বাংলা ধারাবাহিক জগতে শুরু হওয়া নতুন কিছু ধারাবাহিকের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় একটি ধারাবাহিক হলো স্টার জলসার ( Star Jalsha) ‘শুভ বিবাহ’ (Shubho Bibaho) ধারাবাহিকটি। শুরুর সময় থেকে দর্শকের মন জয় করে নিয়েছে এই ধারাবাহিক। ধারাবাহিকের দুই কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছে অভিনেত্রী সোনামনি সাহা (Sonamoni Saha) এবং অভিনেতা হানি বাফনা (Honey Bafna)। খুব বেশিদিন হয়নি ধারাবাহিকটি শুরু হয়েছে, এরই মধ্যে টিআরপিতে কামাল করে চলেছে প্রতি সপ্তাহতে।
ধারাবাহিকের গল্প এগোচ্ছে সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরের ডিভোর্সি মেয়ে সুধা এবং বড়লোক ব্যবসায়ী তেজের প্রেমের গল্প নিয়ে। কিভাবে সমাজের একটা পুরনো খারাপ ধারণা সাধারণ মানুষ পুষে রেখেছে এবং কিভাবে সেই ধারণা সকলের মন থেকে ঘোচানো যায় সেটাই এই ধারাবাহিকের মূল লক্ষ্য। ধারাবাহিকের শুরুতে অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে সুধা এবং তেজের চার হাত এক হয়েছে। সুধার অতীত জানার পরে তেজ সুধাকে ভুল বুঝতে শুরু করে। কিন্তু ধীরে ধীরে সুধার অতীতের সমস্ত ঘটনা যখন তেজের সামনে আসে এবং সুধার সততার প্রমাণ পেয়ে সুধার প্রতি হওয়া তেজের সমস্ত ভুল ধারণা কেটে যায় এবং আবারো সুধার কাছাকাছি আসতে থাকে তেজ। সমস্ত ভুল ধারণা কাটিয়ে যখন তেজ এবং সুধা কাছাকাছি আসতে থাকে ঠিক তখনই নতুন এক বিপদ এসে সামনে দাঁড়ায়।

ধারাবাহিকের আজকের পর্বে দর্শকদের জন্য রয়েছে বড় চমক। গতকালের পর্বে আপনারা সকলেই দেখেছেন কিভাবে সুধাকে বসু মল্লিক পরিবারের সকলের থেকে আলাদা করে দিয়েছে ঠাম্মি। সুধাকে ছাদের চিলেকোঠার ঘরে থাকতে হচ্ছে কষ্ট করে। অন্যদিকে সুধার জন্য চিন্তায় অস্থির হয়ে উঠেছে তেজ। তাই তার জন্য সবার চোখের আড়াল করে খাবার নিয়ে উপস্থিত হয়ে যায় ওই ঘরে।
শুভ বিবাহ আজকের পর্ব ১২ সেপ্টেম্বর (Shubho Bibaho Today Episode 12 September)
অন্যদিকে তেজের কাকিমা রান্না ঘরে সবার থেকে লুকিয়ে সুধার জন্য খাবার নিতে যায়। ঠিক তখনই রান্নাঘরে উপস্থিত হয় তেজের মা। তিনি এসে মেজ কাকিমাকে বলেন সুধার জন্য এই শাস্তি উপযুক্ত। মেজ কাকিমা কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ খাবার নিয়ে বেরিয়ে যায়। এরপরে সুধার শাশুড়িও যত্ন করে খাবার নিয়ে যায় সুধার জন্য। আসলে সুধার ব্যবহার, আচার আচরণে সকলেই সুধাকে ভালবাসতে শুরু করেছে। এমনকি বসুমল্লিক পরিবারের কাজের লোকও সুধার কথা ভেবে সুধা না খেয়ে আছে চিন্তা করে তার জন্য খাবার নিয়ে যায়।
অন্যদিকে চিলেকোঠার ঘরে সুধাকে খাওয়ানোর জন্য উপস্থিত হয়ে তেজ। সুধা তেজকে বারবার বোঝাতে তাকে যেন এখান থেকে চলে যায় কারণ যে কোন মুহূর্তে ঠাম্মী এসে পড়তে পারে। কিন্তু তেজ কোন কথাই শোনে না। অন্যদিকে কারোর একটা পায়ের আওয়াজ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে লুকিয়ে পড়ে তেজ। দরজা খুলে সুধার ঘরে ঢুকে আসে ঠাম্মী। আর এসেই সুধাকে প্রশ্ন করে এই ঘরে তেজ এসেছিল কিনা। তখন সুধা উত্তরে বলে এই ঘরে কেউ আসেনি, আসলে তো আপনি দেখতেই পেতেন। এদিকে যেমন সকলেই সুধার চিন্তায় ব্যস্ত এবং ঠাম্মা সুধাকে কড়া পাহারা দিতে ব্যস্ত অন্যদিকে ত্বরিতা চুরি করতে ব্যস্ত।
আরও পড়ুন: রুপাকে হারিয়ে নাজেহাল দীপা! মায়ের কষ্ট না বুঝে তাকে আরো দূরে ঠেলে দিল সোনা!
ত্বরিতা সুধার ছোট জা। সুধা এবং তেজের অনুপস্থিতে তাদের ঘরে ঢুকে সুধার আলমারি থেকে সমস্ত গয়নাগাটি চুরি করতে থাকে সে। আর ঠিক সেই সময় তাদের ঘরে উপস্থিত হয় ছোট্ট চিরকুট। চিরকুট তরিতাকে ঘরে এসব করতে দেখে আড়ালে লুকিয়ে পড়ে সমস্ত কিছু দেখতে থাকে এবং ঠিক করে নেয় তড়িতার মুখোশ সকলের সামনে খুলে দেবে সে। এরপরে গনেশ পুজোর দিন সকলে বসু মল্লিক পরিবারের সদস্যরা এক জায়গায় হয়। সুধা এবং তেজের অনুপস্থিতিতে তরিতা এবং তার স্বামীকে আরতির দায়িত্ব দেয় ঠামি। আরতি দায়িত্ব পেয়ে ত্বরিতা ভীষণই খুশি। সুধাকে সরিয়ে সে বড় বউয়ের জায়গা করে নেবে এটাই তার লক্ষ্য। কিন্তু ত্বরিতা করতে গিয়ে নিজের হাত পুড়িয়ে ফেলে সে। ফলে ঠাকুরের পূজায় বাঁধা পড়ে। তক্ষুণি সুধার ঘর থেকে উলু এবং শঙ্খধ্বনির আওয়াজ পেয়ে সকলে সেখানে গিয়ে উপস্থিত হয়ে দেখে সুধা নিজের ঘরে গণেশ পুজো করছে। এই দেখে তো সকলেই অবাক হয়ে যায়। এবারে দেখার অপেক্ষা সুধা কে আর কতদিন এই কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়। ঠাম্মির অহংকার এবং ভুল ধারণাকে কোনদিনও ভাঙবে? নাকি আলাদা হতে হবে তেজ সুধাকে।





