“সবচেয়ে কম বয়সী শাশুড়ি, এটাই আমার ধারাবাহিকের ইউএসপি!” এত কম বয়সে সেরা শাশুড়ির অ্যাওয়ার্ড নিয়ে কী বললেন স্বস্তিকা?

বর্তমানে অভিনয় জগতে একটি অত্যন্ত পরিচিত এবং জনপ্রিয় মুখ হল স্বস্তিকা। ওরফে তোমার খোলা হাওয়া ধারাবাহিকের কনিষ্ঠ শাশুড়ি। শুরু থেকেই দর্শকরা বেশ পছন্দ করছেন এই ধারাবাহিকটিকে। যার সবথেকে বড় প্রমাণ হল প্রাইম টাইম থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরেও স্লট লিড করা। এদিন সংবাদমাধ্যমের নেওয়া স্বস্তিকার একটি সাক্ষাৎকারে চমকে দেওয়া কিছু তথ্য জানালেন অভিনেত্রী।

সম্প্রতি সেরা শাশুড়ির অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন এই অভিনেত্রী। এই নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করায় তিনি বললেন “এই ধারাবাহিকটি যে প্রধান বিষয়গুলিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তার মধ্যে সবথেকে বড় ইউএসপি হল সবথেকে কনিষ্ঠ শাশুড়ি। আর সেই প্রিয় শাশুড়ির অ্যাওয়ার্ড তাই আমি পেয়েছি। যেটা ইউএসপি সেটার মর্যাদা রাখতে পেরেছি। এর থেকে বড় আনন্দের আর কি হতে পারে।”

এই ধারাবাহিকটি প্রথমে সম্প্রচারিত হতো রাত সাড়ে নটায় কিন্তু বর্তমানে ধারাবাহিকের সময় পরিবর্তন করে করা হয় দুপুর। প্রাইম টাইম থেকে ছিটকে যায় তোমার খোলা হাওয়া। আর ঠিক তখনই জল্পনা রটেছিল স্বস্তিকা ছেড়ে দিচ্ছেন এই ধারাবাহিক। এই বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করায় তিনি জানান, “এর আগেও আমি বলেছি আর এখনো বলছি টিআরপি পি এস পি এই সমস্ত কিছু দেখার দায়িত্ব এই ধারাবাহিক নির্মাতাদের অর্থাৎ এসব দেখার জন্য প্রিপ্রডাকশন পোস্ট প্রডাকশন সবাই রয়েছে, আমি খুবই ছোট আর জি বাংলার সাথে এটাই আমার দ্বিতীয় কাজ এই বিষয়ে কিছু বলার মত যোগ্যতা আমার নেই। আমি কখনোই ধারাবাহিক ছেড়ে দেবো বলিনি। অভিনয়টা আমার হাতের মুঠোয় আর অভিনয় ছাড়া আমি আর কিছুই পারি না তাই এত কিছু আমি কখনোই ভাবি না। কল টাইমে আসি মেকাপ করি পারফরম করি। এটুকুই আমার কাজ। আর তিনটের স্লটে এসেও স্লট লিড করছে এই ধারাবাহিক। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে চ্যানেল নির্মাতারা নিশ্চয়ই কিছু না ভেবেই সিদ্ধান্ত নেননি।”

সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় কথায় কথায় অভিনেত্রী জানান “স্বস্তিকা নামটা থাকলেই তার পিছনে যেন কোন একটা ভাবে কন্ট্রভারসি জুড়ে যায়”। এই কন্ট্রুভার্সিটিটা কে কিভাবে নেন স্বস্তিকা এই প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী জানালেন, “এটাকে নিয়ে ভাবার তো কিছু নেই আমি ভাবি না যত বেশি ভাববো যত বেশি মাথা ঘামাবো তত মাথা খারাপ হয়ে যাবে কণ্ঠভার্সারিতে চলতেই থাকবে আমার কাছে সবথেকে ইম্পরট্যান্ট হচ্ছে আমার অভিনয়টা আর এটা যতদিন আমার সাথে থাকবে।” কথা প্রসঙ্গেই তাকে প্রশ্ন করা হয় যে আপনি তো পাবলিক ফিগার অর্থাৎ পাবলিক ফিগার যেটা জানাতে চায় না সেটাও অনেক সময় মানুষ জেনে যায়। তো সেক্ষেত্রে কোন সমস্যা হয় না? আপনি এটা কি পজিটিভ ভাবে নানা নেগেটিভ ভাবে? উত্তরে তিনি বললেন “আমি সব সময় পজিটিভ দিকটাই দেখি। আমি সব সময় বিশ্বাস করি আর আমি জানি জগন্নাথ আছেন। তিনি যা করেন ভালোর জন্যই করেন তার ঊর্ধ্বে গিয়ে তো কিছুই হয় না তাই আমি শুধুমাত্র পজেটিভ টাকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলি বাকিটা দেখা তার দায়িত্ব।”

মেকআপ রুমে তো তাহলে বেশ মজা হয় অভিনেত্রী জানান তাদের মেকআপ রুম সমস্ত ধারাবাহিকের থেকে শ্রেষ্ঠ মেকআপ করুন। তিনি আরো বলেন “যখন আমরা ক্যারেক্টারে থাকি তখন এক্কেবারে নিজেদের মতো গম্ভীর এবং সিরিয়াস কিন্তু একবার ক্যারেক্টার থেকে বেরোনোর পর মেকআপ রুমে আমাদের থেকে ফাজিল আর কেউ নেই আমরা প্রচুর মজা করি। হই হই করে সারাদিন কেটে যায়।”

নববর্ষের জন্য কি কোন নতুন চমক আছে জানতে চাও ভাই অভিনেত্রী বলেন “অনেক বড় চমক আছে, আমাদের গোটা পরিবার আর আমি মিলে আবিরকে অনেক বড় চমক দিতে চলেছি নববর্ষে তবে এখনই সবটা বলবো না একটু ওয়েট করতে হবে আর চোখ রাখতে হবে তোমার খোলা হওয়া ধারাবাহিকে”। তবে নববর্ষের অভিনেত্রীয় চুটিয়ে মজা করতে চলেছেন তার পরিবারের সাথে। কথাসুত্রে তিনি বলেন নববর্ষে তিনি এবং তার মা-বাবা যাচ্ছেন শান্তিনিকেতন। সবমিলিয়ে বেশ ভালোই কাটছে অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন এবং অভিনয় জীবন।