প্রিমিয়ারে মেট্রো সফর! নস্টালজিয়ায় ভাসলেন প্রোমোটার বৌদি! আমজনতার মধ্যে থেকে কোন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়?

গ্ল্যামারের চেনা ছক ভেঙে এক অভিনব সিদ্ধান্ত নিলেন প্রোমোটার বৌদির নামভূমিকায় অভিনয় করা নায়িকা। ছবির স্পেশাল স্ক্রিনিংয়ে যাওয়ার জন্য যেখানে সাধারণত তারকারা বিলাসবহুল গাড়িকেই বেছে নেন, সেখানে তিনি সোজা টালিগঞ্জ থেকে মেট্রো ধরলেন। গন্তব্য এসপ্ল্যানেড, আর শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত গ্লোব সিনেমা হল। টিমের অনেকেই তাঁকে নিরস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। ভিড়, অসুবিধা, নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক যুক্তি তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু শাড়ি, গয়না আর জমকালো সাজে সজ্জিত হয়েও তিনি অনড় ছিলেন। তাঁর কাছে এই সফর ছিল শুধু প্রিমিয়ারে যোগ দেওয়া নয়, বরং ছোটবেলার আবেগকে ছুঁয়ে দেখা।

গ্লোব সিনেমা হলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গভীর নস্টালজিয়ার। মায়ের হাত ধরে প্রথম ইংরেজি ছবি দেখতে যাওয়া, বাসে চড়ে হল পর্যন্ত পৌঁছনো, পরে মেট্রো করে বিশাল ক্যানভাসের সিনেমা উপভোগ করা—সবই এই প্রেক্ষাগৃহকে ঘিরে। বেনহুর কিংবা টেন কম্যান্ডমেন্টসের মতো ছবি বড় পর্দায় দেখার সেই অভিজ্ঞতা আজও তাঁর মনে অমলিন। অভিনেত্রীর কথায়, কলকাতায় হয়তো রোজ মেট্রো ওঠা হয় না, কিন্তু লন্ডন বা আমেরিকায় গেলেও তিনি গণপরিবহনকেই অগ্রাধিকার দেন। তাই নিজের ছবির বিশেষ প্রদর্শনীতে মেট্রো করে যাওয়াটা যেন তাঁর কাছে এক আবেগঘন প্রত্যাবর্তন।

টালিগঞ্জ থেকে মেট্রো সফর, তারপর এসপ্ল্যানেডে নেমে জনস্রোতের মধ্যে দিয়ে হাঁটা—সবটাই উপভোগ করেছেন তিনি। নিউ মার্কেটের ভিড়, চেনা রাস্তার গন্ধ, মানুষের কোলাহল যেন তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছে কিশোরী বয়সে। স্ক্রিনিংয়ের আগে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে শিকাঞ্জি পান আর ফালুদা দেওয়া কুলফি খেয়ে নিয়েছেন তৃপ্তি করে। এই সরল আনন্দেই যেন লুকিয়ে ছিল তাঁর আসল উচ্ছ্বাস। তারকাখ্যাতির বাইরে সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে যাওয়ার এই মুহূর্তগুলো তাঁকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছিল।

সচরাচর তাঁকে প্রিমিয়ারে দেখা যায় না। তবে পরিচালক সৌর্য দেব ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানানোয় তিনি না বলতে পারেননি। তবে যাওয়ার ধরনটা যে আলাদা হবে, তা আগেই ঠিক করেছিলেন। তাঁর এই পদক্ষেপ সহকর্মীদের অবাক করলেও শেষ পর্যন্ত অনেকেই মুগ্ধ হয়েছেন। কারণ, তিনি প্রমাণ করলেন যে তারকা পরিচয়ের আড়ালেও একজন মানুষের শিকড় থাকে, থাকে স্মৃতির টান।

ব্যক্তিগত জীবন আর পেশার মধ্যে এমন সহজ সমন্বয়ই তাঁকে আলাদা করে চেনায়। শেষমেশ দর্শকদের উদ্দেশে তাঁর হাসিমাখা বার্তা, প্রোমোটার বৌদি চলছে নিকটবর্তী সিনেমা হলে, ছুটির দিনে সময় করে দেখে ফেলুন। তাঁর এই আহ্বানের মধ্যেও যেন মিশে আছে সেই মেট্রো সফরের উচ্ছ্বাস আর ছোটবেলার গ্লোব প্রেক্ষাগৃহের আবেগ।