কাদা ছোড়াছুড়ি নয়, শ্রদ্ধাই শেষ কথা; প্রাক্তন বৌদির সঙ্গে নিজের বন্ডিং নিয়ে ভাইরাল সায়কের ভিডিও!
রক্তের সম্পর্ক না হয়েও যে বন্ধন নিজের দিদির চেয়ে কম কিছু নয়, সেই বিরল সম্পর্কের কথা এক আবেগঘন ভিডিওতে তুলে ধরলেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও ভ্লগার সায়ক চক্রবর্তী (Sayak Chakraborty)। গত বছর আইনিভাবে সায়কের দাদার সঙ্গে তাঁর বৌদির বৈবাহিক বিচ্ছেদ ঘটে। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনে ইতি টানার খবরটি অনুগামীদের কাছে বেদনাদায়ক হলেও, সায়ক তাদের সম্পর্কের এক অন্য মাত্রার সম্পর্কের কথা শুনিয়েছেন। যেখানে সামাজিক বিচ্ছেদ ঘটলেও, দেওর ও বৌদির মধ্যকার দীর্ঘদিনের আত্মিক টান আজও অমলিন।
সায়ক জানিয়েছেন, বৌদি হিসেবে নয়, বরং নিজের দিদির মতোই ওই মানুষটি তাঁর জীবনে জায়গা করে নিয়েছেন। বিয়ের প্রথম দিন থেকেই সায়ক এবং তাঁর বৌদির সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত সহজ ও বন্ধুর মতো। বড় দিদি যেমন ছোট ভাইকে আগলে রাখেন, ঠিক তেমনি সায়কের প্রতি তাঁর বৌদির স্নেহ ছিল প্রশ্নাতীত। এমনকি দাদার সঙ্গে বিচ্ছেদের মতো কঠিন সময়েও, সায়ক ও তাঁর বৌদির ব্যক্তিগত সম্পর্কে কোনো তিক্ততা আসেনি। সায়কের মতে, বৈবাহিক সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া মানেই যে মানুষটা পর হয়ে যাবে, এমনটা ভাবা ভুল।
ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সায়ক ও তাঁর বৌদির বেশ কিছু ভিডিও এবং ছবি আগে থেকেই জনপ্রিয় ছিল, যেখানে তাঁদের খুনসুটি এবং একে অপরের প্রতি সমর্থন স্পষ্ট ধরা পড়ত। সায়ক উল্লেখ করেছেন, ডিভোর্সের আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন বা তার পরেও তাঁরা একে অপরের খবর নিতে ভোলেননি। এই ভিডিওর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আইনি বিচ্ছেদ কেবল স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটায়, কিন্তু একটি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে গড়ে ওঠা ভালোবাসার সেতুটি ভেঙে দেয় না। তাঁদের এই সমীকরণ আজকের প্রজন্মের কাছে এক বড় শিক্ষা।
এর পর থেকেই নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, বিচ্ছেদের পর যেখানে অধিকাংশ পরিবার একে অপরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়ি বা আইনি লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকে, সেখানে সায়কের এই ইতিবাচক মানসিকতা প্রশংসনীয়। সায়ক ভিডিওতে অত্যন্ত পরিণতভাবে বুঝিয়েছেন যে, সম্পর্ক তাসের ঘর নয় যে একটা ধাক্কায় সব ভেঙে যাবে। বিশেষ করে বাঙালির ঘরে ‘দেওর-বৌদি’র যে মিষ্টি ও পবিত্র সম্পর্ক থাকে, তা তাঁরা দুজনেই মর্যদাপূর্ণভাবে বজায় রেখেছেন।
সায়ক তাঁর অনুগামীদের এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন যে মানুষের পরিচয় তাঁর আচরণে। সম্পর্কের সংজ্ঞা বদলে যেতে পারে, কিন্তু মানুষের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা যেন অটুট থাকে। দাদার সাথে বৌদির সম্পর্ক হয়তো আজ প্রাক্তন, কিন্তু সায়কের কাছে তিনি চিরকালই সেই আগলে রাখা ‘বড় দিদি’ হয়েই থাকবেন।





