‘ফুলশয্যায়ও কি মাকে নিয়ে যাবেন?’ দিতিপ্রিয়া ও তাঁর মাকে কটাক্ষ নেটপাড়ায়, পালটা জবাব দিলেন নায়িকা

টলিপাড়ায় আবারও নতুন কাদা ছোড়াছুড়ি। নাম জড়াল অভিনেত্রী দিতিপ্রিয়া রায়ের। মাসখানেক আগেই জিতু কমল ও দিতিপ্রিয়াকে নিয়ে উত্তাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়া। নায়িকা খোলাখুলি কিছু বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিলেন জিতুর বিরুদ্ধে। যদিও পরে সেই বিতর্ক খানিকটা মিটমাট হয়, কিন্তু তার পর থেকেই যেন দিতিপ্রিয়াকে নিশানা বানিয়ে ফেলেছেন জিতুর একাংশ অনুরাগী। প্রায় প্রতিদিনই তাঁকে নিয়ে নানা কটাক্ষ, নানা ইঙ্গিত। আর এবার সেই আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে এলেন তাঁর মা-ও!

ঘটনার সূত্রপাত একটি ফেসবুক পেজ— জলসা ফিকশন। সেখান থেকে দিতিপ্রিয়াকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়, “মানে দিতিপ্রিয়া যেখানেই যাবে সেখানেই মা’কে টেনে নিয়ে যাবে? শুটিং-এ মা আসে, সেটা মানলাম। কিন্তু প্রোমো শুটিংয়েও মা সঙ্গে থাকবে কেন? বাকি নায়িকারা কি একা একা শুটিং করে না? দিতিপ্রিয়া কি একমাত্র নায়িকা যিনি মায়ের আঁচল না ছেড়ে বাঁচতে পারেন না? যদি মেয়েকে নিয়ে এত ভয় থাকে, তবে ঘরে বসিয়ে রাখুন না, বাইরে কাজ করাবেন কেন?”

সেখানেই শেষ নয়। পোস্টে আরও কটাক্ষ, “জিতু নিজেই বলেছে, দিতির মাকে নাকি ভয় পায়। ভয় পাওয়াটাই তো স্বাভাবিক। শুটিংয়ের সময়ে নায়িকার হাত ধরা, জরিয়ে ধরা বা পর্দার প্রয়োজনে কিস করার দৃশ্য থাকবে। তখন যদি নায়িকার মা ক্যামেরার পেছনে দাঁড়িয়ে কটমট করে তাকান, নায়কের ভয় না পাওয়ার কারণ কী? কখন না আবার প্রশ্ন করেন— আমার মেয়ের হাত ধরলে কেন, জরালে কেন, কিস করল কেন? তাহলে তো বিপদ! আর আসল প্রশ্নটা থেকেই যায়— যখন দিতিপ্রিয়ার ফুলশয্যা হবে, তখনও কি মা দাঁড়িয়ে থাকবেন ঘরে?”

এমন পোস্ট পড়ে অনেকেই মুচকি হেসেছেন, কেউ কেউ কুরুচিকর ঠাওরেছেন। কিন্তু চুপ থাকেননি দিতিপ্রিয়ার সহকর্মী, অভিনেত্রী ও জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার আয়েশা ভট্টাচার্য। তিনি সরাসরি এই পোস্ট শেয়ার করে লিখেছেন, “এই লেখাটা একেবারেই হাস্যকর! একজন মেয়ে তার মাকে সব সময়ে সঙ্গে রাখলেই এত সমস্যা কেন? আমি নিজেও আমার মাকে সব জায়গায় নিয়ে যাই। শুটিং হোক বা অন্য কোনও কাজের জায়গা, উনি আমার ছায়ার মতো থাকেন। এটা আমার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। একইভাবে দিতিপ্রিয়ারও অধিকার আছে মাকে সঙ্গে রাখার। এই নিয়ে কারও মাথাব্যথা কেন হবে?”

আয়েশা আরও যুক্তি দেন, “যে ব্যক্তি এই পোস্ট করেছেন তাঁর চিন্তাভাবনা দেখে সত্যিই অবাক হচ্ছি। মেয়ে বড় হয়ে গেলে তাকে একাই চলাফেরা করতে হবে— এ কেমন অদ্ভুত সমাজবিচার? মা থাকলে দোষ হবে কেন? মেয়ে নিজের মাকে সঙ্গে রাখছে, এতে এত আক্রোশ কিসের?”

এখানেই বিতর্ক আরও জমাট বাঁধে। অনেকেই বলছেন, আসলে টলিপাড়ায় দিতিপ্রিয়ার জনপ্রিয়তা এবং সাহসী অবস্থান কিছু মানুষ মেনে নিতে পারছেন না। ফলে তাঁকে আক্রমণ করার জন্য তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকেই টেনে আনা হচ্ছে। কারও মা শুটিং সেটে গেলে কেন অন্যদের সমস্যা হবে? আবার অন্য একাংশ বলছেন, দিতিপ্রিয়ার মা নাকি সত্যিই সব কাজে ছায়ার মতো থাকেন, যা অনেকের অস্বস্তির কারণ।

তবে প্রশ্ন হল, একবিংশ শতকে দাঁড়িয়ে একজন মেয়ের মায়ের উপস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করার মানে কী? মা মেয়ে সম্পর্ককে কেউ যদি ফুলশয্যা পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান, সেটাই তো প্রকৃত কুরুচিকর আচরণ। দিতিপ্রিয়ার মাকে আক্রমণ করে আসলে তাঁকেই হেয় করার চেষ্টা হচ্ছে, আর সেই জায়গায় দাঁড়িয়েই সরব হয়েছেন আয়েশা।

যদিও নেটিজেনদের দুই ভাগ হয়ে গেছে। কেউ আয়েশার বক্তব্যকে সমর্থন করে বলছেন, “মা-কে সঙ্গে রাখা ব্যক্তিগত ব্যাপার, এখানে সমালোচনা করার কিছু নেই।” আবার অন্য দল বলছেন, “পেশাদার জীবনে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ হলে সমস্যা তৈরি করেই।”

কিন্তু যেভাবেই হোক, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আবার দিতিপ্রিয়া। এবং এই বিতর্ক প্রমাণ করছে, টলিপাড়ার আলোয় থাকা মানে শুধু সাফল্যের স্বাদ নয়, অযথা কটাক্ষের ভারও বইতে হয়।