জি বাংলার (Zee Bangla) অন্যতম চর্চিত এবং জনপ্রিয় মেগা ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas) ইতিমধ্যেই তার ভিন্নস্বাদের গল্পভাবনার জেরে দর্শকদের মনে এক আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। মূলত একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের টানাপোড়েন, আবেগ এবং স্বপ্ন পূরণের লড়াইকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে এই ধারাবাহিকের গল্প। যেখানে মধ্যবিত্তের আজীবনের ইচ্ছা মায়ের নামে একটা নিজের বাড়ি করা সেই স্বপ্নকে তাড়া করে বেড়ায় গোটা পরিবার। দেবশংকর হালদার এবং সোহিনী সেনগুপ্তের মতো টলিউডের প্রথম সারির ও শক্তিশালী থিয়েটার ব্যক্তিত্বদের অভিনয় এই ধারাবাহিককে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার এই স্লটে মধ্যবিত্ত বাঙালি জীবনের যে চেনা প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠছে, তা দর্শকদের ড্রয়িংরুমের আলোচনায় প্রতিদিন জায়গা করে নিচ্ছে।
সম্প্রতি ধারাবাহিকের শুটিং সেট থেকে সামনে এসেছে এক জমজমাট অফস্ক্রিন আড্ডার মুহূর্ত, যেখানে পর্দার তিন বোনকে একসঙ্গে পাওয়া গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজে। অনস্ক্রিন চরিত্রের লেয়ার বা গভীরতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মেজ বোন পল্লবীর চরিত্রের অভিনেত্রী জানান, চরিত্রটির বহুমুখী দিক থাকার কারণে খুব কম সময়ের মধ্যেই তিনি এটির প্রেমে পড়ে গেছেন। তিনি আরও বলেন, এই গল্পটি আসলে আমাদের প্রত্যেকের ঘরের গল্প, যেখানে পল্লবীর মূল লক্ষ্যই হলো তার বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটানো। অন্যদিকে ছোট বোন ঝিনুকের চরিত্রটি ভীষণ চটপটে, প্রাণবন্ত এবং ‘বাবলি’ স্বভাবের হলেও দিনের শেষে সে পুরোপুরি পরিবার-কেন্দ্রিক একটি মেয়ে। বড় বোন অঞ্জনার ক্যারেক্টারটি অবশ্য বাকিদের চেয়ে কিছুটা আলাদা; সে একটু বেশি অধিকারপ্রবণ এবং মায়ের কাছ থেকে নিজের দাবি আদায় করতে ভালোবাসে, তবে অভিনেত্রীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে সে কিন্তু মোটেও কোনো ক্ষতিকারক ভিলেন নয়।
পর্দার এই তিন বোনের রসায়ন যে শুধু ক্যামেরার সামনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং অফস্ক্রিনেও তাদের বন্ডিং কতটা মজবুত, তা এই আড্ডা থেকে পরিষ্কার হয়ে গেছে। অভিনেত্রীরা হাসিমুখে জানান, মেজ এবং ছোট বোনের চরিত্রে অভিনয় করা দুজনেই বাস্তবে বেশ শান্ত প্রকৃতির এবং কম কথা বলতে ভালোবাসেন। তবে সেটের সমস্ত নীরবতা এক নিমেষে কেটে যায় সহ-অভিনেতা সৌরভ ফ্লোরে পা রাখলেই। সেটের সবচেয়ে দুষ্টু এবং ছটফটে সদস্য হলেন এই সৌরভ, যিনি সারাক্ষণ হাসিকান্না আর মজায় পুরো ফ্লোর মাতিয়ে রাখেন। নতুন কাজ শুরু করা সত্ত্বেও সহ-অভিনেত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া আন্তরিকতা এবং ভালোবাসায় শুটিং ফ্লোরটি এখন তাদের কাছে এক ‘সেকেন্ড ফ্যামিলি’ বা দ্বিতীয় পরিবারে পরিণত হয়েছে, যা প্রতিদিন সকালে কাজে আসার জন্য অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা।
ধারাবাহিকের আগামী পর্বগুলোর টুইস্ট এবং রোম্যান্স নিয়েও এই আড্ডায় মিলল বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আভাস। পল্লবীর জীবনে যে নতুন ক্রাইসিস বা সংকট তৈরি হয়েছে এবং আদিত্যর সাথে তাঁর সম্পর্কের যে নতুন মোড় প্রমোতে দেখানো হয়েছে, তা নিয়ে দর্শকদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। এর পাশাপাশি সাগর, পল্লবী এবং মিষ্টি শিশু সদস্য ‘মিঠি’র সম্পর্কের সমীকরণও গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করছে। পিছিয়ে নেই ছোট বোন ঝিনুকও; তার কলেজে চিফ গেস্ট হিসেবে আসা মনের মানুষের সাথে প্রথম আলাপের পর থেকেই জীবনে প্রেমের নতুন হাওয়া বইতে শুরু করেছে। তবে এই প্রেম অতটা সহজ হবে না, কারণ দিদিরা পরবর্তীতে অনেক গোপন রহস্য এবং নতুন চমক আবিষ্কার করতে চলেছে, যা গল্পের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে।
আরও পড়ুনঃ ইতিহাস একসময় অপছন্দ ছিল! এবার ‘সোনাদা’ হয়ে সেই ইতিহাস নিয়েই মুখ খুললেন আবির!
এই প্রজেক্টের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ যে দেবশংকর হালদার এবং সোহিনী সেনগুপ্তের মতো গুণী তারকাদের উপস্থিতি, তা অকপটে স্বীকার করে নিলেন নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রীরা। ঝিনুকের চরিত্রের অভিনেত্রী জানান, কাজের অফার পাওয়ার পর চরিত্রের বিবরণ শোনার আগেই যখন তিনি জানতে পারেন যে এই ধারাবাহিকে দেবশংকর স্যার এবং সোহিনী দি রয়েছেন, তিনি এক বাক্যে রাজি হয়ে যান। থিয়েটার ও পর্দার এই দিকপাল অভিনেতাদের সাথে স্ক্রিন শেয়ার করতে পারাটা তাঁদের কাছে এক পরম আশীর্বাদ এবং প্রতিদিন সেটেই তাঁদের কাছ থেকে নতুন নতুন অভিনয়ের খুঁটিনাটি শেখা যায়। এমনকি ছোট মিঠি থেকে শুরু করে থিয়েটারের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বড় বোনের থেকেও তাঁরা প্রতিদিন অভিনয়ের রসদ সংগ্রহ করেন, যা সামগ্রিকভাবে ‘কমলা নিবাস’কে আরও সমৃদ্ধ করে তুলছে।





