উপায় না পেয়ে লাবণ্যর সামনে আঁচল পাতলো দীপা, সেনগুপ্ত পরিবারকে পথে বসালো পাপাই?

একদম শুরুর দিন থেকেই হাজারো অপমান হাজারো কষ্টের সম্মুখীন হয়েছে স্টার জলসার (Star jalsha) অনুরাগের ছোঁয়ায় (Anurager chowa) ধারাবাহিকের নায়িকা দীপা। ঠিক ভুল না বিচার করেই বাইরের লোকের কথায় দীপাকে বারংবার তিরস্কার করেছে তার স্বামী শাশুড়ি সমাজ। কিন্তু এই সব কিছুকে উপেক্ষা করে প্রতিবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে সে। কিন্তু এবার সমস্ত পরিস্থিতি চলে গেল তার বিপক্ষে। কারণ এবার সংকটে পড়লো একজন মা।

বর্তমান গল্প অনুযায়ী, বহুদিন যাবত অসুস্থতায় ভুগছে রুপা। তার এমন একটি রোগ হয়েছে যার কোনও সঠিক চিকিৎসা নেই এবং যে চিকিৎসা প্রয়োজন সেই চিকিৎসার মূল্য অনেক টাকা, যেটা দীপার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। এই অবস্থায় তাদেরকে একা ফেলে পালিয়ে গিয়েছে সূর্য কারণ সে নিজে একটু খানি ভালো থাকতে চায়। আর এই দিকে কোন সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও কেবলমাত্র ভালোবাসার টানে দীপাকে প্রাণপণে সাহায্য করে চলেছে অর্জুন। কিছু ঠিক না থাকলেও সব ঠিক করার চেষ্টা করছিল দীপা। হঠাৎ করেই এক অনেক বড় সংকটের সম্মুখীন হল সে।

ধারাবাহিকের আজকের পর্বে দেখা যায়, ভিক্টর হঠাৎ করেই তিস্তাকে নিয়ে এসে হাজির হয়েছে সেনগুপ্ত পরিবারে। কারণ সে আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করতে চায় না। তার অনেক টাকার প্রয়োজন। নিজের মেয়েকে দেখে গলে যায় কাকিয়া। ভিক্টরের সাথে বিয়েটা মেনে নিয়েছে সে। যদিও তিস্তার বাবা জ্যাঠা এখনো অব্দি ভিক্টরকে এই বাড়ির জামাই হিসেবে গ্রহণ করতে পারেনি। লাবণ্য ভিক্টরকে ওই বাড়িতে থাকার অনুমতি দিয়ে দেয়। সব কিছুই হতে থাকে ভিক্টরের প্লান অনুযায়ী। কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি যে তার সমস্ত আশায় জল পড়তে চলেছে সেটা হয়তো ভাবতেও পারছে না ভেক্টর।

অন্যদিকে দেখা যায়, হসপিটালে গিয়ে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়ে রুপা। ডক্টর স্মিথ রূপাকে পরীক্ষা করে জানায়, রুপার কন্ডিশন একেবারেই ভালো নয়। তৎক্ষণাৎ একটি অপারেশন করতে হবে আর একটা টিস্যু নিয়ে সেটাকে পরীক্ষা করে দেখতে হবে। আর এটা যদি না করা হয় তাহলে খুব খারাপ কিছু ঘটে যেতে পারে। এইসবের জন্য ২২ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। কথাটা শুনে পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যায় দীপার। এত টাকা কোথা থেকে জোগাড় করবে সে? হার না মেনে সে বেরিয়ে পড়ে টাকা জোগাড় করতে।

একদিকে সূর্য সবাই ভালো আছে এটা মনে মনে বিশ্বাস করে নিয়ে নিজে একা একা ভালো থাকার চেষ্টা করছে আর অন্যদিকে দীপা রাস্তায় রাস্তায় টাকার জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। সে কবীরের কাছে টাকার সন্ধানে গেলে জানতে পারে তারা বিদেশ চলে গিয়েছে। আর কোন উপায় না পেয়ে সেনগুপ্ত বাড়িতে চলে যায় দীপা। দীপাকে দেখে লাবণ্য আর কাকিয়া তাকে চলে যেতে বলে। কাকিয়া বলে, তার বাড়িতে মেয়ে জামাই এসেছে তাই দীপার সেখানে থাকাটা উচিত নয়। দীপা তখন অসহায়ের মত লাবণ্যের সামনে আঁচল পেতে বসে আর রুপার প্রাণ ভিক্ষা চায়। আর ঠিক সেই মুহূর্তে পুলিশ উকিল সহ সেনগুপ্তে বাড়ির দোরগোড়ায় হাজির হয় পাপাই। এরপরে কি হতে চলেছে সেই দৃশ্যটা হয়তো কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পারছে দর্শকমহল।