পরশুরামে ফিরছে লাট্টু! ভুল বোঝাবুঝির অবসানেই কি স্বস্তি পেল খুদে অভিনেতা অভিনব বিশ্বাস?

টিআরপি তালিকায় শুরু থেকেই দাপট দেখিয়ে চলেছে পরশুরাম আজকের নায়ক। জি বাংলার এই ধারাবাহিক নিয়মিত টক্কর দিচ্ছে পরিণীতার সঙ্গে এবং বেশিরভাগ সপ্তাহেই এগিয়ে থাকছে। তৃণা সাহা ও ইন্দ্রজিৎ লাহিড়ির পাশাপাশি দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিল দুই খুদে চরিত্র লাট্টু ও পিকু। বিশেষ করে লাট্টুর সরলতা আর অভিনব বিশ্বাসের স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় দর্শকের মন জয় করেছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই ধারাবাহিক থেকে উধাও হয়ে যায় লাট্টু চরিত্রটি, যা নিয়ে শুরু হয় নানা প্রশ্ন ও জল্পনা।

এই জল্পনার মাঝেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিস্ফোরক পোস্ট করে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল অভিনব বিশ্বাসের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট। সেই পোস্টে দাবি করা হয়, শুটিং ফ্লোরে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছিল খুদে অভিনেতাকে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেই কারণেই পরশুরাম ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পোস্টে উল্লেখ ছিল, ক্রমাগত অপব্যবহার ও কটাক্ষে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল অভিনব। এরপর থেকেই ধারাবাহিক থেকে লাট্টুর অনুপস্থিতি চোখে পড়ে এবং দর্শকরা চরিত্রটিকে ভীষণভাবে মিস করতে শুরু করেন।

তবে এবার এল নতুন মোড়। শোনা যাচ্ছে, নতুন কোনো শিশুশিল্পী নয়, বরং স্বয়ং অভিনব বিশ্বাসই আবার লাট্টু চরিত্রে ফিরতে চলেছে। প্রযোজনা সংস্থার মধ্যস্থতায় নাকি সমস্ত ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে। যে ভিডিয়ো ও পোস্ট ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেগুলিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। এই খবরে স্বস্তি পেয়েছেন ধারাবাহিকের অনুরাগীরা। যদিও প্রযোজনা সংস্থার তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনও সামনে আসেনি, তবু ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল একটি শুটিং ফ্লোরের ভিডিয়ো থেকে। সেই দৃশ্যে দেখা যায়, একটি সিনের ব্লকিং বোঝানোর সময় নায়িকা তৃণা সাহা মজা করতে শুরু করেন লাট্টু চরিত্রকে নিয়ে। পরিচালকের সঙ্গে টেকনিক্যাল আলোচনা চলাকালীন কিছু মন্তব্যকে কটাক্ষ হিসেবে দেখা হয় অভিনবের পরিবারের তরফে। তাঁদের দাবি ছিল, এই ধরনের ব্যবহার নতুন নয়, বরং বহুদিন ধরেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছিল খুদে অভিনেতাকে। সেই দিন প্রেস উপস্থিত থাকায় পুরো বিষয়টি ক্যামেরাবন্দি হয়ে যায় এবং তা থেকেই বিতর্ক তীব্র আকার নেয়।

এই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন উঠেছিল, শিশু শিল্পীদের মানসিক সুরক্ষা নিয়ে। কাজের জায়গায় তাঁদের অনুভূতি ও অসুবিধাকে কেন গুরুত্ব দেওয়া হবে না, সেই প্রশ্নে সরব হন অনেকেই। যদিও তখন প্রযোজনা সংস্থার তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এখন অভিনবের ফেরার খবরে অনেকেই আশা করছেন, ভবিষ্যতে শুটিং ফ্লোরে আরও সংবেদনশীল পরিবেশ তৈরি হবে। লাট্টুর প্রত্যাবর্তন যে পরশুরামের গল্পে নতুন প্রাণ ফেরাবে, তা নিয়ে আশাবাদী দর্শক মহল।