নন্দিনী দিদির পর হঠাৎ বন্ধ হল আমেরিকান দাদার দোকান!

ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে হবে। এই একটি সিদ্ধান্ত রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে তাঁদের। ফুটপাথের ধারে এক চিলতে পাইস হোটেলের উপার্জনেই সংসারের হাল টানেন যারা। ডাল-ভাত-ঝোলের অন্তরালেই রয়েছে তাঁদের নিরন্তর বেঁচে থাকার লড়াই। সুস্বাদু খাওয়ার আর সুমিষ্ট ব্যবহার দ্বারা বারবার জীবন সংগ্রামের সকল বাধা টপকে লাইম লাইটে নিয়ে এসেছে তাঁদের। বর্তমানে ফুড ব্লগারদের সৌজন্যে আজ তাঁরা প্রত্যেকেই ভাইরাল।

শহরের এক কোণায় ফুটপাথ জুড়ে থাকা হোটেলই তাঁদের কর্মস্থল। ডালহৌসির ফুটপাতে ইসমার্ট নন্দিনীর ভাতের হোটেল হোক বা রাসবিহারী থেকে গড়িয়াহাট যাওয়ার পথে সাগরের হোটেল কিংবা ব্যারাকপুরে উজ্জ্বলদার বিরিয়ানি, ইউটিউবের দৌলতে তাঁদের জনপ্রিয়তা নামী রেস্তরাঁকেও লজ্জা পাইয়ে দেবে। বাঁশের খাঁচার উপর ত্রিপল খাটিয়ে বা টিনের শেড দিয়ে ঝুপড়ি হোটেলে লাইন লেগে যায় খাওয়ার জন্য। সারাদিনে ফুড ব্লগারদের উপচে পড়া ভিড়, সাধারণ মানুষের প্রশংসা, হইচই, সবশেষে দুই পয়সা উপার্জন।

তবে চলতি সময়ের পরিস্থিতি দেখে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন প্রত্যেকেই। তবে নন্দিনীদির পর এবার মাথায় হাত পড়ল আমেরিকান দাদার বিরিয়ানি দোকানের মালিকের। হাবড়া অশোকনগরের কাছে এই বিরিয়ানির দোকান ফুড ব্লগারদের দৌলতে আজ ভীষণ জনপ্রিয়। প্রতিদিন উপচে পড়ে ভিড়। পাশাপাশির লোকজন তো বটেই এমনকি দূর থেকে গাড়ি নিয়েও বিরিয়ানি খেতে এই দোকানে আসেন বিরিয়ানি প্রেমীরা। তবে সন্ধ্যে সাড়ে ৮টায় বিরিয়ানির দোকান বন্ধ দেখে চোখ কপালে উঠেছে অনেকেরই।

কেন বন্ধ হয়ে গেল আমেরিকান দাদার দোকান?

তবে কি সরকারের এই নতুন নিয়মের কারণে বন্ধ হয়ে গেল বিরিয়ানি দাদার দোকান? তবে কী আর বিরিয়ানি বিক্রি করবেন না তিনি? সম্প্রতি একজন ফুড ব্লগিং গিয়েছিল সেই দোকানে। সঙ্গে সঙ্গে সেই ব্যক্তি গিয়ে প্রশ্ন করেন দোকানদারকে। তিনি জানান চিকেনের জন্যই বন্ধ হয়ে গেছে তার দোকান। তিনি বলেছেন “আজ থেকে অনিদিষ্ট কালের জন্য চিকেন সার্ভিস বন্ধ করেছে মানে হয়ত কোথাও চিকেন পাওয়া যাবে না।”

আরো পড়ুন: ঝুলি থেকে বেরিয়ে পড়ল বিড়াল! যীশু-নীলাঞ্জনার বিচ্ছেদ নিয়ে বি’স্ফোরক রুদ্রনীল!

তিনি আরও বলেন, “আমায় যদি আজ চিকেন দিতে হয় তাহলে আমায় স্টোর করে রাখতে হবে চিকেন। আর ভালোভাবে স্টোর করতে গেছে সেই ওতো ভালো ব্যবস্থা নেই আমার কাছে। আর আমি যারা খেতে আসবেন তাদের বাসী চিকেন খাওয়ার মতো ব্যবসা আমি করি না। যদিও চিকেন না পাওয়া যায় তাহলে বাধ্য হয়েই মটনের পিস ছোট করে চিকেনের দামে বিক্রি করতে হবে। রবিবার থেকেই দেখি তাই করব। উপায় নেই। এতগুলো ছেলে কাজ করে তাদের মায়না দিতে হবে তাছাড়া দোকান তো বন্ধ করা যাবে না। তাই মটন দিয়েই আপাতত কাজ চালাব।”