যে মানুষটা সবার জন্য ভাবে, সবার উপকার করে, সবার ভালো চায় সেই মানুষটার পাশে কেউ থাকতে চায় না। সবকিছু পেয়েও বারবার তার থেকে সবটা কেড়ে নেওয়া হয়। ঠিক এমনই একজন চির অভাগিনী মেয়ে হচ্ছে স্টার জলসার (Star jalsha) অনুরাগের ছোঁয়া (Anurager chowa) ধারাবাহিকের নায়িকা দীপা। নিজের পরিবার থেকে শুরু করে বাইরের লোক প্রত্যেকেই তাকে অবহেলা করেছে। আজও সেই অবহেলার শিকার।
বর্তমান গল্প অনুযায়ী, চারুর এক ডাকে সে তার বাড়িতে গিয়ে সবার জন্য রান্না করতে রাজি হয়ে যায়। সুন্দর করে রান্না করে সবার মন জয় করে। কিন্তু সেখানেও তাকে কম অপমানিত হতে হয়নি নিজের মেয়ের কাছে। তাদের জন্য ভাবতে গিয়ে মাত্র কিছুক্ষণ দেরি করে ফেলে সে গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে। আর সেখান থেকেই শুরু হয় ঝামেলার সূত্রপাত। রেস্টুরেন্টের মালিক একবারও দীপার দিকটা ভাবতে চায়নি। প্রথম থেকেই দীপাকে যা নয় তাই বলে এসেছে সে। আর এইবার সে তার মাত্রা অতিক্রম করে গেল।

অনুরাগের ছোঁয়া আজকের পর্ব ৮ অক্টোবর (Anurager Chowa Today Episode 8 October)
ধারাবাহিকের আজকের পর্বে দেখা যায়, দীপা অনেক রকম ভাবে রেস্টুরেন্টের মালিককে বোঝানোর চেষ্টা করে যে, সে বেশ বিপদের মধ্যে পড়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে তাড়াতাড়ি বেরোনোটা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। সে চেষ্টা করেছিল বেরোনোর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বেরোতে পারেনি। তাই একটু দেরি হয়ে গিয়েছে। এইবারের মতন যেন তাকে ক্ষমা করে আর একটা সুযোগ দেওয়া হয়। এরকম ভুল আর সে কোনদিনও করবে না। রেস্টুরেন্টের মালিক এই সমস্ত শুনতে মোটেই রাজি নয়। উল্টে সে দীপার সঙ্গে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করতে থাকে।
রেস্টুরেন্টের মালিক দীপাকে বলে, “ওই চারু যার জন্য আপনি এতটা গেলেন, যার বিপদে আপনার দেরি হয়ে গেল ফিরতে আপনি বরং তার বাড়িতে যান। সে আপনাকে নিশ্চয়ই একটা আশ্রয় দেবে। এখানে আপনার আর কোন জায়গা হবে না।” রেস্টুরেন্টের বাকি কর্মচারীরাও দীপার হয়ে কথা বলতে গেলে রেস্টুরেন্টের মালিক স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, যার অসুবিধা থাকবে সে দীপার সাথে চলে যেতে পারে। প্রত্যেকেরই যেহেতু চাকরিটা খুব দরকার তাই কেউ যেতে চায় না। সবাই মাথা নিচু করে সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। একা পড়ে থাকে দীপা।
আরও পড়ুনঃ প্রয়াত অভিষেক চাননি তার মেয়ে বাংলায় কাজ করুক! কারণটা নিজেই জানালেন সায়না!
রাস্তার বেঞ্চে শুয়ে রাত কাটছে দীপার
রেস্টুরেন্ট থেকে বেরোতেই তাকে ফোন করে তার মা। দীপা প্রথমবার ফোনটা না ধরলেও দ্বিতীয়বার ধরতে বাধ্য হয়। কিন্তু নিজের এই করুন অবস্থার কথা সে তার মাকে জানাতে চায় না কারণ এসব জানতে পারলে সে খুব চিন্তা করবে। এত বড় শহরে দীপা কোথায় যাবে কিছু বুঝতে না পেরে একটা বেঞ্চে বসে পড়ে। সঠিক করে আজকে রাতটা তাকে এখানেই কাটাতে হবে। এরপর বেঞ্চের মধ্যে শুয়ে পড়ে। এই অচেনা অজানা শহরে আসন্ন নানা রকমের বিপদের তোয়াক্কা না করে এখন রাস্তায় হয়ে উঠেছে দীপার ঘর।





