দীর্ঘ ৫ বছর পর নিজের অতীতকে পেছনে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে গেল দীপা, নতুন শহরে শুরু হল নতুন সফর!

দীর্ঘ দু’বছর ধরে চলা স্টার জলসার ধারাবাহিক হল ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ (Anurager Chowa)। বর্তমানে বাংলা ধারাবাহিক জগতে এটি সবথেকে পুরনো ধারাবাহিক। ধারাবাহিকে প্রথম থেকেই দীপা এবং সূর্যের জীবনের বিভিন্ন গল্প ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। তবে বর্তমানে যেন একঘেয়ে হয়েছে ধারাবাহিকের গল্প। তাই ধারাবাহিক দেখার প্রতি বিরক্ত চলে এসেছে দর্শকদের। কিন্তু অনুরাগের ছোঁয়া শেষ হওয়ার কোন নাম নেই। আগামী দিনে ধারাবাহিকের গল্প আরো এগোতে চলেছে।

ধারাবাহিকের গতকালের পর্বেই দেখানো হয়েছে সোনাকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছে সূর্য। সূর্য চায় না সোনা দীপার কাছাকাছি থাকুক। তাতে সোনার ক্ষতি হবে তাই সোনাকে নিয়ে কাউকে না বলেই চিঠিতে দীপাকে সমস্ত কথা জানিয়ে চলে গিয়েছে অনেক দূরে। সোনা, রুপা এবং সূর্যকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছে দীপা। মানসিকভাবে সে এই ঘটনার জন্য যে প্রস্তুত ছিল না সেটা বোঝাই যাচ্ছে। তাই দীপাও ঠিক করে সেও বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবে। এরপরে দেখা যায় পাঁচ বছর কেটে গিয়েছে, মাঝে দীপা একটি অনাথ আশ্রমে বাচ্চাদের জন্য খাবার তৈরি করে। সেখানে সে কাউকে নিজের কাছাকাছি আসতে দেয় না। পর্দার আড়াল থেকেই সমস্ত কাজ করে। পাঁচ বছর বাদে সেখানে গিয়ে উপস্থিত হয় তার বাবা-মা। তারা সেখানে গিয়ে দীপা কে নতুন করে বাঁচার কথা বলে।

Anurager Chowa, Star jalsha, Bengali Serial, Bengali Telivision, অনুরাগের ছোঁয়া, স্টার জলসা, বাংলা সিরিয়াল, বাংলা টেলিভিশন, Anurager Chowa Today Episode 20 September, অনুরাগের ছোঁয়া আজকের পর্ব ২০ সেপ্টেম্বর, অনুরাগের ছোঁয়া আজকের পর্ব

অনুরাগের ছোঁয়া আজকের পর্ব ২১ সেপ্টেম্বর (Anurager Chowa Today Episode 21 September)

দীপার বাবা-মা আবার দীপাকে বলেন নিজের জন্য বাঁচতে। তাতে সোনা রুপা দুজনেই খুশি হবে। এভাবে অন্ধকারে নিজের জীবনটা ভাসিয়ে না দিতে। দীপা তখন বলে আমি তো ভালো থাকতাম আমার মেয়েদের জন্য। তারাই তো কাছে নেই। তখন তার মা-বাবা ভালোমতো বোঝায় যে নিজের জন্য বাঁচা যায় পৃথিবীতে। এরপরে দীপা ভাবতে থাকে সে কি করবে। তখনই তার ভাবনার মাঝে আসে সূর্য। সূর্য এসে তাকে বলে সব অন্ধকার একদিন কেটে যাবে আবার নতুন করে সব কিছু শুরু হবে। তাই নিজের জীবনটা নিজের মতো করে বাঁচতে, নিজের জন্য ভালো থাকতে।

পরের দিন দীপা নতুন শহরে পা রাখার জন্য রওনা দেয়। ট্রেনে করে সে মুম্বাইয়ের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও দীপার ভাবনার মাঝে মাঝেমধ্যেই চলে আসছে সোনা এবং রুপা। তাদের নানার কথা ভাবাচ্ছে দীপাকে। এমনকি সোনা রুপাও তার ভাবনার মাঝে এসে বলে দীপাকে নতুন করে সুন্দর জীবন নিয়ে বাঁচতে। তাতে তারাও খুশি থাকবে মেয়েদের। মেয়েদের খুশির কথা শুনে দীপাও খুশি হয়ে যায়। এরপর ট্রেনে উঠে পাড়ি দেয় সুদূর মুম্বাইয়ের উদ্দেশ্যে।

ট্রেনে তার অনেক অজানা অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ হয়। প্রত্যেকেই দীপাকে আপন করে নিতে চায় কিন্তু এই পাঁচ বছরে দীপার জীবন অনেকটা বদলে গিয়েছে। সে বাইরের জগত থেকে নিজেকে অনেকটা দূরে সরিয়ে রেখেছে। তাই তার আর এসব ভালো লাগেনা। ট্রেনে একজন সাউথ ইন্ডিয়ান ভদ্রলোক তাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। এমনকি দীপার দুটি হাত দেখে চিনতে পারে। আসলে মায়ের ছোঁয়া নামের একটি ব্লগ চ্যানেল থেকে দীপার রান্নার ব্লগ বানাত একটি মেয়ে। সেখানেই দীপার হাতের ছবি দেখে চিনতে পারে ওই ভদ্রলোক এবং দীপা জানায়। যাওয়ার আগে দীপার জন্য একটি চিঠিও রেখে যায় ওই ভদ্রলোক। এবারে দেখার অপেক্ষা নতুন শহরে দীপা কিভাবে মানিয়ে নেয়, কিভাবে নিজের নতুন জীবন শুরু করে আবার।