সরস্বতীপুজোর নস্টালজিয়া আর অম্বরীশের আক্ষেপ! বাঙালির ভ্যালেন্টাইন্স ডে কি হারিয়ে যাচ্ছে? কি বললেন অভিনেতা?

সরস্বতীপুজো মানেই এক সময় বাঙালি তরুণদের কাছে ছিল আলাদা উত্তেজনা আর রোম্যান্টিক অনুভূতির দিন। স্কুলে স্কুলে প্রস্তুতি নেমন্তন্ন আর সেই বিশেষ দিনে মেয়েদের স্কুলে প্রবেশের ছাড়পত্র ছেলেদের জন্য যেন উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল। বাসন্তী রঙে সেজে ওঠা স্কুল প্রাঙ্গণ আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সারাদিন কাটানোর স্মৃতি আজ অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে সেই সরস্বতীপুজোর আবেগ ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে বলেই মনে করেন অভিনেতা অম্বরীশ ভট্টাচার্য।

সরস্বতীপুজো নিয়ে প্রশ্ন করতেই অম্বরীশ ভাগ করে নিলেন তাঁর ছোটবেলার একরাশ আক্ষেপ। ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ছাত্র হওয়ায় সেখানে সরস্বতীপুজো নিয়ে বিশেষ কোনও আয়োজন ছিল না। তাঁর কথায় স্কুলে যাওয়া আর বাসন্তী রঙা শাড়িতে মেয়েদের দেখা ছাড়া সেই দিনের আলাদা কোনও উন্মাদনা তিনি পাননি। সেই অভাবটাই আজও মনে রয়ে গেছে। অন্য স্কুলের বন্ধুদের গল্প শুনে তিনি বুঝতেন কতটা আলাদা আনন্দ হতে পারে এই দিনটি।

তবে স্কুলের পুজোর আনন্দ না পেলেও পাড়ার সরস্বতীপুজোর সঙ্গে তাঁর গভীর যোগ ছিল। বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে পাড়ার পুজো সামলানো আর তারপর দল বেঁধে ঘুরতে বেরোনো ছিল দিনের সেরা অংশ। অম্বরীশ মজার স্মৃতিচারণা করে বলেন এমনও হয়েছে পুজোর দিন বাসন্তী শাড়িতে কাউকে দেখে মন কেমন করা ভাল লাগা জন্মেছে কিন্তু পরের দিন সেই অনুভূতি আর তেমন থাকেনি। এমন অভিজ্ঞতা কম বেশি প্রায় সকলের জীবনেই এসেছে বলে মনে করেন তিনি।

অম্বরীশের মতে এখনকার সরস্বতীপুজো আগের মতো আর কাটে না। সামাজিক মাধ্যম আর বদলে যাওয়া জীবনযাত্রার কারণে সেই সরল উচ্ছ্বাস হারিয়ে যাচ্ছে। আগে যেখানে পুজো মানেই ছিল বন্ধুদের সঙ্গে দেখা আড্ডা আর সারাদিনের আনন্দ এখন সেখানে সবটাই অনেকটা নিয়মরক্ষার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আজ সরস্বতীপুজো নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তাঁর কণ্ঠে উঠে আসে নস্টালজিয়া আর হালকা মনখারাপ।

উল্লেখ্য এই মুহূর্তে ছোট পর্দায় বেশ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন অম্বরীশ ভট্টাচার্য। চিরসখা এবং ভোলে বাবা পার করেগা ধারাবাহিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্রে তাঁকে দেখছে দর্শক। দুই বিপরীত স্বভাবের চরিত্রেই তাঁর অভিনয় নজর কাড়ছে। পর্দার বাইরের এই সরল স্মৃতিচারণা আর বাস্তব অনুভূতিই তাঁকে দর্শকের আরও কাছের মানুষ করে তুলেছে।