একঘর লোকের সামনে সৌমিত্রর পাঞ্জাবী এক টানে ছিঁড়েছিলেন সুচিত্রা! সুচিত্রার আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন সৌমিত্র?

একঘর বিদেশি অতিথির ভিড়ে, চোখেমুখে বিস্ময় নিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। পঞ্জাবির ছেঁড়া অংশটা হাত দিয়ে ঢাকার চেষ্টা করছিলেন, আর ততক্ষণে হো হো করে হেসে উঠেছেন সুচিত্রা সেন। ঘটনাটা ঠিক সিনেমার দৃশ্য নয়, বাস্তবেই ঘটেছিল। আর সেটাই হয়ে উঠেছিল বাংলা সিনেমার ইতিহাসে প্রথম পাবলিসিটি স্টান্ট!

১৯৩৫ সালের ১৯ জানুয়ারি জন্মেছিলেন অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। সত্যজিৎ রায়ের আবিষ্কার অপুর কথা আজ কে না জানে! শুধু দেশ নয়, বিদেশেও তাঁর অভিনয় নিয়ে চর্চা হয়েছে বারবার। এরকমই এক আন্তর্জাতিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি গিয়েছিলেন সুচিত্রা সেনের সঙ্গে, ‘সাত পাকে বাঁধা’ ছবির হাত ধরে।

তখনকার বাংলা ছবিতে উত্তমকুমার ছিলেন প্রথম পছন্দ, আর তাঁর সঙ্গে নায়িকা হিসেবে থাকতেন সুচিত্রা সেন। কিন্তু ‘সাত পাকে বাঁধা’ ছবিতে এক্সপেরিমেন্ট করলেন নির্মাতারা — উত্তম নয়, এই ছবির নায়ক সৌমিত্র! দর্শক কীভাবে গ্রহণ করবেন এই নতুন জুটিকে, তা নিয়ে আশঙ্কা ছিল অনেকের। এমনকি সুচিত্রারও!

সেই আশঙ্কাকেই কাজে লাগিয়ে সুচিত্রা প্ল্যান করলেন এক অসাধারণ মুহূর্ত। মস্কোর পার্টিতে হঠাৎ করেই তিনি হাসতে হাসতে সৌমিত্রর পঞ্জাবী ছিঁড়ে দিলেন! সবাই হতবাক, সৌমিত্র তো বাকরুদ্ধ! তখনই চারিদিকে আলোচনায় চলে এলেন তাঁরা — কে এই নতুন জুটি? কেন এমন করলেন সুচিত্রা? ব্যস, পুরো ঘটনাটাই সিনেমার বাইরে এক দুর্দান্ত প্রচারণা হয়ে উঠল।

এই কাণ্ডটাই সিনেমার বাইরে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির প্রথম বড় পাবলিসিটি স্টান্ট হিসেবে থেকে গেল ইতিহাসে। আজও সেই ঘটনা শোনে চমকে ওঠেন অনেকে, আবার মুগ্ধ হন সুচিত্রার স্মার্ট বুদ্ধিতে। আর ‘সাত পাকে বাঁধা’? সেটা হয়ে রইল এক স্মরণীয় ছবি, এক অন্যরকম সাহসী সিদ্ধান্তের নিদর্শন।