উত্তম কুমার আর সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মধ্যে কে সেরা—এই প্রশ্নে দর্শকরা চিরকাল দ্বিধাবিভক্ত। কিন্তু পর্দার বাইরে তাঁদের সম্পর্ক ছিল একেবারে দাদা-ভাইয়ের মতো। উত্তম কুমার সৌমিত্রকে ভালবেসে ডাকতেন ‘পুলু’। কখনও শুটিং ফ্লোরে, কখনও বা বাড়ির আড্ডায়, তাঁদের বন্ধুত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো। তাই মহানায়কের আকস্মিক মৃত্যুতে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলেন সৌমিত্র।
সালটা ১৯৮০, ২৪ জুলাই। সেই দিনটা ভুলতে পারেননি কেউ। খবর এল—উত্তম কুমার আর নেই! খবর পেয়েই বাড়ি থেকে এক দৌড়ে বেলভিউ নার্সিং হোমে পৌঁছে যান সৌমিত্র। ততক্ষণে হাসপাতালের বাইরে উপচে পড়েছে ভিড়—ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির প্রায় সব তারকা, আর হাজার হাজার অনুরাগী ভিড় জমিয়েছেন উত্তমকে শেষবার দেখার আশায়।
সেই ভিড় ঠেলে সৌমিত্র যখন ঢোকেন, তখন রুমে শায়িত উত্তম কুমারের নিথর দেহ। চোখের সামনে প্রিয় দাদাকে এভাবে দেখে নিজেকে আর সামলাতে পারেননি পুলু। হঠাৎই কান্নায় ভেঙে পড়েন। আর সেই মুহূর্তেই ঘটে যায় এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা—সবার সামনেই তিনি চিৎকার করে বলে ওঠেন, “এই মৃত্যুটা তো একেবারেই ক্যালকুলেটিভ সুইসাইড!”
সৌমিত্রর সেই বিস্ফোরক মন্তব্যে সবাই চমকে ওঠেন। তিনি তখন বলছিলেন, “যার হার্টের অবস্থা এমন খারাপ, তার কীভাবে রাত ২টো পর্যন্ত পার্টি করা উচিত? কীভাবে এত মদ্যপান করে সে?” উত্তমদার জীবনযাপন নিয়েই যেন প্রশ্ন তুলে দেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ কিশোরী সাবিত্রীকে দেখে থমকে গিয়েছিলেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়! বন্ধ ঘরে কাছে ডেকে…
জানা যায়, মৃত্যুর ঠিক আগের দিন—২৩ জুলাই—উত্তম কুমার গিয়েছিলেন প্রযোজক দেবল ঘোষের নতুন ফ্ল্যাটের গৃহপ্রবেশের পার্টিতে। সেখানেই তিনি রাত ২টো পর্যন্ত পার্টি করেন। পরদিন সকাল থেকে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করতে থাকেন, আর নিজেই ভর্তি হন বেলভিউ নার্সিং হোমে। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে… তাঁর জীবন থেমে যায় চিরতরে।





