‘কাদা কাদা’ ভিডিও থেকে শুরু করে মহাকুম্ভে নাইটি পরে স্নান কিংবা বিদেশের সমুদ্র সৈকত ও ঐতিহাসিক স্থাপনায় রিল বানানো— স্যান্ডি সাহা মানেই বাঙালি নেটদুনিয়ায় চরম বিনোদন আর লাগাতার বিতর্ক। কখনও ফুকেতের নীল জলরাশি, কখনও থাইল্যান্ডের চিড়িয়াখানা, আবার কখনও লন্ডন ব্রিজ বা চিনের পাঁচিল— তাঁর কনটেন্ট বরাবরই নজর কাড়ে। অনেকের চোখে তিনি কেবলই ভাইরাল মুখ, কিন্তু এই রঙিন দৃশ্যের আড়ালে রয়েছে এক চতুর ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও ডিজিটাল সাফল্যের গল্প।
স্যান্ডি সাহার আয়ের প্রধান ভিত্তি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম। ইউটিউবে কয়েক লক্ষ সাবস্ক্রাইবার এবং ফেসবুকে মিলিয়নের কাছাকাছি ফলোয়ার তাঁকে বিজ্ঞাপন বাজারে বড় জায়গা করে দিয়েছে। ভিডিও ভিউ এবং বিজ্ঞাপন থেকে প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের টাকা আসে তাঁর ঘরে। পাশাপাশি বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ডের প্রচার ও কোলাবরেশনের জন্য তিনি মোটা পারিশ্রমিক নেন। সোশ্যাল মিডিয়াকে পেশা হিসেবে ব্যবহার করে কীভাবে ধারাবাহিক আয় গড়া যায়, তার বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছেন স্যান্ডি।
কয়েক মাস আগে বাংলাদেশের এক ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের আয় নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন স্যান্ডি সাহা। তিনি নির্দিষ্ট অঙ্ক না বললেও জানান যে কোনও মাসে দেড় লাখ আবার কোনও মাসে আট লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হয়েছে। এক সময় এমন পরিস্থিতিও ছিল যখন ফেসবুক থেকে তাঁর মাসিক আয় চারটি আইফোনের দামের সমান হতো। বর্তমানে আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সের দাম শুরু হচ্ছে এক লাখ ঊনপঞ্চাশ হাজার টাকা থেকে, যা তাঁর আয়ের পরিসর আন্দাজ করতে সাহায্য করে।
সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরেও স্যান্ডির উপার্জনের রাস্তা খোলা। জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো এমটিভি রোডিজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বাংলা ধারাবাহিকে অভিনয় ও সঞ্চালনার কাজ তাঁর পরিচিতি বাড়িয়েছে। বসন্ত বিলাপ মেসবাড়ির মতো ধারাবাহিকে কাজ করে ছোট পর্দার দর্শকদের কাছেও তিনি পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। এই কাজগুলো তাঁর আয়ের ঝুলিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে এবং তাঁকে একমাত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের গণ্ডির বাইরে নিয়ে গেছে।
আরও পড়ুনঃ সৌমিতৃষার নামের অর্থ ঘিরে প্রশ্ন! সোশ্যাল মিডিয়ায় পরমার পোস্টে শুরু বিতর্ক!
তবে জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে বিতর্কও স্যান্ডি সাহার নিত্যসঙ্গী। কখনও রাস্তায় নাচ করে আইনি নোটিশ, আবার কখনও পোশাক নিয়ে সাইবার অভিযোগ— সব কিছুই তাঁকে ঘিরে আলোচনায় রেখেছে। সমালোচকদের মতে, তিনি জানেন কীভাবে নেতিবাচক আলোচনাকেও নিজের পক্ষে কাজে লাগাতে হয়। এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে আজ বাংলার অন্যতম পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর হয়ে ওঠা তাঁর কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং ডিজিটাল মার্কেটিং বুদ্ধিরই ফল।





