বর্তমানে বাংলা বিনোদন জগতে চর্চায় উঠে এসেছে অভিনেতা ঋষি কৌশিক (Rishi Kaushik) এবং তার স্ত্রী দেবযানী চক্রবর্তী। গত সপ্তাহ গত সপ্তাহে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিয়ো শেয়ার করে চাঞ্চল্য ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে একের পর এক ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছেন অভিনেতা। কখনও গল্পের আঙ্গিতে আবার কখনও ছবির ক্যাপশনে ফুটে ওঠেছে সম্পর্ক ভাঙার ইঙ্গিত। স্ত্রীর নাম না নিয়েই একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন অভিনেতা।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে ভালোবেসেই দেবযানী চক্রবর্তীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন অভিনেতা। টলিপাড়ার এই জুটিকে সর্বদাই সবাই আদর্শ জুটি বলেই মেনে এসেছে। তবে গত ২ বছরে একেবারেই বদলে গেছে সেই ছবি। একটি ভিডিওর মাধ্যমে তিনি বলেছেন মদ্যপান-ধূমপানে আসক্ত স্ত্রীর হাতে জর্জরিত-অত্যাচারিত এক স্বামীর গল্প। স্ত্রীর বেপরোয়া জীবনযাপন, দীর্ঘ ১২ বছর ছেলেটি সব সহ্য করে সংসার বাঁচানোর তাগিদে সবটা সহ্য করে এসেছে কিন্তু আর পারছে না। তার স্ত্রী বাইরে লোকের কাছে নিজেকে লক্ষ্মীমন্ত দেখায়। একই সঙ্গে ইদানিং নাকি সবাইকে বলে বেড়াচ্ছে যে ছেলেটি নাকি মানসিক রোগী। এই অবস্থায় ছেলেটির কী করা উচিত বলে জানতে চেয়েছেন ঋষি। যদিও পোস্টটি দেখে দুয়ে দুয়ে চার করতে সময় নেননি নেটিজেনরা।
গানের লিরিক্সের আড়ালে কি বলেছেন ঋষি কৌশিক
এমনকি গত শনিবার ফের নিজের একটি ছবি পোস্ট করেন, ক্যাপশনে যোগ করেন মাইকেল জ্যাকসনের একটি গান। গানের লাইনে উঠে এসেছে এক নারীর প্রতারণার গল্প। অভিনেতার লেখা লাইনগুলো তর্জমা করলে দাঁড়ায় “মিথ্যে বলো, অনুসন্ধান করো, মেরে ফেলো, মরে যাও। শয়তানের লোভ, লালসার খেলায় তাহলে এটাই কি বিশ্বাস? তার কিচ্ছু যায় আসে না। তার শুধু দরকার আমার টাকা, সে আমার জন্য এতটুকু ভাবে না, না ভাবে আমার সম্মানের কথা”। অভিনেতা যে এইসমস্ত কথা নিজ্যের স্ত্রীর সম্পর্কেই বলছেন সেকথা স্পষ্ট বুঝতে পেরেছেন নেটিজেনরা।

ঋষি কৌশিকের পোস্টের সম্পর্কে কি বলেছেন দেবযানী চক্রবর্তী?”
যদিও এতদিন অভিনেতা এত মন্তব্য করলেও নীরব ছিলেন তার স্ত্রী দেবযানী চক্রবর্তী। তবে এবার অবশেষে মৌনতা ভেঙেছেন তিনি। দেবযানী বলেছেন “বিগত কয়েকদিন যাবৎ সমাজ মাধ্যমে করা আমার স্বামীর কিছু পোস্ট নিয়ে আমাকে বারবার কিছু অবাঞ্ছিত প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পুরো বিষয়টি আমার কাছে অত্যন্ত কুরুচিকর, সম্মানহানিকর এবং বিব্রতকর।” অভিনেতার আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যে, অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত, অন্যায্য এবং কাল্পনিক বলে দাবি করেছেন দেবযানী। অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত, অন্যায্য এবং কাল্পনিক। তার দাবি তার সম্মানহানি ঘটিয়ে নিজের নীচ উদ্দেশ্য সাধন করছেন পোস্টদাতা।
আরো পড়ুন: শুটিংয়ের অচলাবস্থায় কি পিছনে যেতে চলেছে অমর সঙ্গীর টেলিকাস্ট?
দেবযানীর বক্তব্য, আইনের প্রতি আস্থা রাখা একজন ভদ্র মানুষ এক্ষেত্রে আইনের দ্বারস্থ হবেন কিন্তু এইভাবে সামাজিক মাধ্যমে জনগণের পরামর্শ চাইবেন না। তার কথায়, “যা ঘটানো হচ্ছে তা গর্হিত অপরাধ এবং এটি আমার ওপর করা তার দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক অত্যাচার আর নিষ্ঠুরতার আর একটি অধ্যায়। আমার ধৈর্য্য আর সহনশীলতার অন্যায় সুযোগ নিয়ে এটি করা হচ্ছে। আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করে তার অন্যায় দাবিগুলি মানাবার এটা একটা মরীয়া প্রয়াস। গোটা বিষয়টি নিয়ে আমি আইনী পরামর্শ নিচ্ছি। এ বিষয়ে বেশী বিস্তারে বলার অবস্থায় আমি নেই। শুধু এটুকু জানাই আমি আমার আইনী পরামর্শদাতাদের সঙ্গে সমস্ত বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি এবং খুব শীঘ্রই প্রয়োজনীয় সকল আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছি।”





