এক মাস পেরিয়ে গেলেও মেলেনি বিচার! স্বামী রাহুলকে হারিয়ে প্রিয়াঙ্কার শোকস্তব্ধ বার্তা “সবচেয়ে কাছের বন্ধুকে হারিয়েছি”

এক মাসের দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে অবশেষে নিজের মনের কথা প্রকাশ করলেন প্রিয়াঙ্কা সরকার। স্বামী রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জির আকস্মিক মৃত্যুর পর এতদিন নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন তিনি। প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য না করলেও, অন্তরে যে গভীর ঝড় বইছিল তা যেন এবার শব্দ খুঁজে পেল। আবেগঘন কণ্ঠে প্রিয়াঙ্কা বলেন, “আমি আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধুকে হারিয়েছি”, এই একটি বাক্যেই যেন ধরা পড়ে তাঁর অসীম শূন্যতা ও বেদনা।

গত মাসে শুটিংয়ের কাজে শহরের বাইরে গিয়ে সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু হয় রাহুলের। এই মর্মান্তিক ঘটনা মুহূর্তে স্তব্ধ করে দেয় গোটা টলিপাড়াকে। শুধু বিনোদন জগত নয়, এই শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মনেও। এক সুখী পরিবারে এমন আকস্মিক বিপর্যয় যেন সকলকেই নাড়া দেয়। রাহুলের মৃত্যু শুধুমাত্র একজন অভিনেতার প্রয়াণ নয়, বরং একটি পরিবারের ভিত কেঁপে ওঠার গল্প।

এই কঠিন সময়ে বহুবার জনসমক্ষে দেখা গেলেও, একেবারেই নীরব ছিলেন প্রিয়াঙ্কা। কখনও শ্মশান, কখনও থানার পথে ছোট ছেলে সহজকে পাশে নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকেছেন তিনি। কিন্তু কোনও কথা বলেননি। সেই নীরবতাই যেন বলে দিচ্ছিল তাঁর ভেতরের গভীর যন্ত্রণা। প্রকাশ্যে শক্ত থাকলেও, অন্তরে চলছিল এক ভয়ংকর লড়াই, যা শব্দে প্রকাশ করা প্রায় অসম্ভব।

তবে শুধু নিজের শোকেই ডুবে থাকেননি তিনি। ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবিতে ইন্ডাস্ট্রির অন্যান্য শিল্পীদের একত্রিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। ব্যক্তিগত ক্ষত সামলেও ধীরে ধীরে কাজে ফেরার চেষ্টা করছেন তিনি। এই লড়াই শুধু একজন স্ত্রীর নয়, বরং একজন সাহসী মানুষের, যিনি দুঃখের মাঝেও ন্যায়বিচারের জন্য দাঁড়াতে জানেন।

২৯ এপ্রিল, দুর্ঘটনার এক মাস পূর্তিতে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি প্রিয়াঙ্কা। স্মৃতির ভারে ভেঙে পড়ে জানান, রাহুল তাঁর কাছে শুধু জীবনসঙ্গী ছিলেন না, ছিলেন সবচেয়ে ভরসার জায়গা। তাঁর এই শূন্যতা কখনও পূরণ হওয়ার নয়, তা স্পষ্ট তাঁর প্রতিটি কথায়। এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়, জীবন কতটা অনিশ্চিত, আর প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রণা কতটা গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী।