‘বাম আমল থেকে রাজনীতি করছি, ভয় পাওয়ার ছেলে নই!’ ‘শেষ র’ক্তবিন্দু দিয়ে নেত্রীর বিশ্বাস রক্ষা করব’, যুব তৃণমূলের শীর্ষ পদে বসে বার্তা অভিনেতা অর্ণব ব্যানার্জির!

যুব তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন রাজ্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন জনপ্রিয় বাঙালি অভিনেতা অর্ণব ব্যানার্জি (Arnab Banerjee)। অভিনেত্রী সায়নী ঘোষের ইস্তফার পর দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য অর্ণবের ওপর ভরসা দেখিয়েছেন। দায়িত্ব পাওয়ার ঠিক পরদিনই এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের আগামী পরিকল্পনা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া এই দায়িত্বকে জীবনের মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন এই অভিনেতা-রাজনীতিবিদ।

দলের এই কঠিন সময়ে যখন নানা দিক থেকে সমালোচনা ধেয়ে আসছে, তখন এই পদ নিতে অর্ণবের মনে কোনো ভয় কাজ করছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বেশ স্পষ্ট ও নির্ভীক বার্তা দেন। তিনি জানান যে, রাজনীতিতে তিনি নতুন নন। ১৯৯৮ সাল থেকে, অর্থাৎ বাম আমল থেকেই তিনি ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত। তিনি মনে করেন, কোনো মানুষ যদি নিজের জায়গায় সততার সাথে ঠিক থাকে, তবে সাধারণ মানুষের সামনে যেতে বা দল করতে কোনো ভয়ের কারণ থাকে না। যুব সংগঠনকে একদম নতুন করে এবং সততার সাথে শক্তিশালী করে তোলাই এখন তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশ্যে ‘চোর’ স্লোগান দেওয়া বা পচা ডিম ছোঁড়ার ঘটনা নিয়ে অর্ণব একটি বড় প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, কোনো নেতা কোথাও পৌঁছানোর আগেই এত পচা ডিম ঠিক কোথা থেকে জোগাড় হয়ে যায়, আর সাধারণ মানুষ এত আগে থেকে খবরই বা কী করে পায়! এই পুরো বিষয়টির পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা পূর্বপরিকল্পনা রয়েছে কিনা, তা নিয়ে তিনি পরোক্ষভাবে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

দলবদলু ও ক্ষুব্ধ নেতাদের উদ্দেশ্যেও এই নতুন যুব সভাপতি বেশ কড়া ভাষায় কটাক্ষ করেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর রাগ দেখিয়ে যারা এখন দল ছাড়ছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে অর্ণবের সটান বক্তব্য এই রাগটা ভোটের আগে টিকিট নেওয়ার সময় দেখালে ভালো হতো। এখন দল আগের মতো ক্ষমতায় নেই বলেই অনেকে সুযোগ বুঝে রাগ দেখাচ্ছেন। এর পাশাপাশি দলে ‘নতুন বনাম পুরনো’ বিতর্ককে উড়িয়ে দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, তৃণমূল একটাই। যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন, সেটাই আসল তৃণমূল।

পেশায় অভিনেতা অর্ণবকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, একদিকে অভিনয় আর অন্যদিকে এত বড় রাজনৈতিক পদ দুটো একসাথে কীভাবে সামলাবেন? অর্ণব সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দেন যে, অভিনয় হলো তাঁর প্রফেশন বা পেশা, যা দিয়ে তিনি সংসার চালান। আর রাজনীতি হলো তাঁর ভালোবাসা। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা আইনজীবীদের মতো অভিনেতারাও নিজের পেশা বাঁচিয়ে রাজনীতি করতেই পারেন। টলিউডে রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হলেও বাকি সহকর্মীদের সাথে তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। নতুন সরকারের জমানায় কাজ হারানোর কোনো ভয় তাঁর নেই, কারণ তিনি আশাবাদী যে ‘ব্যান কালচার’ বা কাজ কেড়ে নেওয়ার রাজনীতি এবার বন্ধ হবে।