বাংলা ধারাবাহিকের দুনিয়ায় এখনকার পরিচিত মুখ ঋতু রায় আচার্য, যাঁকে এখন আমরা ‘জগদ্ধাত্রী’ ধারাবাহিকে মেহেন্দি চরিত্রে দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু এই জার্নিটা মোটেই সহজ ছিল না তাঁর জন্য। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের অনেক না-বলা কথা ভাগ করে নিলেন ঋতু। অকপটে বললেন, কিভাবে মেদিনীপুর থেকে কলকাতায় এসে লড়াই করে জায়গা করে নিতে হয়েছে তাঁকে।
“আমি যখন মেদিনীপুর থেকে কলকাতায় এসেছি, তখন চুড়িদার পড়তাম, দেখতে একেবারে গ্রামের মেয়ের মতো। তাই অনেকেই হেনস্তা করত, অনেক কথাও শুনতে হয়েছে,” বলছিলেন ঋতু। তবে অভিনয় নিয়ে তাঁর প্যাশনটা ছোটবেলা থেকেই ছিল। “আমি ভরতনাট্যম শিখেছি, ছোট থেকেই ইচ্ছে ছিল অভিনেত্রী হব। আমার মা-বাবাও চাইতেন আমি কিছু একটা করি,” বললেন তিনি। মডেলিং দিয়ে শুরু, তারপর ‘আমি সেই মেয়ে’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে টিভিতে আত্মপ্রকাশ — আর সেখান থেকেই ধীরে ধীরে শুরু হয় তার অভিনয়জীবনের পথচলা।
ঋতু জানালেন, তাঁর অভিনয়জীবনের প্রথম সুযোগটা আসে সানন্দা টিভির মাধ্যমে। “আমি উনিশ কুড়িতে মডেলিং করতাম, সেখান থেকেই একদিন ডাক আসে। সন্দীপ চৌধুরী দাদার হাত ধরেই আমি টিভিতে পা রাখি। সেই সময় ১৩০ জন মেয়ের মধ্যে আমাকে বেছে নেওয়া হয়, এটা সত্যিই আমার জন্য সৌভাগ্যের।”
তবে খ্যাতির পথ একেবারে মসৃণ ছিল না। “মা সবসময় আমার সঙ্গে থাকতেন, স্ট্রেশনে অনেকবার রাত কেটেছে। আত্মীয়রা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। অনেক সময় দু’দিন রেখে তারপর দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। আর আজ যখন আমি হিরোইন, তখন তাঁরাই আগে ফোন করে,” একটু হেসেই বললেন তিনি। তাঁর কথায়, “জীবনে এসবও শেখা দরকার।”
‘মেহেন্দি’ চরিত্রে অভিনয় নিয়ে ঋতু বললেন, “এটা আমার প্রথম নেগেটিভ রোল। আগে সবসময় হিরোইনের বোন বা পজিটিভ রোল করেছি। শুরুতে ভীষণ খারাপ লাগত মানুষের রিঅ্যাকশন দেখে, কিন্তু এখন সবাই প্রশংসা করছে, তাই নিজেও নতুন করে করতে ভালো লাগছে।” এই চরিত্রে অভিনয় করেই তিনি জিতেছেন ‘সোনার সংসার’ এর সেরা খলনায়িকার পুরস্কার।
অভিনয়জগৎ নিয়ে বলতে গিয়ে বলেন, “এই ইন্ডাস্ট্রি আমায় অনেক কিছু দিয়েছে। আমি কৃতজ্ঞ স্নেহাশিস স্যারের কাছে। যাঁরা আমার সঙ্গে কাজ করেছেন তাঁরা সবাই অনেক ভালোবাসা দিয়েছেন। এমনকী আমি দুধ খেতে ভালোবাসতাম বলে প্রোডাকশন হাউস সেটাও ম্যানেজ করত!”
অভিভাবকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “সকল মা-বাবাকে বলব, আপনারা যদি সন্তানের পাশে থাকেন, তাহলে ওদের জীবন অনেক সহজ হয়ে যায়।” আর জগদ্ধাত্রী ধারাবাহিকের দর্শকদের জন্য ছোট্ট এক চমকও রেখে দিলেন ঋতু — “দোলের সময় একটা বড় চমক আসছে, জগদ্ধাত্রী মিস করবেন না!”
আরও পড়ুনঃ সারা জীবন খালি দুঃখ দুর্দশা আর দারিদ্র্য! প্রতিভাবান অভিনেতা হয়েও মেলেনি সম্মান! আপনার চোখেও জল আনবে কালি বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন কাহিনী!
শেষে এক প্রশ্নে উত্তর দিলেন, আবার লিড চরিত্রে ফিরবেন কি? হাসতে হাসতে বললেন, “না না, লিডে অনেক চাপ! এখন আর মন চায় না। এখন নিজের মতো কাজ করে যেতে চাই।” এটাই তো জীবন — চুড়িদারের অপমান থেকে আজকের জনপ্রিয়তার শিখরে, ঋতুর যাত্রাটা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।





