বর্তমান সময়ে বাংলা টেলিভিশনে (Bengali television) শিশু শিল্পীর অভাব নেই। বেশ খানিকটা পিছিয়ে গেলে দেখা যাবে দিতিপ্রিয়া রায় থেকে তাথৈ, তিথি বসু, সোহম বসু রায়চৌধুরীর মতন একাধিক ক্ষুদে শিল্পীকে। আবার এই মুহূর্তে যে সমস্ত ক্ষুদে শিল্পী দর্শকদের প্রতিনিয়ত মন জয় করে চলেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম আজকের অয়ন্না চট্টোপাধ্যায় (Ayanna Chatterjee)।
ছোটপর্দার ‘করুণাময়ী রানি রাসমণি’ থেকে বড়পর্দার ‘মিনি’র পর ক্লাস ফাইভের অয়ন্না চট্টোপাধ্যায় আজ দর্শকের মনোরঞ্জনে ব্যস্ত ‘কমলা ও শ্রীমান পৃথ্বীরাজ’ (Komola O Sreeman Prithwiraj) ধারাবাহিকের (Serial) কমলার চরিত্রে। ঘোমটা টানা আটপৌঢ়ে শাড়িতে সে আজ গিন্নিবান্নি। পরিবারের সদস্য হিসেবে তাকেও অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়।
জমিদার বাড়ির আদরের দুলালি আজ মধ্যবিত্ত, মুখুজ্যে পরিবারের বউ। যে বাড়ির মেয়েদের পুরুষদের আগে খেতে বসা মানা, লেখাপড়া করা মানা, ইংরেজি বলা মানা আর ইংরেজিতে গান? তাতে তো জাত যাওয়ার অবস্থা হয় আর কি! তবে বর্তমানে ধীরে ধীরে নিজের ভালোবাসা স্নেহ এবং বুদ্ধি দিয়ে সে জয় করে নিয়েছে তার শ্বশুরবাড়ির সবার মন।
যার দরুন সমস্ত পুরনো নিয়ম ভেঙ্গে পুরুষদের আগে মেয়েদের খেতে বসা থেকে শুরু করে মেয়েদের পড়াশোনার জন্য স্কুল নির্মাণ, এই সবটাই সম্ভব হয়েছে এই ধারাবাহিকে, আর এর পেছনে রয়েছে কমলা এবং পৃথ্বীরাজ অর্থাৎ মানিক। সম্প্রতি কমলার উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে মেয়েদের জন্য স্কুল।
অপমানের প্রকৃত জবাব দিল কমলা
এই স্কুল যেন কমলার প্রাণ। বহুদিনের ইচ্ছা সফল হয়েছে তার। কমলা কিন্তু মানিকের মতন দস্যি নয়। সে ভীষণ শান্ত এবং বুদ্ধিদীপ্ত। পড়াশোনার প্রতি তার ভীষণ আগ্রহ। সে যে কেবল পড়াশোনা করতে ভালোবাসে তা নয় এর পাশাপাশি মেয়েদের শিক্ষিত করে তোলার বিষয়েও তার যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। এ দিনের পর্বে দেখা যায় ভট্টাচার্য মশাই এর বিধান না মানায় তিনি এসে কমলার স্কুল ভেঙে দেওয়ার বিধান দেন। তখন সেই পাঠশালায় উপস্থিত সব মেয়েরা মিলে ধরাসাই করে ভট্টাচার্য মশাইকে। এরপর কমলা এবং বাকি মেয়ে বউরা হাতে হাত রেখে একজোট হয় এবং তাদের প্রতিনিধি হিসেবে কমলা গলা তুলে উচু আওয়াজে তাকে জানায় চাইলেই মেয়েদের পায়ে পিষে দেওয়া যায় না। “দুর্গাদের পুড়িয়ে ফেলা যায় না।” নিজের স্কুল এবং নিজের সম্মান দুটোই বাঁচাতে এইবার রুদ্রমূর্তি ধারণ করল কমলা।





