মাঝরাতের ‘গুঁড়ো দুধ’ ভাগ করে নেওয়া থেকেই বন্ধুত্বের শুরু! ধ্রুবজ্যোতি ও ঈশানীর ১১ বছরের চেনা সমীকরণ শুনলে অবাক হবেন আপনিও!

ধ্রুবজ্যোতি সরকার (Dhrubajyoti Sarkar) এবং ঈশানী সেনগুপ্ত (Ishani Sengupta) দুজনেই বাংলা টেলিভিশনের অত্যন্ত পরিচিত এবং জনপ্রিয় মুখ। ধ্রুবজ্যোতি সরকার দীর্ঘদিন ধরে টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন এবং ‘করুণাময়ী রানী রাসমণি’, ‘পিলু’, ‘নেতাজি’, ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ এবং ‘রোশনাই’-এর মতো একের পর এক হিট ধারাবাহিকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছেন এমনকি ২০২৬ সালের নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এও তিনি যুক্ত রয়েছেন। অন্যদিকে, অভিনেত্রী ঈশানী দাস মূলত ফ্যান্টাসি-থ্রিলার ধারাবাহিক ‘বাঘ বন্দি খেলা’-য় রায়া চরিত্রে রুবেল দাসের বিপরীতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন। ছোট পর্দার এই দুই গুণী শিল্পী যখনই একসাথে কোনো আড্ডায় মেতে ওঠেন, তখন তাদের অনস্ক্রিন রসায়নের পাশাপাশি অফস্ক্রিন বন্ধুত্বের মিষ্টি গল্পটিও দর্শকদের দারুণভাবে মুগ্ধ করে।

নিজেদের মধ্যকার সুন্দর বন্ধুত্বের সমীকরণটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তারা জানান যে, শোবিজ জগতের ব্যস্ত শিডিউলের মধ্যেও তাদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো একটি অত্যন্ত মজবুত ও আন্তরিক বন্ধন। কাজের বাইরেও তারা একে অপরের ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা, কাজের পছন্দ-অপছন্দ এবং মানসিক অবস্থাকে গভীরভাবে বুঝতে পারেন। একে অপরের প্রতি এই গভীর টান ও মানসিক নৈকট্যই তাদের এই পেশাদার দুনিয়ায় এক নির্ভরযোগ্য আশ্রয় তৈরি করে দিয়েছে, যা তাদের বন্ধুত্বের সুরকে করেছে আরও মধুর ও দীর্ঘস্থায়ী।

অভিনেত্রী ঈশানী জানান যে, ধ্রুবজ্যোতির সঙ্গে তাঁর এই গভীর বন্ধুত্বের সূচনা হয়েছিল একেবারে হঠাৎ করেই। তারা যখন একই ধারাবাহিকে একসঙ্গে কাজ করতেন, তখন প্রথম প্রথম একে অপরকে খুব একটা চিনতেন না। কিন্তু এক মাঝরাতে শুটিং চলাকালীন সেটের সবার হঠাৎ মিষ্টি কিছু খাওয়ার তীব্র ইচ্ছে জাগে। সেই সময়েই মুশকিল আসান হিসেবে এগিয়ে আসেন অভিনেতা ধ্রুবজ্যোতি, যাঁর ব্যাগে সবসময়ই কিছু না কিছু খাবার মজুত থাকে। সেদিন তাঁর ব্যাগ থেকে হঠাৎ করেই বেরিয়ে আসে গুঁড়ো দুধের প্যাকেট, আর গভীর রাতে সেই গুঁড়ো দুধ ভাগ করে খাওয়ার মিষ্টি মুহূর্তটি থেকেই তাদের বন্ধুত্বের পথচলা শুরু হয়।

দেখতে দেখতে এই খুনসুটি আর খুনসুটি থেকে শুরু হওয়া সম্পর্কটি দীর্ঘ ১১ বছর পার করে ফেলেছে, যেখানে তারা একে অপরের জীবনের প্রতিটি ভালো ও খারাপ সময়ে শক্ত হাত হয়ে পাশে থেকেছেন। পেশাগত এবং ব্যক্তিগত জীবনে অভিনেত্রী যখনই কোনো ভুল পদক্ষেপ নিতে যান, ধ্রুবজ্যোতি সবসময়ই অভিভাবকের মতো তাঁকে সঠিক পথটি দেখিয়ে দেন। একইভাবে অভিনেতার ক্ষেত্রেও ঈশানী সমান দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন। সময়ের সাথে সাথে গড়ে ওঠা এই নিখাদ বোঝাপড়া ও একে অপরকে আগলে রাখার মানসিকতাই আজ তাদের এই দীর্ঘ ১১ বছরের বন্ধুত্বকে এক অনন্য রূপ দিয়েছে।

অভিনেত্রী ঈশানী দাস তাঁর ও ধ্রুবজ্যোতির বন্ধুত্বের গভীরতা নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি চমৎকারভাবে প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান যে, প্রকৃত বন্ধুত্বের আসল রহস্য হলো পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং কোনো শর্ত ছাড়াই একে অপরের পাশে থাকা। ঈশানী উল্লেখ করেন, একজন ভালো বন্ধু সে-ই যে জীবনের ভালো সময়গুলোতে হাসিমুখে পাশে থাকার পাশাপাশি কঠিন বা বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতেও মানসিক শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়ায়। তাদের এই সুন্দর ও নিখাদ বোঝাপড়ার গল্পটি অনুরাগীদের মনে যেমন দোলা দেয়, তেমনই সাধারণ দর্শকদের কাছেও সত্যিকারের বন্ধুত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।