হয়েছিল এই ইন্দ্রপুরী স্টুডিওতেই। প্রয়াত যীশু দাশগুপ্ত এর পরিচালনায় একটি দৈনিক ধারাবাহিকেও কাজ করেছিলেন তিনি। প্রায় পনেরো বছর পর আবার সেই স্টুডিওয় ফিরে গিয়ে আবেগে ভেসেছেন পরমব্রত। লিখেছেন, কিছু বিশেষ কাজের সূত্রেই এই ফেরা, যার কথা শিগগিরই জানানো হবে।

স্টুডিওর প্রতিটি কোণ যেন তাঁর কাছে স্মৃতির ভান্ডার। বহু পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রগ্রাহক, মেকআপ শিল্পী যাঁদের অনেকেই আর বেঁচে নেই, তাঁদের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন তিনি। ঐতিহাসিক মেকআপ রুমের বিষণ্ন বিকেল, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস সেরে শুটিং সেটে ছুটে যাওয়া, এই সবকিছু মিলেই গড়ে উঠেছিল তাঁর শিল্পীজীবনের ভিত। ইন্দ্রপুরীর মেঝে, আলো, বাতাস যেন আজও সেই দিনগুলোর সাক্ষী।

পঁচিশ বছরেরও বেশি সময় কেটে গেছে উত্থান পতন দুঃখ আনন্দ ব্যর্থতা আর সাফল্যের মধ্যে দিয়ে। বিরতি এসেছে, আবার প্রত্যাবর্তনও হয়েছে। পরমব্রত লিখেছেন, স্মৃতি সত্যিই সুখের, ঠিক যেমন লিখেছিলেন প্রতিভা বসু। সময়ের ক্যারোসেলে আমরা সবাই বন্দী, কখনও ওপরে উঠি, কখনও নীচে নামি। ইন্দ্রপুরী স্টুডিওয় দাঁড়িয়ে সেই দীর্ঘ পথচলার কথাই যেন নতুন করে অনুভব করলেন তিনি।