জি বাংলার (Zee Bangla) অন্যতম চর্চিত ধারাবাহিক ‘কনে দেখা আলো’ (Kone Dekha Alo) সমসাময়িক বাংলা টেলিভিশনের পর্দায় এক ভিন্ন স্বাদের গল্প তুলে ধরেছে। প্রখ্যাত লেখিকা লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের (Leena Ganguly) লেখনীতে এই মেগা সিরিয়ালটি বেশ কয়েকমাস ধরে চলছে টেলিভিশনের পর্দায়।
সুদেবের হাত ধরে কলকাতায় ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন নিয়ে আসা লাজুর জীবন কোনো সিনেমার চেয়ে কম রোমাঞ্চকর নয়। কলকাতায় এসে হস্টেল না পাওয়া এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে অনুভব যখন তাকে আবার নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে আনে, তখন থেকেই গল্পের মূল সংঘাত ও আবেগ দানা বাঁধতে শুরু করে। একদিকে লাজুর পড়াশোনার জেদ, অন্যদিকে অনুভবের পরিবারের অভ্যন্তরীণ জটিলতা—সব মিলিয়ে ধারাবাহিকটি দর্শক মহলে তুমুল চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমরাজ (অনুভব), নন্দিনী (লাজু), মৈনাক ও সায়নার অভিনয় এই পারিবারিক ড্রামাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে।
তবে এই ধারাবাহিক নিয়ে শুরু থেকেই দর্শকদের মধ্যে সমালোচনা হয়ে এসেছে। এতদিন যে লাজবন্তী বা লাজু কেবল পরিস্থিতির শিকার ছিল, সে এখন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্নে বিভোর। সুদেবের হাত ধরে কলকাতায় ডাক্তারি পড়তে আসা লাজু হস্টেল না পেয়ে যখন অনুভবের বাড়িতে আশ্রয় নেয়, তখন থেকেই গল্পের সংঘাত দানা বাঁধতে শুরু করে। লাজুর এই লড়াইয়ে অনুভবই তার প্রধান স্তম্ভ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে বর্তমানের সবচেয়ে বড় রহস্য এবং আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বনলতা চরিত্রটি। বনলতা, যিনি এই পরিবারের চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী এবং অত্যন্ত প্রভাবশালী, তাঁর চরিত্রের আড়ালে যে কোনো গোপন সত্যি লুকিয়ে আছে, তা অনুভবের একটি প্রশ্নই পরিষ্কার করে দিয়েছে। বনলতা এতদিন লাজুকে নিয়ে অনুভবের অতিরিক্ত চিন্তাভীতিকে প্রশ্রয় দেননি, বরং তাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘এই ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ কারোর বন্ধু হয় না!’ বাস্তববাদী চিন্তায় নিজের জায়গা পাকা করছেন গৃহপ্রবেশ ধারাবাহিকের লাবণী ঘোষ!
বনলতা চরিত্রে অভিনয় করছেন নন্দিনী দত্ত। যদিও একজন অভিনয়শিল্পীর সাফল্য নির্ভর করে তিনি চরিত্রটিকে কতটা বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারছেন তার ওপর, কিন্তু বনলতার ক্ষেত্রে দর্শকদের অভিজ্ঞতা কিছুটা ভিন্ন। দর্শকদের একটি বড় অংশের মতে, বনলতা হিসেবে নন্দিনী দত্তের অভিনয় বা চরিত্রের ম্যানারিজমগুলো ক্রমেই একঘেয়ে এবং ‘অসহ্য’ হয়ে উঠছে। চরিত্রের প্রতি ঘৃণা তৈরি হওয়া অনেক সময় ভালো অভিনয়ের লক্ষণ হলেও, এখানে বনলতার অযৌক্তিক আচরণ এবং নন্দিনীর উপস্থাপনা দর্শকদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটাচ্ছে।





