সারপ্রাইজ দিতে গিয়ে নিজেই চমকে গেলেন প্রীতি! বাবার কাছে সব খবর ফাঁ’স করে দিল ছোট্ট আইরা!

বিবাহবার্ষিকী মানেই একটু বিশেষ আয়োজন, একটু আলাদা করে সময় কাটানো। সেই ভাবনাতেই স্বামী রাহুলকে চমকে দিতে বড়সড় সারপ্রাইজ পরিকল্পনা করেছিলেন প্রীতি। ঘর সাজানো থেকে শুরু করে কেক অর্ডার সবই তৈরি ছিল নিখুঁতভাবে। আলো নিভিয়ে, মধ্যরাতের অপেক্ষা করে, চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। কিন্তু কে জানত, সবচেয়ে ছোট সদস্যই এমনভাবে সব পরিকল্পনা ভেস্তে দেবে! মুহূর্তের মধ্যে সারপ্রাইজের রোমাঞ্চ বদলে গেল হাসি আর মিষ্টি অবাক হওয়ার গল্পে।

এই সময় রাহুল ভীষণ ব্যস্ত তাঁর নতুন ধারাবাহিক জ়ি বাংলার সাত পাকে বাঁধা নিয়ে। কাজের চাপে ১০ ফেব্রুয়ারির বিবাহবার্ষিকী সেভাবে উদযাপন করা সম্ভব হয়নি তাঁদের। তাই রাত বারোটার পরেই প্রীতি ঠিক করেছিলেন বিশেষভাবে দিনটা উদযাপন করবেন। সব প্রস্তুতি শেষ করে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। ঠিক তখনই রাহুল ঘরে ঢুকলেন কোলে তাঁদের ছোট্ট মেয়ে আইরাকে নিয়ে। আর সেখানেই ঘটে গেল সেই অপ্রত্যাশিত ঘটনা।

রাহুলের কথায়, মেয়ে তাঁকে আগেই বলে দেয় কেক কোথায় রাখা আছে। ছোট্ট আইরা সরল মনে বাবাকে দেখিয়ে দেয় সারপ্রাইজের সব আয়োজন। মুহূর্তেই ফাঁস হয়ে যায় পুরো পরিকল্পনা। প্রীতির তখন মাথায় হাত। এত যত্ন করে সাজানো চমক এক নিমেষে শেষ! মজা করেই তিনি বলেন, সারপ্রাইজ দেওয়ার আগেই মেয়েই উল্টে তাঁকেই চমকে দিল। তবে সেই অপ্রস্তুত মুহূর্তেই তৈরি হয় এক অন্যরকম আনন্দের স্মৃতি।

এর পর আর আলাদা করে কিছু ভাবেননি দু’জনে। একসঙ্গে কেক কেটে উদযাপন করেন তাঁদের বিশেষ দিন। বাবার কোলে বসে পুরো অনুষ্ঠানটাই উপভোগ করছিল ছোট্ট আইরা। প্রীতির মা আর দাদা পাঠিয়েছিলেন রাহুলের প্রিয় কেক। তবে কেক কাটার দায়িত্ব অন্য কাউকে দিতে নারাজ আইরা। বাবা মায়ের আগেই সে নিজেই কেক কাটার আনন্দে মেতে ওঠে। ছোট্ট হাতেই যেন উৎসবের সব দায়িত্ব তুলে নিয়েছিল সে।

অপ্রত্যাশিত এই ছোট্ট ঘটনায় নষ্ট হয়নি আনন্দ, বরং আরও মধুর হয়ে উঠেছে তাঁদের বিবাহবার্ষিকীর স্মৃতি। সারপ্রাইজ ভেস্তে গেলেও ভালোবাসার মুহূর্ত থেমে থাকেনি। পরিবার মানেই এমন ছোট ছোট চমক, হাসি আর আবেগের মিলন। প্রীতি আর রাহুলের এই উদযাপন তাই নিখুঁত পরিকল্পনার জন্য নয়, বরং ছোট্ট মেয়ের সরলতায় ভরা এক উষ্ণ পারিবারিক মুহূর্ত হিসেবেই মনে থাকবে সবার কাছে।