জি বাংলা (Zee Bangla) চ্যানেলে এর আগে বহু ধারাবাহিক সম্প্রচারিত হয়েছে তবে এমন বাস্তব কেন্দ্রিক ধারাবাহিক বোধহয় কখনোই সম্প্রচার হয়নি। সমাজের বুকে ঘটে থাকা প্রতিটি খুঁটিনাটি ঘটনা এবং মেয়েদের ওপর হয়ে থাকা নানা রকম অত্যাচারকে নাটকীয়তার মোড়কে সবার সামনে তুলে ধরছে কার কাছে কই মনের কথা (Kar kache koi moner kotha)। ধারাবাহিকটি মেয়েদেরকে শেখাচ্ছে কিভাবে নিজের ওপর হওয়া অত্যাচারের মোকাবিলা করতে হয়।
ধারাবাহিকের বর্তমান গল্প অনুযায়ী, পরাগকে বিষ খাওয়ানোর মিথ্যা অভিযোগে শিমুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আর সেই কেসটা ওঠে কোর্টে। পরাগ পলাশ আর প্রতীক্ষা ভেবেছিল এটা করে শিমুলকে ভালো শিক্ষা দেওয়া গেছে। শিমুলের মান সম্মান সমস্ত মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া গেছে। কিন্তু এইবার তাদের নিজের খোঁড়া গর্তে নিজেদের পড়তে হয়। কারণ সুনানি চলাকালীন এমন কিছু তথ্য উঠে আসে যা প্রত্যেকের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। গোটা কোর্টরুম সেই সবকিছু সাক্ষী হয়।
ধারাবাহিকের আজকের পর্বে দেখা যায়, শিমুল একে একে তার সাথে হওয়া সমস্ত অন্যায় অবিচার বিচারকের সামনে বিস্তারিতভাবে জানায়। সে বলে, “বিয়ের পর আমার ওপর আমার শাশুড়ি মা স্বামী এবং দেওর তিনজনেই অনেক অত্যাচার করেছে। আমাকে রাত্রিবেলা বাইরে বসিয়ে রেখেছে, খেতে অবধি দেয়নি। পরে অবশ্য আমার শাশুড়ি মায়ের সাথে আমার সম্পর্কটা ভাল হয়ে যায় কিন্তু স্বামী আর দেওর অত্যাচার করা থামায়নি। প্রত্যেকদিন ধ’র্ষ’ণে’র শিকার হতাম আমি। আমার চরিত্র নিয়ে খারাপ মন্তব্য করা হয়েছে। কিন্তু আমার ননদ আমায় ভীষণ ভালোবাসি আর তার জন্যই আমি ওই বাড়িতে পড়েছিলাম। আমি আমার স্বামীকে একটা অন্য মেয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবধি হতে দেখেছি।” শিমুলের কথাগুলোর তীব্র প্রতিবাদ জানায় অনির্বাণ।
অনির্বাণ শিমুলকে শতদ্রুর বিষয়ে এমন কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে যাতে করে তাকে অপ্রস্তুত পরিস্থিতিতে ফেলা যায়। কিন্তু শিমুল আর আরাধনা হার মানেনি। তারা খুব স্বাভাবিক ভাবে তাদের কথাগুলো তুলে ধরে। আরাধনা বলে, কেউ যদি মধ্যযুগীয় কুসংস্কার নিয়ে বেঁচে থাকে তাহলে সেটা তার সমস্যা। একজন বন্ধুর সাথে প্রেমটা শেষ হয়ে গেলেও বন্ধুত্বটা থেকেই যায়। আর সেই খাতিরে সে অনেক সাহায্য করতে পারে। এতে ভয় বা কুরুচিকর কিছু নেই। অনির্বাণের মন্তব্যের যোগ্য জবাব দেয় শিমুল। সে বলে, সবটাই মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি। কে কোন বিষয়টা কেমন ভাবে দেখবে সেটা নির্ভর করে তার দেখার উপর। সবটাই বুঝতে পারে মহামান্য বিচারক।
আরও পড়ুনঃ নতুন মেগায় সুযোগ পেতেই মাঝপথে ধারাবাহিক ছাড়লেন জল থই থই ভালোবাসার প্রধান নায়ক!
এদিকে পুতুল রানী খুব খুশি তার বিয়ের কথা শুনে। সে পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে তার বিয়ের খবর সেই সমস্ত মানুষগুলোকে জানাতে চাই যারা একদিন তাকে দেখে অপমান করেছিল এবং বলেছিল তার কপালে কোন সুস্থ বর জুটবে না। এছাড়াও সে এই কথাটা বিপাশাকে জানাতে চায় যাতে সে শিমুলকে তার বিয়ের খবরটা দিতে পারে। কথায় কথায় আবারো বিষ খাওয়ানোর কথা উঠলে পুতুল স্পষ্ট জানাই এই কাজ পলাশ আর প্রতীক্ষা করেছে। কিন্তু মধুবালা কিছুতেই মানতে পারেনা যে নিজের ভাই এমনটা করতে পারে।





