টলি পাড়ায় অনুষ্ঠিত হল বহু প্রতীক্ষিত টেলি অ্যাকাদেমি অ্যাওয়ার্ড ২০২৫। আলোকোজ্জ্বল মঞ্চ, ক্যামেরার ঝলকানি আর পরিচিত মুখ—সব মিলিয়ে এই রাতে ছিল তারকাদের উৎসব। মঞ্চে হাজির থাকলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন জুন মালিয়া এবং অম্বরীশ ভট্টাচার্য—স্বভাবতই অনুষ্ঠান জুড়ে ছিল হালকা মজা, খুনসুটি আর ঝলমলে উপস্থাপনা।
মঞ্চে উঠে মুখ্যমন্ত্রী টলিউড এবং বাংলা টেলিভিশন জগতের উন্নতি নিয়ে খোলাখুলি প্রশংসা করেন। তিনি হাসতে হাসতে বললেন, “টেলিভিশন না থাকলে অনেকেরই দিন কাটে না! আমি সময় পেলেই দেখি। পরের সিনটা কী হবে তাও আন্দাজ করে ফেলতে পারি।” ভাষায় আতিশয্য মুগ্ধতা প্রকাশ করে তিনি আরও যোগ করেন, “টেলিভিশন হচ্ছে চোখের আলো, সমাজের প্রতিবিম্ব আর নতুন শিল্পীদের সংগ্রামের পথচিহ্ন।” সেই সঙ্গে শিল্পীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।
প্রতি বছরের মতো এ বারও পুরস্কারের ঝুড়ি ছিল ভরপুর। সবাইকে সম্মান জানানো এই অনুষ্ঠান যেন হয়ে উঠেছিল পারিবারিক মিলনমেলা। কেউ যদি কোনভাবে বঞ্চিত হন—সেটাও নিজের বিশেষ ভঙ্গিতে সামলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথা, “অনেকে পুরস্কার পেয়েছেন। কেউ বাদ পড়ে গেলে বলবেন, আবার পুষিয়ে দেব।”
রাতের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিজয়ীর তালিকা। সেরা অন-স্ক্রিন জুটির খেতাব জিতেছেন তটিনী–পরশুরাম, নতুনদা–কমলিনী, ঝাঁপি–সৌরভসহ আরও বহু জনপ্রিয় জুটি। অনুষ্ঠানের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট তুলে দেওয়া হয় লীনা গঙ্গোপাধ্যায়কে। অভিনেত্রী দিতিপ্রিয়া রায় পেলেন ‘প্রিয় মেয়ে’ পুরস্কার।
আরও পড়ুনঃ মুনমুন সেনের সাহসী লুক: সুচিত্রা কি মেনে নিতেন? জানালেন অভিনেত্রী নিজেই
রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এবং অরূপ বিশ্বাস থেকে শুরু করে কোয়েল মল্লিক, নিসপাল সিং রানে সহ ইন্ডাস্ট্রির বহু মুখ ছিলেন এই অনুষ্ঠানে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ছিল উচ্ছ্বাস, ছবি তোলা আর শুভেচ্ছা বিনিময়। টেলিভিশনের প্রায় প্রত্যেক সদস্যই সেদিন বাড়ি ফিরেছেন প্রশংসা, পুরস্কার আর মন ভরানো স্মৃতি নিয়ে।





