জীবনের কঠিন পথ পেরিয়ে পর্দার খলনায়িকা! অদম্য ইচ্ছে শক্তিতে ভরপুর নবনীতা মালাকারের জীবন!

উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ির এক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা মেয়ে নবনীতা মালাকার আজ ছোটপর্দার পরিচিত মুখ। বর্তমানে দর্শক তাঁকে দেখছেন চিরদিনই তুমি যে আমার ধারাবাহিকে রোহিণী চরিত্রে। সুন্দরী খলনায়িকা হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা এতটাই যে দর্শক রাগ করতে গিয়েও পারেন না। অথচ এই জায়গায় পৌঁছতে তাঁকে পার করতে হয়েছে কঠিন পথ, ব্যক্তিগত লড়াই আর আত্মবিশ্বাসের দীর্ঘ যাত্রা।

অভিনয় জগতে পা রেখেছিলেন নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। শুরুতে একাধিক ইতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করলেও সময়ের সঙ্গে দর্শক তাঁকে খলনায়িকা হিসেবেই বেশি গ্রহণ করেছেন। এই ছেলেটা ভেল ভেলেটা ধারাবাহিকে চরিত্র বদলের অভিজ্ঞতা তাঁকে নতুন ভাবে ভাবতে শেখায়। ইতিবাচক অভিনয়ের আবেগ দিয়েই নেতিবাচক চরিত্রকে আলাদা রূপ দেন তিনি। আগে মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্য ও সাগর জ্যোতি তেও ইতিবাচক চরিত্রে প্রশংসা পেয়েছিলেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি জীবনের বাস্তব লড়াইও ছিল ভয়ংকর কঠিন। সংসারের দায়িত্ব, মায়ের অসুস্থতা, পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চাপ সবই একসঙ্গে সামলাতে হয়েছে তাঁকে। কখনও হাল ছেড়ে জলপাইগুড়িতে ফিরে যাননি। বরং নিজেকে বুঝিয়েছেন, পর্দার নায়িকা না হতে পারলেও বাস্তব জীবনের নায়িকা হয়ে উঠতেই হবে। এই জেদই তাঁকে এগিয়ে নিয়ে গেছে সাফল্যের দিকে।

অভিনয়জীবনে নানা অভিজ্ঞতা তাঁর মানসিকতাকে বদলে দিয়েছে। ইন্ডাস্ট্রির কঠোর বাস্তব, সমালোচনা আর ব্যক্তিগত কষ্ট তাঁকে আরও শক্ত করেছে। নিম ফুলের মধু তে কাজের পর তিনি বড়পর্দাতেও সুযোগ পান। নারী চরিত্র বেজায় জটিল ছবিতে অভিনয় করেছেন অঙ্কুশ হাজরা ও ঐন্দ্রিলা সেন এর সঙ্গে। আদালতের দৃশ্যে তাঁর অভিনয় বিশেষ প্রশংসা কুড়িয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবনে এখনও অনেকটা একাই পথ চলছেন নবনীতা। নিজের ফ্ল্যাটে একা থাকেন, নিজেই সংসার সামলান, ঈশ্বরের উপর আস্থা রাখেন। জীবনের নানা আঘাত তাঁকে শিখিয়েছে, নিজের শক্তিই সবচেয়ে বড় ভরসা। দীর্ঘ সংগ্রামের আগুনে পুড়ে আজ তিনি দৃঢ়, আত্মবিশ্বাসী এবং সফল। খলনায়িকা হয়েও দর্শকের ভালোবাসা পাওয়াই যেন তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।