প্লুটোর চলে যাওয়া মানতে পারছে না দর্শক! মৌ বুঝতে চায়নি, প্রত্যাখ্যান করছে মিঠিও! মিঠি-মৌ’র লড়াইয়ের মাঝে শেষ হয়ে গেল প্লুটো! প্লুটোর মৃত্যুর দায় মিঠি না মৌ?

‘চিরসখা’ ধারাবাহিকে প্লুটোর মৃত্যু যেন এক ঝটকায় ভেঙে দিল অনন্যার দুনিয়া। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে শেষমেশ খালি হাতে ফিরতে হলো তাঁকে। দর্শকরা বলছেন, এই ক্ষতি অনন্যা কোনোদিনও মেনে নিতে পারবেন না। সন্তানের চলে যাওয়া মায়ের জন্য সবচেয়ে বড় দুঃখ। তাই পর্দার চরিত্র হলেও, প্লুটোর মৃত্যুতে কাঁদছেন অনুরাগীরাও।

কিন্তু এই মৃত্যুর দায় কার? প্রশ্নটা এখন চারদিকেই ঘুরছে। কেউ বলছে মিঠির জন্যই প্লুটো এই সিদ্ধান্ত নিল। আবার কেউ মনে করছে মৌ-ই সব জেনেও এগিয়ে গিয়েছিল প্লুটোর দিকে। অনন্যা নিজে ছেলেকে নিজের মতো করে মানুষ করেছিলেন। তাঁর ভাবনা–চিন্তা, ভালো–মন্দ সবই ছিল মায়ের প্রভাবিত। তবু এমন সিদ্ধান্ত নেবে প্লুটো, তা কোনোদিনও ভাবতে পারেননি তিনি।

অন্যদিকে দর্শকের একাংশ আবার বলছেন, মৌয়ের ছোটবেলা থেকেই একটা চাপা হীনমন্যতা কাজ করত। কারণ বাবা সব সময় তুলনা টানতেন মিঠির সঙ্গে। তাই প্লুটো কেন মিঠিকে ভালোবাসবে, সেটা সে মানতে পারেনি। অভিনেত্রী রোশনি ভট্টাচার্য (মৌয়ের ভূমিকায়) মনে করেন, এই অবস্থায় মৌ-এর আচরণ একেবারেই স্বাভাবিক। ছোট থেকেই যে চাপের মধ্যে মৌকে বড় হতে হয়েছে, তার প্রভাবেই সে এমনটা করেছে।

অন্যদিকে ঐশী ভট্টাচার্য (মিঠির ভূমিকায়) জানালেন, প্লুটোকে আরও একটু বোঝা উচিত ছিল মিঠির। হয়তো সে কিছুটা বেশি কঠিন হয়ে গিয়েছিল প্লুটোর প্রতি। আর ঠিক সেই জায়গাটাই ভেঙে দিয়েছিল প্লুটোকে। প্লুটো মারা যাওয়ার পর শুধু অনন্যা নন, কমলিনীকেও নানা কথা শুনতে হচ্ছে। তবে অভিনেত্রী অপরাজিতা ঘোষ (কমলিনীর চরিত্রে) বলেছেন, সন্তান হারানোর বেদনা এতটাই বড়, যে অনন্যা যা-ই বলুন, সেটাকে গুরুত্ব দেওয়া এখন ঠিক নয়।

তবে দর্শকের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরছে—প্লুটো কি ফিরতে পারে আবার? প্রিয় চরিত্রের মৃত্যু তাঁরা মানতে পারছেন না কিছুতেই। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন একটাই দাবি, প্লিজ প্লুটোকে ফিরিয়ে আনুন। ‘চিরসখা’-র গল্পে মোড় বদলালেও, দর্শকের আবেগ একটাই—সন্তান হারানো অনন্যার বেদনা তাঁরা আর দেখতে চাইছেন না।