বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত মুখ Diganta Singha দীর্ঘ ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে একটানা কাজ করে গড়ে তুলেছিলেন নিজের আলাদা পরিচয়। Leena Gangopadhyay এবং Shaibal Bandyopadhyay-এর প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল শুরু থেকেই। ‘কেয়াপাতার নৌকো’ থেকে ‘গুড্ডি’— একের পর এক জনপ্রিয় ধারাবাহিকের পরিচালনায় তাঁর দক্ষতা দর্শকদের মন জয় করেছে। কিন্তু হঠাৎ করে ‘চিরসখা’ ধারাবাহিক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁর পেশাগত জীবন যেন এক অনিশ্চিত মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে।
এই আকস্মিক পরিস্থিতিতে শুধু দিগন্ত নন, তাঁর সঙ্গে যুক্ত বহু কলাকুশলীও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে যাঁরা সম্পাদনার কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের জীবনে নেমে এসেছে গভীর সংকট। এতদিন যাঁদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁদের এই অবস্থায় দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন পরিচালক। তাঁর কথায়, শুধু নিজের ভবিষ্যৎ নয়, টিমের প্রতিটি সদস্যের ভবিষ্যৎ নিয়েও সমানভাবে চিন্তিত তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে একই প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কাজ করার ফলে অন্য কোথাও কাজের সুযোগ খোঁজাও এখন কঠিন হয়ে উঠেছে। দিগন্তর নিজের কথায়, এত বছর অন্য কোনও জায়গায় কাজ না করায় নতুনভাবে শুরু করার পথটা স্পষ্ট নয়। ফলে আপাতত কাজহীন অবস্থায় সময় কাটছে তাঁর। এই অনিশ্চয়তা ধীরে ধীরে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও প্রভাব ফেলছে এবং উদ্বেগ বাড়াচ্ছে প্রতিদিন।
পরিবারের দায়িত্বও কম নয় তাঁর ওপর। স্ত্রী, দুই সন্তান এবং বয়স্ক মাকে নিয়ে তাঁর সংসার। একদিকে সন্তানের পড়াশোনার খরচ, অন্যদিকে দীর্ঘ কেরিয়ারের কারণে তৈরি হওয়া আর্থিক দায়—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই চাপ আরও বাড়ছে। কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলাবেন, সেই প্রশ্নই এখন তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুনঃ মৃ’ত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা! বৈষ্ণোদেবীতে অক্ষয়ের অলৌকিক অভিজ্ঞতার গল্প!
এই সংকটের পেছনে রয়েছে আইনি জটিলতাও। Rahul Arunoday Banerjee-এর আকস্মিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির কারণে প্রযোজকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতেও পারছেন না তিনি। পাশাপাশি ‘আর্টিস্ট ফোরাম’-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দিগন্ত। তাঁর মতে, এত মানুষের জীবিকা জড়িয়ে থাকা একটি বিষয়ে আরও সংবেদনশীল এবং দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন ছিল।





