বেশ কিছুদিন ধরেই রুপার অদ্ভুত ব্যবহার নজর কাড়ছিল দীপা তথা লাবণ্য সেন প্রবীর সেন প্রত্যেকের। কিছুদিন ধরেই খুব অদ্ভুত হয়ে গিয়েছে রুপা। সে কথায় কথায় রেগে যায়। ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা বলে। নিজের কথার মধ্যে দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে যে সে অনেক কিছু জেনে গিয়েছে।
কিন্তু কি জেনে গিয়েছে তা সে কখনো প্রকাশ করে না। রুপা মনে মনে ভাবে সবাই তাকে মিথ্যা কথা বলেছে সবাই জানে রুপার বাবা তার কাছেই আছে কিন্তু তার বাবা তাকে চায় না। রুপা তার নিজের বাবার মুখ থেকে এই কথা শোনার পর চুরমার হয়ে গিয়েছে তার ছোট্ট হৃদয়।
তারপরও রুপা বারবার চেয়ে গেছে সবাই যেন তাকে সত্যিটা জানায়। বাবা বিদেশে গেছে এখনো ফেরেনি এই মিথ্যে যেন আর তাকে না বলা হয়। কিন্তু কেউ তাকে সত্যিটা জানাতে সাহস পায়নি। বেশ কিছুদিন ধরেই রুপা সবার সঙ্গে ভীষণ রূঢ় ব্যবহার করছিল। লাবণ্য সেনের প্রতি তার তৈরি হচ্ছিল একটা খারাপ লাগা।
ঘরে বসে সে ভাবছিল মিথ্যা বলার অধিকার কি শুধু বড়দেরই রয়েছে ছোটদের কি নেই। এই সব কিছু কোথাও গিয়ে ভীষণভাবে মনে গিয়ে লাগছিল লাবন্য সেনের। তাই তার নেয়া পদক্ষেপে সমস্ত সত্যিটা সামনে এলো সবার। যেদিন দীপা সূর্যের বাড়িতে এসেছিল আর সূর্যতাকে জানিয়েছিল রুপাকে না ছাড়লে সে কখনো রুপাকে গ্রহণ করবে না। সেই দিনের সিসিটিভি ফুটেজ বার করিয়েছিল লাবণ্য সেন। আর তারপর দীপা আর প্রবীরের সঙ্গে বসে লাভটাপে সেই ফুটেজ চালায় সে।
আর তারপর এই ধরা পড়ে যায় আসল সত্যিটা। সেখানে দেখা যায় দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে সমস্ত কথা শুনছে রুপা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রত্যেকটা কথা জেনে গিয়েছে রুপা এখন তার থেকে আর কিছু লুকিয়ে কোন লাভ নেই কারণ সে জানে সূর্য সেনই তার সেই বাবা মার কথায় যে বিদেশে থাকে। সিসিটিভি ফুটেজে দরজার বাইরে রুপাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আকাশ ভেঙ্গে পড়ে দীপার মাথায়। এখন কিভাবে দিবা রুপার সামনে মুখ দেখাবে? আর এর পরেও কি সবটা না জানার ভান করে যাবে দীপা? এখন সেটাই দেখার বিষয়।





