“আত্মহত্যা করব!”—কোর্টে দাঁড়িয়ে বুবলাইয়ের নাটক, ধাক্কা খেয়েও ভাঙলেন না কমলিনী! বেইমানদের মুখে তীব্র চপেটাঘাত দিয়ে এগোচ্ছে সে!

স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক চিরসখা এখন জমে ক্ষীর! একের পর এক টান টান উত্তেজনায় ভরপুর এপিসোডে দর্শকদের চোখ সরানোই মুশকিল। শুরু থেকেই একটু অন্যরকম ছাঁচে গড়া এই ধারাবাহিক যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে দর্শকদের উত্তেজনা। আর এখন তো গল্প ঢুকেছে একেবারে ক্লাইম্যাক্সের দিকে—যেখানে নায়িকা কমলিনী একাই লড়ছে সমস্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে।

গত পর্বে কোর্টরুম ড্রামা ছিল একেবারে সিনেম্যাটিক! বুবলাই যখন নিজের বক্তব্য শেষ করে, তখন কমলিনীর উকিল শুরু করেন জেরা। আর সেখানেই একে একে খুলতে থাকে বুবলাইয়ের মনের আসল দরজা। জানতে পারা যায়, বিয়ের পর থেকেই পাল্টে যায় সে। শ্বশুরবাড়ি আর স্ত্রীর কথায় নিজের চরিত্রই বদলে ফেলে। এমনকি বিয়ের আগে পুরী বেড়াতে যাওয়া, দামি দেড় লক্ষ টাকার ঘড়ি উপহার পাওয়া—সবই উঠে আসে আদালতে।

কিন্তু এখন কোর্টে দাঁড়িয়ে বুবলাই পুরোটাই সাজানো গল্প বলে যাচ্ছে। আর সেটাই ফাঁস করতে উঠে পড়ে লাগে কমলিনীর উকিল। এক পর্যায়ে বুবলাই নাটকীয়ভাবে আত্মহত্যার হুমকি দেয়, যেন সহানুভূতি আদায় করতে পারে। তখনই কমলিনী স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—তার ছেলে যদি সত্যিই এই পথ বেছে নেয়, তাহলে তার কাছেও আর কোনো আশার আলো থাকবে না!

এই সময়টা একেবারে কঠিন, তবে পাশে থাকা মানুষজন কমলিনীকে ভেঙে পড়তে দিচ্ছে না। কারণ শত্রুপক্ষ চায়, সে মাটিতে গড়িয়ে পড়ুক—কিন্তু কমলিনী তো ভাঙার মেয়ে নয়!

এরপর আসে মোক্ষম টুইস্ট। রুদ্রর অফিস বসকে আদালতে ডেকে আনা হয় সাক্ষী হিসেবে। রুদ্র যেভাবে নতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল—যে ওর চাকরি গিয়েছে নতুনের জন্য, তা পুরোপুরি মিথ্যে প্রমাণিত হয়। বস সোজাসাপটা জানিয়ে দেয়, এই সিদ্ধান্ত কোম্পানির পলিসির জন্যই নেওয়া হয়েছিল, নতুনের কোনো ভূমিকা ছিল না। এতে বোঝা যায়, রুদ্র নিজেই আদালতকে ভুল পথে চালনা করছে।

দিন শেষ হলেও যুদ্ধ কিন্তু থামেনি।

পরদিন আবার ঝড় ওঠে কমলিনীর বাড়িতে—এইবার অনন্যার দাপট! নিজের ছেলের বিয়ে ঠিক হয়েছে, তাই সে চাইছে নতুন কিছুদিনের জন্য যেন কমলিনীর বাড়ি থেকে মুক্তি পায়। কিন্তু সেটাও বলার ধরণ এমন, যেন কমলিনী কোনো দোষে দোষী! চরিত্র নিয়েও টানাটানি চলে। এতদিন সব কিছু মুখ বুজে সহ্য করলেও, এবার কমলিনী আর চুপ করে না থেকে নতুনকে ফোন করে—সে যেন তৎক্ষণাৎ বাড়িতে আসে।

এখানেই জমে উঠেছে গল্প! নতুন কি পারবে কমলিনীকে অপমানের হাত থেকে বাঁচাতে? না কি এবার আরও বড় কোনও বিস্ফোরণ অপেক্ষা করছে? সবচেয়ে বড় কথা, কমলিনী কিন্তু থামছে না। সব অপমান, চক্রান্ত আর ষড়যন্ত্রকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সে এগিয়ে চলেছে নিজের ন্যায়ের পথে। যুদ্ধটা এখন শুধুই জয়ের অপেক্ষা!