বলিউডের পরিচিত অভিনেত্রী এবং কৌতুকশিল্পী ক্রুষ্ণা অভিষেকের স্ত্রী কাশ্মীরা শাহ অভিনয়ের জগতে সাফল্য পেলেও, ব্যক্তিগত জীবনে মাতৃত্বের পথে তাঁর যাত্রা ছিল অত্যন্ত কঠিন। সলমন খানের সঙ্গেও একাধিক ছবিতে কাজ করেছেন তিনি, তবে আলো থেকে অনেক দূরে লড়াই করেছেন নিজের একান্ত স্বপ্ন—মা হওয়ার। ২০১৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গোপনে বিয়ে করেছিলেন ক্রুষ্ণাকে। তার পর থেকেই শুরু হয়েছিল অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার সংগ্রাম।
বিয়ের পর স্বাভাবিক উপায়ে গর্ভধারণের একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় চিকিৎসার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন কাশ্মীরা। বয়স এবং শারীরিক সমস্যার কারণে তাঁর পক্ষে সন্তান ধারণ কঠিন হয়ে উঠেছিল। এরপর শুরু হয় আইভিএফের দীর্ঘ এবং কষ্টদায়ক অধ্যায়। তিন বছর ধরে চলা এই লড়াইয়ে তিনি পরপর ১৪ বার গর্ভধারণের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থতা আসে। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, প্রতিটি প্রচেষ্টাই ছিল শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত ক্লান্তিকর—ওজন বৃদ্ধি, হরমোনের ওঠানামা, মেজাজের অবনতি—সব মিলিয়ে জীবন যেন থমকে গিয়েছিল।
আইভিএফ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ইনজেকশন তাঁকে আরও দুর্বল করে তুললেও তিনি লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন। চিকিৎসকেরা বারবার জানান, তাঁর শরীর ভেঙে পড়ছে, তবুও মাতৃত্বের স্বপ্ন ছাড়েননি অভিনেত্রী। নিজের পরিবর্তিত শারীরিক গঠন নিয়েও তিনি ভীষণ হতাশ ছিলেন। আকার ২৪ থেকে বেড়ে ৩৪—পরিবর্তনগুলো তাঁর আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা দেয়, তবে ইচ্ছাশক্তি নড়ে যায়নি। তিনি জানতেন, লড়াই না চালালে স্বপ্ন সত্যি হবে না।
এই কঠিন সময়ে সারোগেসির সিদ্ধান্ত নেওয়া তাঁর জীবনের অন্যতম বড় মোড়। কিন্তু এখানেও থেমে থাকেনি সমালোচনা। বহু মানুষ ভেবেছিলেন, ফিগার নষ্ট না করতে চেয়েই তিনি সারোগেসি বেছে নিয়েছেন। কাশ্মীরা সাফ জানিয়ে দেন, সত্যিটা সম্পূর্ণ উল্টো—আইভিএফের পর শরীর এমনিতেই ভেঙে পড়েছিল, সারোগেসি ছিল শেষ আশা, কোনও বিলাসিতা নয়। তিনি কখনও মাতৃত্ব বা নিজের স্বাস্থ্যকে অবহেলা করেননি।
আরও পড়ুনঃ শাহরুখ-কাজলকে সাক্ষী রেখে লন্ডনের রাস্তায় রাজ-সিমরন! ভারত ছেড়ে লন্ডনে কি করছেন নায়ক নায়িকা?
অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার পর সারোগেসির মাধ্যমেই কাশ্মীরা শাহের জীবনে আসে যমজ পুত্র। আজ তিনি গর্বিত মা, এবং তাঁর গল্প প্রতিটি দম্পতির কাছে এক অনুপ্রেরণা—চাই দৃঢ় মনোবল, বিশ্বাস আর কখনও হাল না ছাড়ার সাহস।





