অবিশ্বাস পতনের মূল। বারবার নিজের সব থেকে কাছের মানুষটাকে ভুল বুঝে অবিশ্বাস করে দূরে সরিয়ে দিয়েছে স্টার জলসার (Star jalsha) অনুরাগের ছোঁয়া (Anurager chowa) ধারাবাহিকের নায়ক সূর্য। শুধু মাত্র তার ভুল বোঝার জন্য দীপার জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্গতি। অনেক গুলো সোনালী বছর নষ্ট হয়ে গিয়েছে দীপার। তার পরেও নিজের ডাক্তার বাবুকেই ভালোবেসেছে দীপা। আর তার দাম দিতে পারেনি সূর্য।
বর্তমান গল্প অনুযায়ী, এতদিন ধরে সবাই সূর্যকে বলতে চেয়েছে রুপার অসুস্থতার কথা। কখনো দীপা বলতে চেয়েছে আবার কখনো অর্জুন। শেষ দিন তবলা পর্যন্ত চেয়েছিল বলতে কিন্তু সূর্য সেসব কিছুই কানে নেয়নি। এই দিন ইরা আর দীপার কথা শুনে কিছুটা বুঝতে পারে সূর্য। তারপর সবার মুখে চিন্তার ছাপ দেখে তার সন্দেহ আরো প্রগাঢ় হয়। ডাক্তাররাও তাকে কিছুই বলতে চায় না। খুব অসহায় হয়ে মন্দিরে চলে যায় সূর্য আর সেখানে গিয়ে ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করে সে।
ধারাবাহিকের আজকের পর্বে দেখা যায়, অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি করা হচ্ছে রুপাকে। সবাই একসাথে ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করছে। হাসপাতালে একত্রিত হয়েছে রুপার সমস্ত বন্ধুরা। স্কুলের শিক্ষিকারাও রুপার জন্য মঙ্গল কামনা করছে। মিডিয়া এবং ইন্টারনেট এর মাধ্যমে রুপার এই বড় অসুখের কথা এবং তার অপারেশনের কথা ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়। সবাই এই অপারেশন নিয়ে খুবই আতঙ্কিত। তারা প্রত্যেকে রুপার জন্য প্রার্থনা করছে। এরপর রুপাকে নিয়ে চলে যাওয়া হয়, অপারেশন থিয়েটারে। দীপা বলে অর্জুন যেন সেখানে থাকে। দীপার কথা ফেলতে না পেরে অর্জুনও অপারেশনে যোগ দেয়।
এদিকে, রুপা চোখের সামনে থেকে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে যেতেই কান্নাকাটি শুরু করে দীপা। সে বলে, “আমার মেয়েটা খুব পাকা কারণ ওকে ছোট থেকেই রোজগার করা শিখতে হয়েছে। আমার মেয়েটা খুব পাকা কারণ ওকে আমি সব সময় উচিত কথা বলতে শিখিয়েছি তাই ও ভয় না পেয়ে সব সময় ঠিকটাই বলে। ওকে আমি একটা শিশুর জন্য যে সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশের প্রয়োজন সেটা কখনোই দিতে পারিনি। আর যদি আমার মেয়েটা না থাকে তাহলে আমি হয়তো মরে যাব। বাবা থেকেও ওই মেয়েটা নিজের বাবাকে কখনো কাছে পায়নি। পাকা বলেই নিজের মায়ের কষ্ট দেখে চুপ করে থাকতে পারেনি রুপা। নিজের মায়ের বিয়ে অবধি দিতে চেয়েছে। ওকে ছাড়া আমি কি করে থাকবো।” এই বলে ভীষণ কান্নাকাটি করতে থাকে সে আর তাকে অভয় দিতে থাকে তার পাশে থাকা প্রবীর সহ বাকিরা।
আরও পড়ুন: বড় পর্দায় পা রাখলেন ‘অনুরাগের ছোঁয়া’-র মিশকা! রাজ চক্রবর্তীর নতুন ছবিতে মিঠুন চক্রবর্তীর সহঅভিনেত্রী অহনা!
এরপর শেষ হয় অপারেশন। বেরিয়ে আসে ডক্টর স্মিথ আর অর্জুন। কারোর মুখেই কোন কথা নেই। রত্না প্রবীর দীপা প্রত্যেকে অর্জুনকে জিজ্ঞাসা করে রুপা কেমন আছে? দীপা বলে, তার মেয়েটা তার কোলে ফিরবে তো? অনেকক্ষণ চুপ থাকার পর অর্জুন বলে ওঠে, তাদের সাধনা ফল পেয়েছে। এই অপারেশন সফল হয়েছে। এটা শুনে আনন্দে ভরে ওঠে দীপার মন। অর্জুনকে মন থেকে ধন্যবাদ জানায় সে। এদিকে সূর্য এমন একটা অবস্থাতেও এটাই ভেবে চলে যে কিভাবে দীপা অর্জুনকে বিয়ে করল।





