দক্ষিণ কলকাতার শান্ত পাড়ায় দরজা খুলতেই যেন অন্য এক জগৎ। শ্বেতশুভ্র সাজানো ঘর, যত্নে রাখা আসবাব, আর দেওয়াল জুড়ে রুপোলি পর্দার স্মৃতি। সেই ফ্রেমবন্দি ছবিতে আজও উজ্জ্বল নায়িকা শতাব্দী রায়। কিন্তু ঘরের আর এক কোণে বইয়ের তাক জানিয়ে দেয়, এই বাড়ির গৃহকর্ত্রী শুধু অভিনেত্রী নন, তিনি কবিও। লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ডেপুটি লিডার হিসেবেও ব্যস্ত তাঁর দিনযাপন। তবু পোষ্য অসুস্থ হলে কোলে তুলে আদর করেন, সংসারের প্রতিটি জিনিস নিজে হাতে বেছে নেন। রাজনীতি, সিনেমা, সংসার সব কিছুর মাঝেও শিল্পীমনটুকু আগলে রাখাই যেন তাঁর নীরব সাধনা।
কাজের চাপ কম নয়। কখনও দিল্লি, কখনও বীরভূম, সভা সমাবেশ আর সাংসদীয় দায়িত্বে দৌড় লেগেই থাকে। তার মধ্যেই মাঝেমধ্যে লিখে ফেলেন কবিতা। ইতিমধ্যেই তাঁর বারোটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে, প্রথম বই প্রকাশিত হয়েছিল নব্বইয়ের দশকে, যখন তিনি বাংলা ছবির প্রথম সারির নায়িকা। অনেকেই অবাক হয়েছিলেন সেই সময়ে। এখন ব্যস্ততা বেড়েছে, নিজের জন্য সময় কমেছে, ফলে কবিতাও অপেক্ষায় থাকে। তবু থেমে যাননি তিনি। আসন্ন একক কবিতাপাঠের অনুষ্ঠানে নিজের লেখা নিজেই পাঠ করবেন মঞ্চে দাঁড়িয়ে, বহুদিন পর কবি সত্তাকে সামনে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রাজ্যের নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ব্যস্ততা চরমে। তবু তিনি স্পষ্ট জানালেন, শিল্পের সঙ্গে যুক্ত না থাকলে তাঁর মন খারাপ হয়। সময় বের করা কঠিন, কিন্তু ইচ্ছে থাকলে পথ মেলে। অভিনয়ের প্রসঙ্গ উঠতেই বলেন, তিনি যতটা নেত্রী, ততটাই অভিনেত্রীও। সিনেমার জগৎ তাঁকে বড় করেছে, রাজনীতি দিয়েছে অন্য পরিচয়। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে ছবির বাজার। এখন আর শুধু অভিনয় করলেই হয় না, ছবিকে চালানোর ভাবনাও ভাবতে হয়। সমাজমাধ্যমের যুগে তারকাদের আলাদা আকর্ষণ ধরে রাখা কঠিন, মনে করেন তিনি।
একসময় ম্যাটিনি শো ভরিয়ে রাখা এই তারকা মনে করেন, এখন দর্শকের রুচি ও বাজারের নিয়ম বদলে গেছে। আগে তারকাদের দেখতে হলে প্রেক্ষাগৃহে যেতে হত, এখন সমাজমাধ্যমেই সবাই সহজলভ্য। ফলে ছবি হিট করানো বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলা ছবির সময় ভালো যাচ্ছে না বলেই মত তাঁর। তবু বন্ধুত্বের বন্ধন অটুট রয়েছে সহকর্মীদের সঙ্গে। ব্যক্তিগত আড্ডা কম হলেও সম্পর্কের উষ্ণতা বজায় আছে। রাজনীতি আর সিনেমা, দুই জগতেই নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ মা ১০০ টাকায় ৩ রকম মাছ আনত, আর আমি এনেছিলাম পচা মাছ!’ ফেলে আসা দিনগুলো মনে করে আবেগে ভাসলেন স্বস্তিকা!
দিনের শেষে তিনি সংসারপ্রেমী মানুষ। পার্টি বা সামাজিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত না যাওয়ার কারণও পরিবার। কাজের সময় কমানো যায় না, তাই অবসরটুকু স্বামী সন্তান আর নিজের গাছপালাদের জন্য তুলে রাখেন। চারটি ভিন্ন দায়িত্বের ভারসাম্য রক্ষা করেই তাঁর জীবনযাপন। কেউ একে রাজনীতির অঙ্ক বললেও, তাঁর কাছে এটি আত্মপরিচয়ের সমীকরণ। নেত্রী, অভিনেত্রী, গৃহকর্ত্রী আর কবি, সব মিলিয়েই সম্পূর্ণ শতাব্দী রায়।





